Blog

  • কাউখালীতে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    কাউখালীতে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    কাউখালী উপজেলা প্রতিনিধি: মো: হাবিবুর রহমান

     

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

     

    বুধবার (৩ জুন) রাতে উপজেলার ৫নং শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের শংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. জাকির হোসেন (৪৬), তিনি শংকরপুর গ্রামের মৃত বারেক তালুকদারের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাউখালী থানার একটি বিশেষ টিম মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, জাকির হোসেন তার বসতবাড়িতে মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। পরে থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা রাত ১০টা ৫ মিনিটে শংকরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

    পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে জাকির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাঁজার ওজন নির্ধারণ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। একই সঙ্গে নমুনা হিসেবে ৫ গ্রাম গাঁজা পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে নিজ এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। এ বিষয়ে স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগও রয়েছে।

    এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কাউখালী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে,মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • রাজশাহীতে ১ হাজার ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার ১

    রাজশাহীতে ১ হাজার ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার ১

    মো: গোলাম কিবরিয়া

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

     

     

    রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

     

     

    গত ৩ জুন ২০২৬ বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে গোদাগাড়ী থানার ডাইংপাড়া মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন বিসমিল্লাহ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

     

    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আমিনুল ইসলাম স্বপন (৪৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজার (খোহার মোড়) এলাকার মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে।

     

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মো. নাছিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ মহিষালবাড়ী বাজার মোড় ও আশপাশ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, ডাইংপাড়া মোড় এলাকায় এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

     

     

    সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি করে তার পরিহিত প্যান্টের বাম পকেটে থাকা একটি সাদা পলিথিনের ভেতর থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

     

    ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আমিনুল ইসলাম স্বপনের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এবং ঢাকার আদাবর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে ।

     

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।

  • মায়ের নিঃশব্দ কান্না: একটি মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির আত্মজিজ্ঞাসা

    মায়ের নিঃশব্দ কান্না: একটি মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির আত্মজিজ্ঞাসা

    বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন:

     

    সন্তান সফল হচ্ছে, কিন্তু মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে? ঢাকার মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী এক মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজ, পরিবার, শিক্ষা ও মূল্যবোধকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আইন, প্রশাসন ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো এখন নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কাউকে অভিযুক্ত করা নয়; বরং ঘটনাটির আলোকে সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো তুলে ধরা।

     

    মা—একটি শব্দ নয়, একটি জীবন্ত ইতিহাস।একজন মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা এবং প্রথম ভালোবাসা।

    একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, তখন সে কিছুই জানে না। তার ভাষা, হাঁটা, কথা বলা, অনুভূতি, মানবিকতা—সবকিছুর পেছনে থাকে একজন মায়ের নিরলস ত্যাগ। একজন মা নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। অসুস্থ সন্তানের পাশে রাত জেগে থাকেন, অথচ নিজের অসুস্থতার কথা অনেক সময় কাউকেই জানান না। তাই পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় মাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সফলতা কি শুধুই পদ-পদবি? আজকের সমাজে আমরা সন্তানকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক বা ব্যবসায়ী বানাতে আগ্রহী।

    কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়—

     

    “আমরা কি তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারছি?”

    যদি একজন ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত হন, বড় পদে থাকেন, সমাজে সম্মানিত হন, কিন্তু নিজের পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বশীল না হন, তাহলে সেই সাফল্য কতটুকু পূর্ণ? একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ডিগ্রি দিয়ে নয়, বরং দুর্বল ও নির্ভরশীল মানুষের প্রতি তার আচরণ দিয়ে বিচার করা হয়। কেন বাড়ছে পারিবারিক দূরত্ব?

    সমাজবিজ্ঞানীরা কয়েকটি কারণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন— অতিরিক্ত ব্যস্ত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাপন।

    পরিবারে নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি।

    প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ, কিন্তু হৃদয়ের যোগাযোগের অভাব।

    বৃদ্ধ পিতা-মাতার মানসিক চাহিদাকে গুরুত্ব না দেওয়া।

    সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কৃতজ্ঞতার চর্চা কমে যাওয়া।

    অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আবেগগত দূরত্ব তৈরি হয়। আর এই দূরত্বই একসময় সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়।

     

    শিশুকালেই শুরু হয় মানবিকতার শিক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো তার শৈশব। যেসব পরিবারে শিশুদের শেখানো হয়—

    বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে,

    অসুস্থ মানুষের খোঁজ নিতে,

    পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে,

    কৃতজ্ঞ হতে, দায়িত্ব ভাগ করে নিতে,

    সেসব পরিবারে মানবিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়।

    শিশুকে শুধু ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো যথেষ্ট নয়; তাকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

     

    মা ও সন্তানের সম্পর্ক: একটি হৃদয়ের বন্ধন। একজন মা সন্তানের ভুলে কষ্ট পান, কিন্তু ঘৃণা করেন না।

    সন্তান দূরে থাকলেও মা অপেক্ষা করেন।সন্তান ব্যস্ত থাকলেও মা তার জন্য দোয়া করেন। মায়ের ভালোবাসা এমন এক সম্পদ, যার কোনো বিকল্প নেই। যে ঘরে মা আছেন, সেই ঘরে এখনও জান্নাতের আলো জ্বলে। আর যে ঘরে মায়ের হাসি নিভে যায়, সেই ঘরের অনেক অর্জনও অর্থহীন হয়ে পড়ে।

    আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক জাগরণ পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে দেশে আইন রয়েছে।কিন্তু শুধু আইন দিয়ে মানবিকতা তৈরি করা যায় না।

    প্রয়োজন—পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব,সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, পারিবারিক সম্পর্ককে সময় দেওয়া।

     

    আইন ভয় তৈরি করতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক আদর্শ। সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা: মিরপুরের এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে— আমরা কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি, নাকি মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দিচ্ছি?একটি জাতির শক্তি শুধু তার অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা অবকাঠামোয় নয়; তার পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানবোধেও নিহিত থাকে।

    আজ যদি আমরা পরিবারে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধার চর্চা না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবার একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

     

    সম্পাদকীয় নোট: মিরপুরের আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি আইনগতভাবে তাদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রাখেন। তাই এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ঘটনাটির আলোকে সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, আত্মসমালোচনা ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা।

    কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু একটি পরিবারের নয়—প্রশ্নটি আমাদের সবার। আমরা কি আমাদের সন্তানদের বড় মানুষ বানাচ্ছি, নাকি মহান মানুষ বানাচ্ছি? আর হয়তো এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের পরিবার, সমাজ ও মানবতার ভবিষ্যৎ।

     

    প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন-

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

  • সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা  অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

    সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

    মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সম্পদের উৎস, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকরা মামলাটিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, উপদেষ্টা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মে মাসে কয়েকজন সাংবাদিক বাদীর সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাদীর দাবি, প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ না দিলে আরও নেতিবাচক ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা প্রদান করা হলেও বাকি অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়। এতে তিনি প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি কৌশল।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা বলেন, “সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমরা বারবার চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছি। সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”

    এদিকে মামলাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

  • দিনাজপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন

    দিনাজপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, দিনাজপুর ইউনিটের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার

    (৩ জুন ২০২৬) দিনাজপুর জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আইনজীবী ভবনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

     

    মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় ঐক্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়ন ভাবনা আজও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ও স্মরণীয়।

     

    অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, দিনাজপুর ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুশফিকুর রহমান তুহিন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও আইনজীবী ফোরামের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ এমাম আলী, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম (২)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

     

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান খাঁন বিপুল। দোয়া পরিচালনা করেন আইনজীবী ফোরামের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কবির বিন গোলাম চার্লি। দোয়া মাহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত আইনজীবী, নেতাকর্মী ও অতিথিদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

  • খুলনার ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১

    খুলনার ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১

    শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।

    খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া পিপিএফ ফিড কম্পানির সামনে পাইকগাছা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
    বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া পিসিএফ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
    এ ঘটনায় পাইকগাছার আছাবুর সরদারের ছেলে সাইদুর সরমান সাইদ (২৫) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এবং ৭/৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
    ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান হাফিজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, বাসটিতে পাইগাছা থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনায় আসছিলে। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দূর্ঘটনায় এক যাত্রী নিহত হন। ৭/৮ জন যাত্রী আহত হন। তাদের ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    শেখ মাহতাব হোসেন।
    ডুমুরিয়া খুলনা।

  • ডুমুরিয়ায় বাজারে আমের দামে ধস: লোকসানের আশঙ্কায় মাথায় হাত চাষিদের

    ডুমুরিয়ায় বাজারে আমের দামে ধস: লোকসানের আশঙ্কায় মাথায় হাত চাষিদের

    শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় গাছে ভালো ফলন হলেও মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন আম বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দরপতন। পাইকার ও ক্রেতার তীব্র সংকট থাকায় বাগান মালিক এবং সাধারণ চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করছেন। ফলে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি দিয়ে উৎপাদিত আমের উৎপাদন খরচই উঠবে কি না—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের – বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও দরদাম

    স্থানীয় বড় বড় আমের আড়ত ও বাজার (যেমন: ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল বাজার) ঘুরে দেখা গেছে, জাতভেদে আমের দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বর্তমানে বাজারে পাইকারি দর চলছে।

    হিমসাগর ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা (মণ প্রতি)

    ল্যাংড়া ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা (মণ প্রতি)আম্রপালি‌ ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকা (মণ প্রতি)চাষিদের ক্ষোভ গাছে এবার ফলন ভালো হয়েছিল। ভেবেছিলাম গত কয়েক বছরের লোকসান এবার পুষিয়ে নেব। কিন্তু বাজারে পাইকারই নেই। যে দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, ভ্যান ভাড়া আর শ্রমিকের খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় আম চাষি।দরপতনের প্রধান কারণসমূহ‌ পাইকার ও ক্রেতা সংকট দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় ব্যাপারি বা পাইকাররা এখনো বাজারে ও আড়তগুলোতে সেভাবে আসতে শুরু করেননি।

    উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি চাষিদের দাবি, গত মৌর্ আদর্শ মের তুলনায় এবার সার, কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি প্রায় ২৫% থেকে ৩০% বেড়েছে। কিন্তু আমের দাম কমে যাওয়ায় তারা সরাসরি লোকসানের মুখে পড়েছেন।

    একযোগে বাজারে আম আসা তীব্র গরম ও আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জাতের আম একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় বাজারে হঠাৎ সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় বাজার দ্রুত পড়ে গেছে। কৃষি বিভাগের বক্তব্য উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে, যার সাথে জড়িত প্রায় ২ হাজার ৬৭৫ জন আম চাষি।

    ডুমুরিয়া উপজেলা আদর্শ আম চাষী শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান

    চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দামের আকস্মিক ধসে চরম দুশ্,িন্তায় পড়েছেন স্থানীয় আম চাষি ও বাগান মালিকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো লাভের আশা করলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

    জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি ও মল্লিকার মতো উন্নত জাতের আমে সরবরাহ উপচে পড়ছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে আমের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

    চাষিদের অভিযোগ, বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও লেবার খরচ যে হারে বেড়েছে, বর্তমান বাজারমূল্যে সেই উৎপাদন খরচই উঠছে না। উপজেলার আটলিয়া খর্নিয়া, টিপনা ও শোভনা,সাহস এলাকার বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরম ও হঠাৎ বৃষ্টির কারণে অনেক আম দ্রুত পেকে গেছে। একসঙ্গে সব আম বাজারে নামাতে বাধ্য হওয়ায় আড়তদার ও পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, মে মাসের শেষের দিকে বা ঈদের আগে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল এবং প্রতি মণ আম ১,৬০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে হঠাৎ পাইকার কমে যাওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাজার দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিরা ভবিষ্যতে আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

     

     

  • বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) শহরের বারঘরিয়া ব্রীজ চত্বরে পায়রা চত্বরের পাদদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. তরিকুল আলম মোল্লা। তিনি বলেন, মহানন্দা নদীর ওপর ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুটি জেলার মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুতে টোল আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট জেলা ইউনিট ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড, নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, সিএনজি সমিতির সভাপতি মোঃ আসগার আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেসবাহুল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইলেকট্রনিক এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল আহমেদ প্রমুখ। বক্তৃতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে নামকরণ করা এ সেতু জাতীয় গৌরব ও ইতিহাসের প্রতীক। তাই জাতীয় বীরের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সেতুতে টোল আদায় জনগণের আবেগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেতু টোলমুক্ত থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী এখনো এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) অবিলম্বে টোলমুক্ত ঘোষণা করা, টোল আদায় বন্ধ করে জেলার মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ সময় ইজারা গ্রহণকারীদের প্রতি আসন্ন দরপত্র না কেনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দরপত্র বিক্রি না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সেতু টোলমুক্ত করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত মহানন্দা সেতুকে টোলমুক্ত ঘোষণা করবে।

    এসময় জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাইবান্ধায় হামলা, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ‌।

    গাইবান্ধায় হামলা, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ‌।

    ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধ।

    গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম খোলাবাড়ী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মাহবুব আলম উপর হামলা, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাদী।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম খোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহাবুর আলমের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের পূর্ব বিরোধ ছিল। এরই জেরে গত বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়িতে হামলা চালায়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তার বসতবাড়িতে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং গলায় চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তার কাছে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

    স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

    এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গাইবান্ধায় এএসপি রশিদুল বারীর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা

    গাইবান্ধায় এএসপি রশিদুল বারীর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা

    মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা

    স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা

     

    গাইবান্ধা জেলায় কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) জনাব এ বি এম রশিদুল বারী বদলিজনিত কারণে বিদায় নেওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পুলিশ।

     

    সোমবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জসিম উদ্দীন বিদায়ী কর্মকর্তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় তিনি রশিদুল বারীর নিষ্ঠা, সততা, পেশাদারিত্ব ও অনুকরণীয় অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

     

    বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা জেলা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় বিদায়ী কর্মকর্তা দক্ষ নেতৃত্ব, মানবিক আচরণ ও দায়িত্বশীল কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তার কর্মনিষ্ঠা দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

     

    অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরীফ আল রাজীব, পিপিএম, বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু, শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার প্রনব দাসসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

     

    নতুন কর্মস্থলে তার সাফল্য কামনা করে সকলে শুভ বিদায় জানান।