নাতির ছকে দাদীর মৃত্যু: ঘোড়াঘাটের আলোচিত অলেদা হত্যাকাণ্ডে তিনজন গ্রেফতার, উদ্ধার লুটের স্বর্ণালঙ্কার

মোঃ আইনুল ইসলাম

বিভাগীয় সম্পাদক,

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা বৃদ্ধা অলেদা বেওয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার টিম ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে হত্যাকাণ্ডের মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় নিহতের বাড়ি থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন। এসময় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন, পিপিএম এবং ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 

যেভাবে ঘটেছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুলিশ জানায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব পালশা গ্রামে নিজ বাড়িতে একা থাকা অলেদা বেওয়া (৭০)-কে হাত-পা বেঁধে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা-এর নির্দেশনায় তদন্তে নামে ডিবি, সাইবার ইউনিট ও স্থানীয় থানা পুলিশ। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

 

নেপথ্যে ছিল অনলাইন জুয়া ও ঋণের চাপ তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা অনলাইন জুয়ার নেশা ও ঋণের চাপে পড়ে চুরির পরিকল্পনা করে। প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ফজলে রাব্বী, যিনি নিহত বৃদ্ধার দ্বিতীয় ছেলের ঘরের নাতি, সে বাড়ির অভ্যন্তরীণ তথ্য জানিয়ে অন্যদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে তিনজন মিলে বাড়িতে প্রবেশ করে। বৃদ্ধা জেগে উঠলে মুখ চেপে ধরা, চোখে টেপ লাগানো, মুখ বেঁধে ফেলা এবং হাত-পা বেঁধে ফেলার পর ঘর তছনছ করে স্বর্ণালঙ্কার খোঁজা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে। পরে তারা লুটের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

যেখান থেকে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা

পুলিশ জানায়, ফজলে রাব্বী (২৯) ও মুসফিকুর রহমান রাজ (৩৮)-কে আশুলিয়া থানাধীন গকুল নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)-কে ঘোড়াঘাটের দেওগ্রাম এলাকা থেকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামাল: অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—১টি হার, ১ জোড়া বালা,

১ জোড়া চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১ জোড়া ঝুমকা, ১ জোড়া রুপার নুপুর।

 

পুলিশের বক্তব্য প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাজে অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

মানবিক প্রশ্নও উঠেছে

স্থানীয়দের মতে, আত্মীয়তার সম্পর্ককে ব্যবহার করে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

সত্যের সন্ধানে, মানুষের পক্ষে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *