সরদার সাইদী হাসান বাবু, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি খুলনা বিভাগ।
বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছেন সন্দেহভাজন, মোবাইল ট্র্যাকিং চলছে।
খুলনা, ৩১ মে ২০২৬ খুলনায় সৎপুত্র দুই শিশু ও তাদের নানিকে হত্যার আলোচিত মামলার মূল হোতা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারে তীব্র অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও র্যাব। শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে দেখা যাচ্ছে, সে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রফিকুল হাওলাদার তাঁর সৎপুত্র শামীম (১৪) ও মুস্তাকিম (৪)-কে হত্যার পর তাদের নানি বেবি বেগমকেও খুন করেন। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় লাশে পচন ধরেছে। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত রফিকুল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে যখন লাশ উদ্ধার করা হয়, তখন রফিকুলের মোবাইল সিগন্যাল সোনাডাঙ্গা এলাকায় পাওয়া যায়। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই সে এলাকা ত্যাগ করে। বর্তমানে একাধিক টিম মাঠে নেমে তার অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
রফিকুল হাওলাদার খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার মহেশ্বরপাশার মানিকতলা মহল্লার আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। পেশায় ট্রাক ড্রাইভার রফিকুল ঘটনার পর থেকে নিজ এলাকায় দেখা যায়নি। মহেশ্বরপাশা এলাকার কয়েকজন ট্রাক ড্রাইভার জানান, রফিকুল প্রায়ই মাতাল অবস্থায় থাকতেন এবং তাঁর পারিবারিক জীবন সুখের ছিল না।
কেএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "রফিকুলকে গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আমরা তার গতিবিধি নজরদারি করছি। যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে।"
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।