বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার প্রতি আহ্বান: ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগের জন্য প্রোজেক্টর উপহার দিলেন, সাবেক কাউন্সিলর শেখ জাহিদুল ইসলাম রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপজেলা সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গোপালগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড কৃতী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা পর্তুগালে বেনজিরের অবৈধ সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার কাজ করবে ; ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার মহাবিশ্বের গল্প শুনলেন শিক্ষার্থীরা গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমধর্মী বিজ্ঞান সংলাপ দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে ‘দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি’-র উপদেষ্টা হলেন শেখ জাহিদুল ইসলাম গোপালগঞ্জে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত তামাক ও নিকোটিন আসক্তি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের দপ্তরির লাঠি পেটালো এক ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে! গণমাধ্যমকর্মী’র সাথে খারাপ আচরণ শ্রেণিকক্ষে ছুরিকাঘাতে নবীনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গুরুতর আহত, আটক ৪ কেএমপির বিশেষ যৌথ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ২১ জন গ্রেফতার।

বীরগঞ্জে প্রস্তুতির মৃত্যু, উত্তাল বীরগঞ্জ: ভাঙচুর-অবরোধের পর ক্লিনিক সীলগালা

Reporter Name

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতেই বীরগঞ্জ-খানসামা সড়কের মোকছেদ প্লাজায় অবস্থিত “বীরগঞ্জ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ক্লিনিকটি সীলগালা করে দেয়।

নিহত সমেজা বেগম (২৬) কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে ডা. বকুল হোসেন তার সিজার অপারেশন করেন এবং অ্যানেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শরিফুল ইসলাম। অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই সমেজা বেগমের মৃত্যু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক বেলাল হোসেন দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে করে প্রসূতিকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক সেখান থেকে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, মৃত্যুর খবর বীরগঞ্জে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ক্লিনিকের ল্যাবরেটরিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, সাইনবোর্ড নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বীরগঞ্জ-দেবীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটি নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিল এবং এর আগেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপংকর বর্মন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) শাওন কুমার এবং বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনসাধারণকে শান্ত করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং জনস্বার্থে আপাতত ক্লিনিকটি সীলগালা করা হয়েছে।
তবে ঘটনার পর একটি রহস্যও তৈরি হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা কোনো লিখিত অভিযোগ না করেই মরদেহ নিয়ে কাহারোলে ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য, তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং আপাতত কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চান না।

রাত ১১টা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের একটাই দাবি—বারবার অভিযোগ ওঠা এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এভাবে প্রাণ না হারায়।