Blog

  • রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে সিভিল সার্জনের ঈদ শুভেচ্ছা ও উন্নত খাবার বিতরণ

    রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে সিভিল সার্জনের ঈদ শুভেচ্ছা ও উন্নত খাবার বিতরণ

    রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে সিভিল সার্জনের ঈদ শুভেচ্ছা ও উন্নত খাবার বিতরণ

    ​রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,

    পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা। ঈদের দিন তিনি হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের মাঝে উন্নত মানের বিশেষ খাবার বিতরণ করেন। পবিত্র ঈদের দিনে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তার এই উপস্থিতি চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্তব্যরতদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছে।​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকালে সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূয়েন খীসা হাসপাতালের প্রতিটি জরুরি ও সাধারণ ওয়ার্ড এবং বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং ঈদের দিনও হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
    ​পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন ঈদের ছুটিতেও পরিবার-পরিজন ছেড়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন, সচেতন দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ায় তিনি কর্তব্যরত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
    ​পরে সিভিল সার্জন মহোদয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নত মানের বিশেষ খাবার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি খাবারের গুণগত মান নিজে যাচাই করেন এবং প্রত্যেক রোগীর খাবার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। খাবার বিতরণকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    ​রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পবিত্র ঈদের দিনে হাসপাতালে ভর্তি থাকা সকল রোগীকে উন্নত মানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। উৎসবের দিনে রোগীদের মুখে হাসি ফোটানো এবং সবার সাথে ঈদের আনন্দ কিছুটা ভাগাভাগি করতে পেরে হাসপাতাল পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।

  • ঈদের ছুটিতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত গোপালগঞ্জে দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে কোরবানির বর্জ্য, চলছে মশক নিধন কার্যক্রম

    ঈদের ছুটিতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত গোপালগঞ্জে দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে কোরবানির বর্জ্য, চলছে মশক নিধন কার্যক্রম

    ঈদের ছুটিতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত গোপালগঞ্জে দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে কোরবানির বর্জ্য, চলছে মশক নিধন কার্যক্রম

    মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

    পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতেও গোপালগঞ্জ জেলা শহরে থেমে নেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন খাল, ড্রেন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মশক নিধন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ।
    শনিবার (৩০ মে) গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার, অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারিহা তানজিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
    তিনি বলেন, “কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজও সারাদিন মাঠপর্যায়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিনসহ পুরো ছুটিকালীন সময়ে অতিরিক্ত ৬৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং ১৫ জন ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
    এদিকে শহরের বিভিন্ন খাল ও জলাধারে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, আবাসিক এলাকা ও খালপাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রয়েছে। তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর ইমরান আলী মোল্যা এবং প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ টু প্রশাসক) মাহফুজুর রহমান লাবলু।

  • বৈরাগীগঞ্জে বাঁশবাগান থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

    বৈরাগীগঞ্জে বাঁশবাগান থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

    বৈরাগীগঞ্জে বাঁশবাগান থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

    মোঃ জিয়াউর রহমান, বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকার ভিতর লহুনী গ্রামে একটি বাঁশবাগান থেকে মোঃ আব্দুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এলাকাবাসী বাঁশবাগানে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
    এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড সেই বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
    এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি করছেন।

  • বাইকুনুর আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

    বাইকুনুর আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

    বাইকুনুর আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
    কলারোয়া থেকে ফিরে শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা।

    সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হোসেন বাংলাদেশে বিদেশি জাতের আঙুর চাষে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন এবং উচ্চফলনশীল রুশ-ইউক্রেনীয় জাত ‘বাইকুনুর’ (Baikonur) আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
    সাধারণত আমাদের দেশে ধারণা করা হয় যে বাংলাদেশে মিষ্টি আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু জাহিদ তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।
    বাইকুনুর আঙুরের বৈশিষ্ট্য ও জাহিদের সাফল্য
    আকর্ষণীয় রূপ ও স্বাদ: বাইকুনুর জাতের আঙুরগুলো আকারে বেশ বড়, লম্বাটে এবং পাকার পর চমৎকার গাঢ় বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে। এই আঙুরগুলো অত্যন্ত রসালো এবং বাজারের আমদানিকৃত আঙুরের মতোই মিষ্টি।
    উচ্চ ফলন: কলারোয়ায় জাহিদের বাগানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। দেশীয় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর এর ফলন দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগও বেশ আশাবাদী।
    বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: জাহিদের এই সফলতার পর এলাকায় এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেকেই এখন তাঁর বাগান দেখতে আসছেন এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে এই আঙুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
    জাহিদ হোসেনের এই সফলতার পেছনে রয়েছে আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও নিবিড় পরিচর্যা=মাচা বা ট্রেলিস পদ্ধতি: আঙুর লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় তিনি শক্ত মাচা বা ‘T’ আকৃতির ট্রেলিস পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে আলো-বাতাস ঠিকমতো পায় এবং ফলন ভালো হয়।
    মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা: বেলে-দোআঁশ মাটিতে জৈব সার, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) এবং পরিমিত সুষম রাসায়নিক সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা ঠিক রেখেছেন।
    প্রুনিং বা ডাল ছাঁটাই: আঙুর চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক সময়ে ডাল ছাঁটাই করা। জাহিদ সঠিক সময়ে প্রুনিং করায় গাছগুলোতে দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে ফুল ও ফল এসেছে।
    বাংলাদেশের আবহাওয়াতে সাধারণত টক আঙুর জন্মে—এমন একটি প্রচলিত ধারণাকে পেছনে ফেলে জাহিদের এই মিষ্টি বাইকুনুর আঙুর চাষ দেশের ফল উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
    খুলনার অতিরিক্ত উপ পরিচালক মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন জাহিদের এই উদ্যোগ যদি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
    কলারোয়ার জাহিদ এখন শুধু একজন সফল চাষীই নন, বরং দেশের বেকার যুবকদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণার নাম।

  • চৌদ্দগ্রামে ১৮ ঘন্টা পর ডাকাতিয়া নদী থেকে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র শিহাবের লাশ উদ্ধার

    চৌদ্দগ্রামে ১৮ ঘন্টা পর ডাকাতিয়া নদী থেকে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র শিহাবের লাশ উদ্ধার

    চৌদ্দগ্রামে ১৮ ঘন্টা পর ডাকাতিয়া নদী থেকে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র শিহাবের লাশ উদ্ধার

    জহিরুল ইসলাম সুমন
    চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি
    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কেটে নদী পার হতে গিয়ে মোহাম্মদ শিহাব (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার ১৮ ঘন্টা পর ডাকাতিয়া নদী থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
    শনিবার (৩০মে )সকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান। শুক্রবার (২৯শে মে) দুপুর আনুমানিক দুই ঘটিকায় সময় চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সংযোগস্থল ঝাকজুর-নারান্দিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিহাব পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল হক শিপনের ছেলে। সে চট্টগ্রাম বিএন কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।

    নিখোঁজ সিহাবের মামা আসিফ আকবর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দুপুরে সিহাব তার অপর দুই বন্ধুকে নিয়ে নারান্দিয়া গ্রাম থেকে পার্শ্ববর্তী ঝাকজুর গ্রামে যায় তালের আঁটি খাওয়ার জন্য। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত সাঁতার কেটে মসজিদে আসার জন্য নদীতে নামে তিন বন্ধু। এসময় অপর দুই বন্ধু সাঁতার কেটে নদী পার হলেও শিহাব নদীতে হারিয়ে যায়।

    চৌদ্দগ্রাম ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, আমরা গতকাল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১.২৫ ঘটিকায় কলেজ ছাত্র শিপনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই। এসময় আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিহাবকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। তাৎক্ষণিক আমরা চাঁদপুর থেকে ডুবুরি টিমকেও খবর পাঠাই। মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে চাঁদপুরের ডুবুরি টিম এসে বিকেল থেকে আনুমানিক এক ঘন্টা চেষ্টা করেও নিখোঁজ শিহাবকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ শিহাব উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখি। আজ শনিবার ভোর ৫.৩০ সময় আবার উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করি। একপর্যায়ে সকাল ৭.৩০ ঘটিকায় ডাকাতিয়া নদীর নারানদিয়া এলাকা থেকে ডুবন্ত অবস্থা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

  • টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত “সিংনা মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর ফাইনাল খেলা।

    টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত “সিংনা মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর ফাইনাল খেলা।

    টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত “সিংনা মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” এর ফাইনাল খেলা।

    বিশেষ প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস :

    খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ বিনোদনের পথে উৎসাহিত করতে সিংনা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
    শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কালিহাতী উপজেলার সিংনা প্রাইমারী স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি খেলা চলছে শক্তিশালী দুই দল “রাজাফৈর বনাম কালিহাতী দ্যা নাইটমেয়ার” এবং “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দল।
    “মাদক ছেড়ে খেলতে চল” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এলজিইডি (অব:) মীর কায়সার রিজভী (শরিফ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম আজাদ।
    ফাইনাল খেলার উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন স্কয়ারের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান।
    এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম খান, জনাব মোঃ শামসুল হক নান্নু, জনাব মোঃ ফজলুল হক (মেম্বার), জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), জনাব মোঃ ফজলুল হক খান, জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন, জনাব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক (আজমত), জনাব মোঃ জানে আলম খান, জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (ফার্মাসিস্ট), জনাব মোঃ ঠান্ডু মিয়া (সাবেক মেম্বার) এবং জনাব মোঃ সাইদুল ইসলাম।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন জনাব মোঃ রমজান আলী (বিএসসি)।
    আয়োজকরা জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুস্থ সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে।
    উল্লেখ্য, সিংনা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর আতিকুল ইসলাম (বিপ্লব) দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ১৮৫৪ সালের ঐতিহ্যের আলোয় স্মৃতি, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মহামিলন

    ১৮৫৪ সালের ঐতিহ্যের আলোয় স্মৃতি, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মহামিলন

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পুনর্মিলনীতে আবেগঘন দিনব্যাপী আয়োজন।

    “সময় মানুষকে দূরে নিয়ে যায়,

    কিন্তু স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনে পুরনো ঠিকানায়। বন্ধুত্বের সেই বেঞ্চ, স্কুলের সেই মাঠ, ঈদের আনন্দে আজও বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীর পাতায়।” ঐতিহ্য, স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মুখর হয়ে উঠেছিল দেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ। ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত “ঈদ পুনর্মিলনী–২০২৬”।

     

    শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) দিনাজপুর জিলা স্কুলের কবি কাজী কাদের নেওয়াজ অডিটোরিয়ামে (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক) আয়োজিত এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজন্মের প্রাক্তন ছাত্রদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় পুরো ক্যাম্পাস। ১৯৬২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বর্তমান পরীক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি ও দিনাজপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পিনাক চৌধুরী এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আহমেদ আজাদসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলী এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা।

     

    প্রাক্তন ছাত্র মঞ্জুরুল হক সোহাগের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ শাহীন পারভেজ (১৯৯৫ ব্যাচ), যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল ইসলাম (১৯৯৫ ব্যাচ), মোঃ রুস্তম এ জামান (১৯৮০ ব্যাচ), ফারুক সুমন (২০০০ ব্যাচ), প্রতীক, সোয়েব, সোহাগসহ বিভিন্ন ব্যাচের সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আহ্বায়ক মোঃ শাহীন পারভেজ বলেন, “দিনাজপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের আবেগ, শেকড় ও আত্মার একটি অংশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই আয়োজন। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক এবং নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে ধারণ করুক।”

     

    যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বহু বছর পর এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলন সত্যিই অসাধারণ অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই পুনর্মিলনী প্রমাণ করেছে— সময়ের ব্যবধান যতই হোক, দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রতি ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না।”

    দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিন পর পুরনো সহপাঠীদের একসঙ্গে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। কেউ স্মরণ করেছেন স্কুল জীবনের দুষ্টুমি, কেউবা ফিরে গেছেন জীবনের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিতে।

    বক্তারা বলেন, দিনাজপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আবেগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তোলার আলোকবর্তিকা। এ ধরনের আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

     

    ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন আহ্বান। পুরনো দিনের স্মৃতি, প্রিয় বন্ধুদের হাসিমাখা মুখ আর বিদ্যালয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মিলিয়ে দিনাজপুর জিলা স্কুল পরিবারের কাছে দিনটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য ও স্মরণীয় মিলনমেলা।

  • সাংবাদিকতার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ,কে এই ‘বিপ্লব’

    সাংবাদিকতার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ,কে এই ‘বিপ্লব’

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ‘বিপ্লব’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলাফেরায় অভিজাত্য ও হাতে দামি মোবাইল ফোন থাকলেও অধিকাংশ সময় তার গলায় কোনো প্রেস আইডি কার্ড দেখা যায় না। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিকতার আড়ালে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব খাটানোর নামে টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, একটি সামাজিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে কার্ড দেওয়ার নাম করে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভূমি উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার কথা বলে এক বৃদ্ধা নারীর কাছ থেকেও গরু বিক্রির টাকা নেওয়া হয়।

    স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন সময় বাজার এলাকায় মানুষের সামনে কান ধরে দাড়িয়ে থেকে অপদস্থ হওয়া, মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ‘বিপ্লব’ এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

  • লাখো মুসল্লীর ঢলে মুখর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান

    লাখো মুসল্লীর ঢলে মুখর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    দিনাজপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কঠোর নিরাপত্তায় অনুষ্ঠিত ঈদুল আযহার প্রধান জামাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত। বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়।

     

    ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লীরা মাঠে সমবেত হতে থাকেন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঈদগাহ মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল ঈমানী জনসমুদ্রে। তাকবির ধ্বনি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

     

    প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।

     

    ঈদের প্রধান জামাতে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর জেলা দায়রা জর্জ, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, কেন্দ্রীয় তাঁতী দল ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরুসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ।

     

    ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের প্রবেশপথে বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর। পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠ ও আশপাশ এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লীদের যাতায়াত ও পার্কিং সুবিধার জন্যও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।

     

    প্রায় সাড়ে ২২ একর আয়তনের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিত। এই মাঠের বিশাল এলাকাজুড়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। মুসল্লীদের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য নির্মাণ করা হয় ১৯টি গেট। মাঠজুড়ে পরিচ্ছন্নতা, কাতারের দাগ টানা, অস্থায়ী টয়লেট ও ওজুখানার সুব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।

     

    গম্বুজবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এই ঈদগাহ মাঠের প্রধান গম্বুজ বা মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৫১৬ ফুট। এতে নির্মিত হয়েছে ৩২টি আর্চ। আলোকসজ্জায় সজ্জিত বিশাল এই স্থাপনা ঈদের দিন এক অনন্য সৌন্দর্যে রূপ নেয়।

    ২০১৭ সাল থেকে বৃহৎ পরিসরে গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুসল্লী ও সংশ্লিষ্টরা।

  • কোটিপতি হাজী সন্তানদের ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে গেল মায়ের কান্না-দিনাজপুরের এক বৃদ্ধা মায়ের নিঃশব্দ আর্তনাদ

    কোটিপতি হাজী সন্তানদের ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে গেল মায়ের কান্না-দিনাজপুরের এক বৃদ্ধা মায়ের নিঃশব্দ আর্তনাদ

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    পৃথিবীতে মা এমন এক মহামূল্যবান সম্পদ, যার বিকল্প কোনো কিছু হতে পারে না। যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে অসীম কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে বড় করেন, সেই মায়ের জীবনের শেষ অধ্যায় কি হওয়া উচিত সন্তানের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ? নাকি অপেক্ষা, নিঃসঙ্গতা আর চোখের জলে ভেজা দীর্ঘশ্বাস?

     

    দিনাজপুর পৌরসভার একটি মহল্লা থেকে উঠে এসেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক মানবিক বাস্তবতা, যা শুধু একটি পরিবারের নয়—সমাজের অসংখ্য মানুষের জন্যও একটি নীরব শিক্ষা। জানা গেছে, ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক বয়স্ক বৃদ্ধা মা বর্তমানে জীবনের শেষ অধ্যায় পার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগতে থাকা এই মা নিজে চলাফেরা করতে পারেন না, নিজ হাতে খেতে পারেন না, এমনকি নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলোও করতে পারেন না। অধিকাংশ সময় তাকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে হয়

     

    এবং প্রতিটি কাজে অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার পাশে রয়েছেন ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী। অসুস্থ মায়ের প্রতিদিনের পরিচর্যা, খাওয়ানো, ওষুধ, কিছু ডায়াপারের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের দায়িত্ব তারাই পালন করছেন।

     

    অন্যদিকে পরিবারের আরও কয়েকজন কোটিপতি হাজী সন্তান এবং সেই হাজীদের ছেলে-মেয়ে থাকলেও অভিযোগ রয়েছে—মায়ের এবং দাদীর দৈনন্দিন খোঁজখবর নেওয়া বা পাশে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই আন্তরিক উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। এবং কেউ কেউ একেবারেই আসে না, অথচ তারা সবাই একই শহরের কাছাকাছি আলাদা আলাদা বাড়ীতে বসবাস করেন।

     

    স্থানীয়দের মতে, একজন অসুস্থ মায়ের যেখানে প্রতিদিন সন্তানের উপস্থিতি প্রয়োজন, সেখানে অনেক সময় মাসের পর মাসও কিছু সন্তানের খোঁজখবর খুব কম পাওয়া যায়। এমনও সময় গেছে—ঈদের মতো আনন্দের দিনেও মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি। মা কী খাচ্ছেন, ওষুধ কীভাবে আসছে, কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কীভাবে জোগাড় হচ্ছে—এসব বিষয়ও অনেক সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকে।

     

    অসুস্থতার কারণে এই বৃদ্ধা মাকে ডায়াপার ব্যবহার করতে হয়। জানা গেছে, পূর্বে ঠান্ডাজনিত জটিলতার কারণে তিনি কয়েকবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনও ছিলেন। সে সময়ও হাসপাতালে দেখা করতে যায়নি এমনও সন্তান ও নাতি-পুতিও আছেন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য নাকি তখনই দেখা যায়, যখন এই বৃদ্ধা মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন—”ওরা আমাকে খোঁজ নেয় না, আমাকে দেখতে আসে না…”এমন কথার মধ্যে শুধু একজন মায়ের কষ্ট নয়, লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার বেদনা।

     

    পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্যমতে, কখনো কখনো কিছু সন্তানের উপস্থিতি আন্তরিকতার চেয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে বলেও অনুভূত হয়। তবে একজন মা সন্তানের চেহারা দেখেই অনেক সময় বুঝে যান—ভালোবাসা হৃদয় থেকে এসেছে, নাকি শুধুই পরিস্থিতির প্রয়োজন থেকে।

     

    সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অর্থের পেছনে ছুটে চলা আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তাধারা পরিবারগুলোর মানবিক বন্ধনকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অথচ যে মা নিজের ভেজা বিছানায় শুয়ে সন্তানকে শুকনো জায়গায় রেখেছেন, নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানকে খাইয়েছেন, তার বার্ধক্যে পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়—এটি মানবতা, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় কর্তব্যও।

     

    ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা সামাজিক পরিচয় মানুষকে বড় করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত মানুষ হওয়ার পরিচয় পাওয়া যায় পিতা-মাতার সেবায়। মনে রাখতে হবে—পৃথিবীতে এমন কোনো সম্পদ নেই, যা মায়ের বুকের এক ফোঁটা দুধের ঋণ পরিশোধ করতে পারে।

    আজ যারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে সময় দিতে পারছেন না, তাদের জন্য সময় একটি নীরব প্রশ্ন রেখে যায়—

    একদিন আপনিও বৃদ্ধ হবেন। একদিন আপনিও অপেক্ষা করবেন সন্তানের একটি ফোন, একটি খোঁজ, কিংবা পাশে বসে থাকা একটি মানুষের জন্য।

     

    শেষ কথা:মাকে ভালোবাসুন লোক দেখানোর জন্য নয়, হৃদয়ের গভীরতা থেকে। কারণ মায়ের জন্য ব্যয় করা সময় কখনো অপচয় হয় না; বরং সেটিই মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন।

    — দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

    (তাং- ২৭-০৫-২০২৬ ইং)