মোঃ আইনুল ইসলাম,
বিভাগীয় সম্পাদক,
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।
অল্প টাকায় নিত্যপণ্য, স্বাবলম্বিতার স্বপ্নে এগিয়ে নারী সমাজ। সমাজসেবা, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে পরিচালিত “প্রতিদিন স্টোর” এর উদ্যোগে দিনাজপুর শহরের বড় বন্দর নতুন পাড়া ৬ নং ওয়ার্ডে এক ব্যতিক্রমধর্মী পণ্য সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ওয়ার্ডের ৬৫০ জন সদস্যের মধ্য থেকে ২০০ জন সদস্যকে বিশেষ পণ্য প্যাকেজ প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির জেলা পরিচালক মোছাঃ খালেদা আক্তার পারভীন জানান, দিনাজপুর জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন হাজার সদস্য এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এর আগে প্রায় এক মাস পূর্বে আরও ১,৫০০ সদস্যকে পণ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দিনাজপুর জেলার ১৩টি থানায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে গরিব, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সুবিধা ভোগ করতে পারেন। জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, “প্রতিদিন স্টোর” একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর জেলা অফিস দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘাসিপাড়ায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নম্বর- ৭৭৩৪৯৮৫২৫০৪১৩৮।
আজকের পণ্য প্যাকেজে ছিল—
এক কেজি হুইল পাউডার,
আধা কেজি ডিশ ওয়াশ,
আধা কেজি হারপিক,
একটি স্যাভলন সাবান,
একটি ভীম সাবান এবং
আধা কেজি সয়াবিন তেল।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয়টি পণ্যের এই প্যাকেজে তাদের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা এবং অতিরিক্ত ১০ টাকা প্যাকেজিং খরচসহ মোট ৩১০ টাকা।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিচালক মোছাঃ খালেদা আক্তার পারভীন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,“এই নারী উদ্যোক্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা বেকারত্ব কমাতে চাই। মানুষ যেন অল্প টাকায় ভালো মানের পণ্য পায় এবং আমরা যেন মানুষের সেবা করতে পারি—এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। মানুষের সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”
প্রধান অতিথি ও নারী উদ্যোক্তা মোছাঃ নীলফা বেগম বলেন,
“গরিব মানুষের সেবা করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। নারীরা যদি পুরুষের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারে, তাহলে পরিবার ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
প্রধান উদ্যোক্তা মোছাঃ রুবিয়া বেগম তার উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন,
“মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে আমার পথচলা শুরু। দুটি ব্রাইট শাড়ি এনে পাঁচটি ওড়না তৈরি করে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি করি। সেখান থেকেই নিজের ভেতরে একজন উদ্যোক্তার আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়।”
উপকারভোগী সদস্য মোছাঃ রাজিয়া আক্তার বলেন,
“আমরা এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। অল্প টাকায় ভালো পণ্য পাচ্ছি।”আরেক উপকারভোগী রোকসানারা বেগম বলেন,“এই কার্যক্রম চালু থাকলে সমাজের আরও অনেক গরিব ও অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড অফিসার মোছাঃ রাবেয়া আক্তার বর্ষা বলেন,
“শুরুর সময় আমাদের জন্য বিষয়টি অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। সদস্যদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা জামানত নিয়ে সদস্য করা হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নির্ধারিত সময়ে কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সদস্যদের সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন,“পরিচালক মহোদয় যদি আমাদের পাশে থাকেন, তাহলে আমরা ঘরে ঘরে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারবো এবং মানুষের সেবা আরও বিস্তৃত করতে পারবো।”
নারী উদ্যোক্তা মালিয়া আনজুম মুমু বলেন,“শুরুর সময় অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে তেমন সহযোগিতা পাইনি। তবে বাবা-মা, বোন ও স্বামীর উৎসাহ আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”তিনি আরও জানান, “বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৩” উপলক্ষে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” কার্যক্রমের আওতায় অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ক্রেস্ট অর্জন করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।