Author: MD SHAHNEWAZ

  • জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়ে হজরত আলী (২৭) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়ে হজরত আলী (২৭) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

    জামালপুর জেলা প্রতিনিধি : নাজমুল হাসান

     

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন সোমবার সকালে এ সাজা দেন।

    হজরত আলী পৌর শহরের চর ভবশুর ঠোটাপাড়া এলাকার মোনা সেখের ছেলে।

    দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

     

    তিনি জানান, পৌর এলাকার চরভবশুর ঠোটাপাড়া গ্রামে মাদক সেবন করে পরিবারের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিলেন হযরত আলী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়।

     

    আটকের পর হযরত আলী মাদক সেবন ও পরিবারের সাথে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কথা স্বীকার করেন বলেও জানান ওসি।

     

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাকে এ দণ্ডাদেশ দেন।

     

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায়ে ওই যুবককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বেতাগীতে সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    বেতাগীতে সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা

    মোঃ আল আমিন মল্লিক

     

    বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

     

    পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নকল প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক মনিটরিং জোরদার করা হয়।

     

    পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যায়। কেউ কেউ প্রশ্নপত্র সহজ হয়েছে বলে জানায়, আবার কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট অংশকে কিছুটা কঠিন বলেও উল্লেখ করে। তবে সার্বিকভাবে পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে পরীক্ষার্থীরা।

     

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, “উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নকল প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”

     

    তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি, বাকি পরীক্ষাগুলোও একইভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।”

     

    এদিকে অভিভাবকরাও প্রশাসনের এমন কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং তাদের সন্তানদের সফলতা কামনা করেছেন।

     

    সব মিলিয়ে বেতাগীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনটি উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও সন্তোষজনক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ফটিকছড়িতে ১১ ভেন্যুর ১২ কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু

    ফটিকছড়িতে ১১ ভেন্যুর ১২ কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু

    ফটিকছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি নাজিম উদ্দিন

     

    সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাতেও উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। উপজেলার ১১টি ভেন্যুর ১২টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

     

    এবার ফটিকছড়িতে মোট ৫ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট কেন্দ্রের মধ্যে এসএসসি ৭টি, দাখিল ৩টি এবং ভোকেশনাল ২টি কেন্দ্র রয়েছে।

     

    পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

     

    পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা, একাডেমিক সুপারভাইজার একরামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

     

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নির্ভার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

    উপজেলার সর্বত্রই পরীক্ষার প্রথম দিনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করেছে বলে জানা গেছে।

  • মা মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরছে, তবুও সন্তানেরা নীরব—মুন্সী পরিচয়ের আড়ালে দায়বোধের করুণ পতন

    মা মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরছে, তবুও সন্তানেরা নীরব—মুন্সী পরিচয়ের আড়ালে দায়বোধের করুণ পতন

    মোঃ আইনুল ইসলাম

    বিভাগীয় সম্পাদক,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    বিশেষ ফিচার প্রতিবেদন:

    দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের CCU-তে শুয়ে আছেন শতবর্ষী এক অসহায় মা—জীবন-মৃত্যুর কঠিন সন্ধিক্ষণ পার করে ধীরে ধীরে কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছেন।

    ১৯-০৪-২০২৬ ইং তারিখে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, অচেতনপ্রায় অবস্থা ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে—হার্ট ফেইল,

    লিভারে পানি জমা, রক্তে মারাত্মক ইনফেকশন, চিকিৎসা চলমান রয়েছে। সিনিয়র চিকিৎসক জানিয়েছেন—রোগীর অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে, ইচ্ছা করলে পরিবার তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে।

    পরিবার ইতোমধ্যে বাসায় নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

     

    মুমূর্ষু মুহূর্তে এক সন্তানের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই, মায়ের অবস্থা হঠাৎ অবনতি হলে ছোট ছেলে ছুটে যান সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়ে—ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, অ্যাম্বুলেন্স জোগাড়, হাসপাতালে ভর্তি,তার পাশে ছিলেন তার স্ত্রী—যিনি শুরু থেকে প্রতিটি মুহূর্তে সহযোগিতা করেছেন। আরো সহযোগিতা করছেন তার এক বোন ও ভাই। হাসপাতালের রাত: একা সন্তানের সংগ্রাম, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে—দিন-রাত জেগে সেবা, ঘুমহীন ক্লান্ত সময়, শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও দায়িত্ব পালন।

     

    একটি করুণ রাত—স্ত্রী অসুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে বাধ্য, আর ছেলে একা হাসপাতালে—মা নিজে নড়তে পারেন না, পায়খানা-প্রস্রাব পরিষ্কার করা, ওষুধ, সেবা, সব একাই সামলানো, নিজের কোমরের নার্ভের অসহনীয় ব্যথা নিয়েও সব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

    অপেক্ষা—যা আজও অপূর্ণ

    এই মা মাঝরাতে সন্তানের নাম ধরে ডাকেন—কিন্তু আধা ঘণ্টার জন্যও কেউ পাশে আসে না, ফোনে খোঁজ নেওয়ার সময়ও অনেকের হয় না।

    তার সবচেয়ে বড় চাওয়া- সন্তানদের একবার দেখা কিন্তু সেই চাওয়াও আজ অপূর্ণ।

     

    অসুস্থতার চেয়েও বড় কষ্ট—অবহেলা, এই মা—তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করেছেন, হাঁটতে পারেন না,

    খেতে পারেন না, নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারেন না, সম্পূর্ণভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকের পরামর্শ—নিয়মিত থেরাপি দিলে কিছুটা হাঁটতে পারেন,বন্ধ হলে শরীর একেবারে অচল হয়ে যায়, প্রতিদিন মাত্র ২৫০ টাকার থেরাপি—তবুও তা নিয়মিত নিশ্চিত হয় না।

     

    প্রশ্নের মুখে পরিচয় ও সম্পদ:

    সমাজে পরিচয়—হাজী, কোটিপতি,

    মুন্সী প্রতিষ্ঠানের সদস্য, কিন্তু—

    অসুস্থ মায়ের পাশে না থাকলে

    এই পরিচয়ের মূল্য কোথায়?

    সম্পদ বড় নয়, দায়িত্বই আসল পরিচয়।

     

    ত্যাগের গল্প—একটি ছোট পরিবারের সংগ্রাম, ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী—একটি ঘরে মাকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন বিসর্জন, ব্যক্তিগত সময় নেই,

    তবুও দায়িত্ব থেকে সরে যাননি,

    স্ত্রীর নিঃশব্দ ত্যাগ—“আমাদের জীবন মায়ের সেবায় উজাড় করে দিলাম…”এই ত্যাগই প্রকৃত মানবতার প্রতিচ্ছবি।

     

    সম্পত্তি ও ন্যায্যতার দাবী

    এখানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পারিবারিক সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন, সকল সদস্যের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ। ন্যায্য প্রাপ্য বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ,আইন ও ন্যায়ের দাবী—প্রত্যেকের প্রাপ্য নিশ্চিত করতে হবে।

     

    ধর্ম ও বিবেকের চূড়ান্ত শিক্ষা:

    পিতা-মাতার সেবা সর্বোচ্চ দায়িত্ব,

    হজ্জ, দান, পরিচয়—সবই অর্থহীন

    যদি মায়ের পাশে দাঁড়ানো না যায়।

    যে ঘরে মা আছেন—সেই ঘরই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত। সমাজের জন্য কঠিন বার্তা, মায়ের কান্না উপেক্ষা করে কেউ সফল নয়, দায়িত্বহীনতা কখনো সম্মান আনে না, আজ যারা দূরে—কাল তাদেরও এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

     

    শেষ কথা- এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি পুরো সমাজের একটি আয়না, আমরা কি সত্যিই আমাদের পিতা-মাতার হক আদায় করছি? দোয়া: আল্লাহ এই অসহায় মাকে পূর্ণ শিফা দান করুন, এবং আমাদের সবাইকে পিতা-মাতার খেদমতের তৌফিক দিন। ঘোষণা:এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সমাজ-জাগরণমূলক বিশেষ ফিচার আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকাশিত হবে—ইনশাআল্লাহ।

    “পরিচয় নয়—মায়ের সেবাই সন্তানের প্রকৃত মর্যাদা”।

  • পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড ও কাস্টমসের যৌথ অভিযান: বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ

    পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড ও কাস্টমসের যৌথ অভিযান: বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও কাস্টমস বিভাগ।

     

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মির্জাগঞ্জ থানাধীন সুবিদখালী খেয়াঘাট সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী এবং কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ আজ সকাল ৯টায় একটি যৌথ টহল পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন শ্রীমন্ত নদীতে অবস্থানরত একটি সন্দেহভাজন পণ্যবাহী স্টিমারে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে স্টিমারটি থেকে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের জন্য রাখা ৫০ হাজার ১০০ শলাকা নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৬০০ টাকা। তবে অভিযান চলাকালীন সিগারেটের প্রকৃত মালিককে খুঁজে না পাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

     

    জব্দকৃত সিগারেটগুলোর বিষয়ে বর্তমানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা এবং চোরাচালান রোধে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • গলাচিপায় ভোক্তা অধিকার ও র‍্যাবের যৌথ অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    গলাচিপায় ভোক্তা অধিকার ও র‍্যাবের যৌথ অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

    পটুয়াখালী জেলার গলাচিপায় জ্বালানি তেল ও ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে র‍্যাব -৮ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

     

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পটুয়াখালী যৌথভাবে গলাচিপা থানার বাদুরা বাজারে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।

    অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে তেল বিক্রয় করছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় ভোক্তা অধিদপ্তর পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক, মোঃ শাহ্ শোয়াইব মিয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৩৭ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে মোট ৪৫,০০০/- (পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকা জরিমানা করেন।

     

    র‍্যাব-৮, সিপিসি-১-এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ জানান, “জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে র‍্যাব সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। অসাধু উপায়ে অধিক মুনাফা লাভ ও বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

    এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

  • দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ককে জরিমানা

    দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি: স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ককে জরিমানা

    এম এ শুকুর জেলা প্রতিনিধি,

     

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

     

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাবাজারের ‘আরিফ ফুয়েল সাপ্লাই’-এর মালিক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ রতন সিংহ।

     

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রথমবারের মতো তাকে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

     

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অরূপ রতন সিংহ জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

  • চোখে আলো নেই, তবু স্বপ্ন অটুট শরীফের

    চোখে আলো নেই, তবু স্বপ্ন অটুট শরীফের

    রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ

    জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো নেই। তবুও থেমে থাকেননি শরীফ আলী (১৯)। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নকে পুঁজি করে তিনি অংশ নিয়েছেন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায়। দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা তার পথ রুদ্ধ করতে পারেনি; বরং সেই সীমাবদ্ধতাকেই জয় করে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

     

    ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এই দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীর বাড়ি শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট মহল্লায়। তার বাবা রমজান আলী একজন ইজিবাইকচালক।

     

    সীমিত আয়ে পরিবার চললেও ছেলেকে শিক্ষিত করার দৃঢ় সংকল্প রমজান আলীর মধ্যে ছিল শুরু থেকেই। পরিবারের সদস্যদের মুখে পড়া শুনে শেখার মধ্য দিয়েই শিক্ষাজীবনের সূচনা শরীফের। পরবর্তীতে স্থানীয় গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে তিনি ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। ধারাবাহিকভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া শরীফ এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

     

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শরীফ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। নিজে লিখতে না পারায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন শ্রুতিলেখক (রাইটার) এর সহায়তায় পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

     

    শরীফের শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার। ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতলেখক সেবা গ্রহণসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রুতিলেখক হতে পারে।

     

    শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন শরীফ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শায়লা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। পরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।

     

    পরীক্ষা শুরুর আগে শায়লা বলেন, “আমার হাতের লেখায় যদি শরীফ ভাই ভালো ফল করতে পারেন, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”

     

    দৃষ্টিহীন শরীফ বলেন, “আমার দৃষ্টি ফেরাতে মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি পড়ালেখা করে চাকরি করতে চাই, যাতে তাদের নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারি।”

     

    কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, “পরীক্ষায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।”

     

    জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার জানান, জেলায় এ বছর ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

     

    ঠাকুরগাঁও জেলায় এবছর ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে এসএসসিতে ১৭ হাজার ৮৩৩ জন, ৮টি কেন্দ্রে দাখিলে ৩ হাজার ২২৫ জন এবং ৮টি কেন্দ্রে কারিগরি শাখায় ১ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাড়ী থেকে মাদকসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাড়ী থেকে মাদকসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

    রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ

    ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক বিরোধী অভিযানে হুমায়ুন কবির (৩৬) ও তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা (৩৫) দম্পতিকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে এস আই আবু সাঈদ এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের খঁলিশাকুড়ি পোস্ট অফিস এলাকায় নিজ বাড়ী থেকে ২৬পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়।

    আটককৃত হুমায়ুন কবির (৩৬) দেবীপুর ইউনিয়নের খঁলিশাকুড়ি পোস্টঅফিস গ্রামের মৃত. গাজী মঈনউদ্দীন সরকারের ছেলে ও হুমায়ুনের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা তারা দুইজনেই মাদককারবারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী করে আসছে। মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

    রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা

    ০১৭৪০৮৬১০৮০

  • নরসিংদীতে কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে হত্যা: আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনমনে আতঙ্ক

    নরসিংদীতে কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে হত্যা: আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনমনে আতঙ্ক

    নরসিংদী থেকে (বাবুল মিয়া)

    নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়কের ৫নং ব্রিজের পাশে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মজিবুর (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

    ​ঘটনার বিবরণ

    ​নিহত মজিবুর মাধবদীর কালীবাড়ী এলাকার ‘আনোয়ার ডাইং’-এর কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানা মাধবদীর বিরামপুর সংলগ্ন বাহাদুরপুর এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে পৌরসভার ময়লার স্তূপের পাশে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

    ​জানা যায়

    ​ এক সিএনজি চালক তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পরপরই ওই চালক দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ​নরসিংদী-মদনগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে প্রতিনিয়ত:

    ​ডাকাতি ও ছিনতাই

    ​চুরি ও সন্ত্রাসী হামলা

    ​অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা

    ​এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নরসিংদী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সড়কে স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন।