বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ঠাকুরগাঁওয়ে ৩২ বান্ডিল গাঁজাসহ আটক ২, পিকআপ জব্দ চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবীরের মৃত্যুদণ্ড বাকলিয়ার শিশু ধর্ষন মামলার রায় ঘোষনা আজ পটুয়াখালীতে র‍্যাবের জালে ১১ কেজি গাঁজা ও ৩০ হাজার টাকার জাল নোটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক মানবতার অনুপ্রেরণার প্রতীক অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকুর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২,০৮৫ বোতল সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ২, ট্রাক জব্দ গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তফসিলের সময়সীমা পেরিয়ে মনোনয়ন গ্রহণের দাবি, ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রার্থীরা মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলার প্রতি আহ্বান: ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগের জন্য প্রোজেক্টর উপহার দিলেন, সাবেক কাউন্সিলর শেখ জাহিদুল ইসলাম রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপজেলা সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গোপালগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড কৃতী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা পর্তুগালে বেনজিরের অবৈধ সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার কাজ করবে ; ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার

পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউপিতে হিসাবের প্রশ্নে উত্তেজনা চেয়ারম্যানকে মারতে গিয়ে নিজেই ঘেরাও সচিব

Reporter Name

পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক পরিষদের চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন আলিউল ইসলাম নামে এক ইউপি সচিব। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাকপ। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন বিকেল থেকেই তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ তসরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সকল ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সচিব আলিউল ইসলাম। একপর্যায়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বিতণ্ডা চলাকালে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন সচিব। উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদেরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হল তা মানার মত নয়।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেছেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
শাহিনুর রহমান
পঞ্চগড় প্রতিনিধি