অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার ৬নং মহিপুর ইউনিয়নের পুরান মহিপুরের হাজীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
রবিবার (এপ্রিল ০৫) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মহিপুর থানার একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে মহিপুর থানাধীন রাজা পেট্রোল পাম্প এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ০৬নং মহিপুর ইউনিয়নের পুরান মহিপুরের হাজীপুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি বাস থেকে নেমে গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার, মোঃ আবু ইউসুফ কে অবহিত করে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চারজন পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে তাদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মোঃ রফিক হাওলাদার (৪২) ও মোঃ কুদ্দুস হাওলাদার (৩৫), উভয়ই মহিপুর থানা এলাকার বাসিন্দা; মোঃ শাহ আলম (২০) ও মোসাঃ শারমিন বেগম (১৯), উভয়ই কলাপাড়া থানার বাসিন্দা।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্যাগ থেকে মোট ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রফিক হাওলাদারের ট্রলি ব্যাগ থেকে ৫ কেজি, কুদ্দুস হাওলাদারের ব্যাগ থেকে ২.৫ কেজি, শাহ আলমের ব্যাগ থেকে ২.৫ কেজি এবং শারমিন বেগমের ব্যাগ থেকে ২ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এ সময় গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি ট্রলি, তিনটি ব্যাগ এবং মাদক ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যবহৃত চারটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় মামলা নং-০৬, তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (ধারা ৩৬(১) এর সারণী ১৯(খ)) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সহায়তাকারী জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।