মোঃ জুয়েল রানা ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সমগ্র বাংলাদেশ দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি
মাগুরায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়মের মধ্যে একটি অনিবন্ধিত সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৫ এপ্রিল নির্ধারিত এই নির্বাচন ঘিরে স্থানীয়ভাবে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাগুরায় মোট ১২৯টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে মাত্র ১৫টির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্স–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইতোমধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, কয়েকটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের ঘাটতি রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সেবার অবকাঠামোও অপর্যাপ্ত। ফলে রোগীদের নিরাপদ সেবা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থার মধ্যেই ‘ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। তবে সংগঠনটির কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, পোস্টার-ব্যানার টানানো এবং সমর্থক জড়ো করাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, “অনিবন্ধিত কোনো সংগঠনের নির্বাচন আয়োজনের আইনি বৈধতা নেই। সম্ভাব্য উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, জেলার সব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স যাচাই করা হবে এবং অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতী শীল বলেন, স্বাস্থ্য খাত–সংক্রান্ত বিষয়গুলো সিভিল সার্জনের দপ্তরের আওতাধীন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত–সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি ক্লিনিকের বিস্তার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ, নিয়মিত মনিটরিং জোরদার এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে উত্তেজনা কমবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।