মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা, নড়াইলে গ্রেফতার ৫ সংসদ সদস্য (খুলনা ৫) ও তার স্ত্রীর সুস্থতা কামনায় ডুমুরিয়ায় দোয়া মাহফিল দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির চেয়ারম্যান হৃদরোগে আক্রান্ত, দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা কালীগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ান ২৯ বিজিবি অভিযানে ৩ লক্ষ৫০হাজার টাকার মাদকদ্রব্য আটক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব কৃষক পরিবারের পাশে সিংড়া উপজেলা প্রশাসন পেট্রোল ঢেলে শ্রমিক সর্দারকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধারের দাবী, চিরিরবন্দরে গ্রেপ্তার ৪ দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে কাহারোলে অভিযান: ৪ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটার বিরুদ্ধে অভিযান: ১০টি বাঁধ ও নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

Reporter Name

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ঘ্যাংরাইল নদীতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে এক ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে নদীর প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা থেকে ১০টি অবৈধ বাঁধ, নেট-পাটা, ২টি বেহুন্দি জাল এবং কয়েকটি ক্ষতিকর চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার ৬জুন ২০২৬ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান সরাসরি নেতৃত্ব দেন।

অভিযানকালে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিস, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীতে অননুমোদিত বাঁধ ও ক্ষতিকর জাল স্থাপনের ফলে একদিকে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে এলাকা জুড়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে চায়না দুয়ারী ও নেট-পাটার মতো ধ্বংসাত্মক জালের কারণে পোনামাছসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী নির্বিচারে বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।

অভিযান শেষে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “আমাদের দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে নদীতে কোন প্রকার অননুমোদিত বাঁধ বা ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমাদের এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। কিছু অসাধু লোক ব্যক্তিগত স্বার্থে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির গতিপথ রুদ্ধ করেছিল, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনস্বার্থে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় নদী-খাল দখলমুক্ত করার এই পদক্ষেপ নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।”

মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মৎস্যজীবীরা।