মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা, নড়াইলে গ্রেফতার ৫ সংসদ সদস্য (খুলনা ৫) ও তার স্ত্রীর সুস্থতা কামনায় ডুমুরিয়ায় দোয়া মাহফিল দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভির চেয়ারম্যান হৃদরোগে আক্রান্ত, দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা কালীগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ান ২৯ বিজিবি অভিযানে ৩ লক্ষ৫০হাজার টাকার মাদকদ্রব্য আটক অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব কৃষক পরিবারের পাশে সিংড়া উপজেলা প্রশাসন পেট্রোল ঢেলে শ্রমিক সর্দারকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধারের দাবী, চিরিরবন্দরে গ্রেপ্তার ৪ দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে কাহারোলে অভিযান: ৪ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

“সুখে ডুবে থাকা চোখ কি দুঃখের গভীরতা দেখতে পায়?”

Reporter Name

মোঃ আইনুল ইসলাম, বিভাগীয় সম্পাদক, দুর্নীতি চালাস নিউজ টিভি।

বিশেষ ফিচার প্রতিবেদন:
সুখের সাগরে ডুবে থাকা মানুষের কাছে দুঃখ অনেক সময় কেবল একটি শব্দ। আর দুঃখের সাগরে ডুবে বড় হওয়া মানুষের কাছে দুঃখ—একটি বাস্তবতা, একটি ইতিহাস, একটি নীরব যুদ্ধ।

যিনি কখনো অভাবের তীব্র ক্ষুধা অনুভব করেননি, তিনি ক্ষুধার কষ্টের সংজ্ঞা জানেন—কিন্তু তার গভীরতা বোঝেন না। যিনি কখনো অপমানের ভারে মাথা নিচু করেননি, তিনি অপমান শব্দটি শুনেছেন—কিন্তু তার যন্ত্রণা অনুভব করেননি। এটাই বাস্তবতা। এটাই জীবনের নির্মম সত্য।

দুঃখ মানুষকে ভেঙে দেয় না, মানুষকে গড়ে তোলে, যারা দুঃখের সাগরে ডুবে বড় হয়েছেন, তারা ছোটবেলা থেকেই শিখে যান—
কিভাবে নীরবে কষ্ট সহ্য করতে হয়, কিভাবে না পেয়েও কৃতজ্ঞ থাকতে হয়, কিভাবে নিজের দুঃখ গিলে অন্যের কষ্ট বুঝতে হয়।
দুঃখ মানুষকে সংবেদনশীল করে।
দুঃখ মানুষকে মানুষ চিনতে শেখায়।

দুঃখ মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখে। এই মানুষগুলোই সমাজে সবচেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল। কারণ তারা জানে— একটু অবহেলা কত বড় ক্ষত তৈরি করতে পারে, একটু সাহায্য কত বড় আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে।

সুখ কি মানুষকে অমানবিক করে তোলে? সুখ নিজে কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু সুখে ডুবে থাকা যদি মানুষকে অন্ধ করে তোলে—তাহলে সেটাই বিপদ। যারা সুখের সাগরে বড় হয়েছেন, অনেক সময় তারা দুঃখকে দেখেন দূর থেকে।

তাদের চোখে দুঃখ “অন্যের সমস্যা”, তাদের কানে কষ্ট “অতিরঞ্জন”, তাদের বিবেকে অসহায়ত্ব “অযোগ্যতা”।

এখানেই প্রশ্ন উঠে—
যে মানুষ নিজে কষ্ট পায়নি, সে কি অন্যের কষ্ট বুঝতে পারে? সবাই পারে না— কিন্তু যে চায়, সে পারে।
কারণ দুঃখ বোঝার জন্য শুধু অভিজ্ঞতা নয়, দরকার বিবেক।

সমাজের সবচেয়ে বড় বৈষম্য: অনুভূতির বৈষম্য আমরা অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা বলি, সামাজিক বৈষম্যের কথা বলি—
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বৈষম্য হলো অনুভূতির বৈষম্য।

একজন মানুষ কাঁদছে, আরেকজন বলছে— “এটা তো তেমন কিছু না।”
এই কথাটাই প্রমাণ করে—
দুঃখের সাগর আর সুখের সাগরের মাঝখানে কতটা দূরত্ব। দুঃখকে বোঝা শেখা—মানুষ হওয়ার শর্ত
যারা দুঃখের সাগরে ডুবে বড় হয়েছেন, তারা সবাই মহান নন।

আর যারা সুখের সাগরে বড় হয়েছেন, তারা সবাই নিষ্ঠুরও নন।
পার্থক্যটা তৈরি হয় চিন্তায়।
আপনি যদি নিজের সুখের ভেতর থেকেও অন্যের কষ্ট দেখার চেষ্টা করেন— তাহলে আপনি মানুষ।

আর যদি নিজের সুখের দেয়াল দিয়ে সব দুঃখ ঠেকিয়ে দেন—
তাহলে আপনি কেবল স্বচ্ছল, মানুষ নন। শেষ কথা
দুঃখ মানুষকে চিনতে শেখায়।
সুখ মানুষকে পরীক্ষা করে।
যে মানুষ দুঃখ পেয়েও মানবিক থাকে—সে পরিণত মানুষ।
আর যে মানুষ সুখে থেকেও দুঃখ বুঝতে শেখে— সে-ই প্রকৃত অর্থে সভ্য।