বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পটুয়াখালীতে র‍্যাবের জালে ১১ কেজি গাঁজা ও ৩০ হাজার টাকার জাল নোটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক মানবতার অনুপ্রেরণার প্রতীক অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকুর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২,০৮৫ বোতল সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২, ট্রাক জব্দ গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তফসিলের সময়সীমা পেরিয়ে মনোনয়ন গ্রহণের দাবি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রার্থীরা মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার প্রতি আহ্বান: ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগের জন্য প্রোজেক্টর উপহার দিলেন, সাবেক কাউন্সিলর শেখ জাহিদুল ইসলাম রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপজেলা সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গোপালগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড কৃতী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা পর্তুগালে বেনজিরের অবৈধ সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার কাজ করবে ; ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার মহাবিশ্বের গল্প শুনলেন শিক্ষার্থীরা গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমধর্মী বিজ্ঞান সংলাপ দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে ‘দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি’-র উপদেষ্টা হলেন শেখ জাহিদুল ইসলাম

দিঘলিয়ায় মাদ্রাসা পরিচালনার নামে সরকারি অর্থ লোপাটের মহোৎসব: ইয়াতিমদের নামে বরাদ্দসহ প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ

Reporter Name

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি আজিজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মাদ্রাসার কতিপয় সদস্যের যোগসাজসে মাদ্রাসা পরিচালনায় নানা অনিয়ম, দুর্ণীতি এবং সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ও সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শনে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে অবস্থিত আজিজুল উলুম কাওমী মাদ্রাসাটির উন্নয়নে। সরকারি বরাদ্দের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে ইতিপূর্বে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ২৬০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে। দিঘলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ জামাল হুসাইন সাংবাদিকদের জানান, সমুদয় অর্থ দুই কিস্তিতে মাদ্রাসাটির মুহতামিমের নিজস্ব একাউন্টে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইন্তাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে সম্পূর্ণ টাকা দুই কিস্তিতে তিনি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। কিন্তু গত ৩১ মার্চ উক্ত মুহতামিম সাংবাদিকদের জানান তিনি ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং মাদ্রাসা তহবিল থেকে নিয়ে ৭৩ হাজার টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা বাকী ১ লাখ ১ হাজার ২৬২ টাকা গেলো কোথায়? তিনি উন্নয়নের খরচ ও ভাউচার দেখাতে পারেন নি।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা যায়, ১ লক্ষ ৫১ হাজার ২৬০ টাকা বাজেটের বিপরীতে মাদ্রাসার ঘরটি তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং মরিচা ধরা পুরনো টিন ব্যবহার করা হয়েছে ঘরটির তিন দিকে টিনের বেড়া দেওয়া হলেও অবশিষ্ট দেওয়াল হিসেবে অন্য ঘরের দেওয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি ও মাদ্রাসা মোহতামিম মাওলানা ইন্তাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, এই কাজের জন্য এলাকার মানুষের কাছ থেকে ৩০টি বাঁশও সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসাথে তিনি আরও জানান, প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের বাইরেও মাদ্রাসার নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ২৩ হাজার টাকা এই কাজে ব্যয় করা হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, সম্পূর্ণ ঘর ও টয়লেট নির্মাণে কোনোভাবেই ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করা হয় নি। প্রকল্প কমিটির কোনো রেজুলেশনও দেখাতে পারেন নি। এমনকি উক্ত মাদ্রাসায় ৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে সহকারী শিক্ষকদের রাখা হয়নি। এদিকে শিক্ষক নিয়োগে কোনো নিয়ম নীতি মানা হয়না। শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়না। ইচ্ছামত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে যখন তখন শিক্ষকদের পেটে লাথি মারা হয়। মুখের কথায় শিক্ষকদের বের করে দিয়ে নতুন শিক্ষক নেওয়া হয়। কোনো রেজুলেশনের প্রয়োজন হয়না। সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, মাদ্রাসার মুহতামিমের একাউন্টে সম্পূর্ণ টাকা দুই কিস্তিতে পাওয়ার কথা পূর্বে জানালেও গত মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের জানান তিনি ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান একেক সময় ভিন্ন কথা বলায় তার সততা ও সচ্ছতা নিয়ে জনমনে ও অভিভাবকমহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ জামাল হুসাইন বলেছেন বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থ দুই কিস্তিতে মাদ্রাসার মুহতামিমের একাউন্টে দেওয়া হয়েছে। যদি এ অর্থ নয় ছয় হয় তবে মাদ্রাসার মুহতামিমই দায়ী হবেন। এদিকে উক্ত মাদ্রাসায় অর্ধশত ইয়াতিমের তালিকা জমা দিয়ে দিঘলিয়া উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরের মাধ্যমে মাসে মাসে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে মাদ্রাসার কতিপয় আস্থাভাজন সদস্যদের নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে আত্নসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মাদ্রাসাটিতে কোনো ইয়াতিম ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাদের নিয়মিত রান্নাও হয়না। সমাজ সেবা দপ্তরের জনৈক কর্মকর্তার মাদ্রাসাটি সরেজমিনে পরিদর্শনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানা যায়। সরকারি অর্থের এই প্রকাশ্য লুটপাট রুখতে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন এলাকার বিজ্ঞ ও সচেতন মহল।