ছাদিকুর রহমান সাব্বির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. জুবায়ের আহমেদ ও মো. জুনায়েদ আহমেদ এই অভিযোগ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মামলা
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৮ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা-ভানুবিল সড়কের ব্রিজের ওপর প্রতিবেশী মো. আকাশ আহম্মদের (৪২) ওপর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা হামলা চালায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি ‘দুষ্ট চক্রের’ প্ররোচনায় এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনায় মো. জুবায়ের ও তার ভাই মো. জুনায়েদকে যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা (মামলা নং- ২১, তারিখ: ২৯/০৩/২০২৬ইং) দায়ের করা হয়।
প্রমাণ ও আইনি পরিস্থিতি
ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনে তাদের নিরপরাধ হওয়ার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানান:
ঘটনার সময় অবস্থান: হামলার সময় মো. জুবায়ের আহমেদ হার্টের সমস্যার কারণে সিলেটের আয়েশা মেডিকেয়ার এন্ড পলি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্যদিকে, তার ভাই মো. জুনায়েদ আহমেদ কাজের প্রয়োজনে কমলগঞ্জের শমসেরনগরে অবস্থান করছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: গত ২ এপ্রিল মৌলভীবাজার ৩নং আমল গ্রহণকারী আদালতে (কমলগঞ্জ) হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি অনুধাবন করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
পারিবারিক বিরোধ ও নতুন মামলা
জুবায়ের আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, আকাশ আহম্মদ তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের বিয়ের উকিল ছিলেন। সেই সুবাদে পারিবারিক কলহে উস্কানি দিয়ে গত ৩১ মার্চ তার স্ত্রীকে বাদী সাজিয়ে জুবায়েরের বিরুদ্ধে আরও একটি সিআর মামলা (নং- ১১২/২০২৬ইং) দায়ের করানো হয়েছে। আদালত আগামী ১৩ মে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। মূলত মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করা এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই একের পর এক ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
"আমরা এই মিথ্যা মামলার কারণে চরম মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
— ভুক্তভোগী পরিবার
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আকাশ আহম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ব্রিজে ওঠার সাথে সাথেই দা দিয়ে আমাকে কোপানো হয়। হামলাকারীরা আমাকে জবাই করতে চেয়েছিল। চিৎকার শুনে সিএনজি চালকসহ স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে। আমি ঘটনাস্থলে জুবায়েরকে চিনতে পেরেছি। বর্তমানে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।"
তদন্তের দাবি: সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হয়।