সৈয়দ জালিস মাহমুদ বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়ায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট এবং মাছের ঘের দখলের অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন, মোঃ সুজা বিশ্বাস, মোঃ শান্ত বিশ্বাস, মোঃ জিহাদ বিশ্বাস, মোঃ বিপ্লব বিশ্বাস, মোঃ শামছু বিশ্বাস, মোঃ আলামিন বিশ্বাস, মোঃ জাহান আলী বিশ্বাস ও মোঃ মেহেদী বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন।
মামলার বাদী পলাশী ইয়াসমিন (৫৫), কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রে মুলহোতা সুজা বিশ্বাস ও শান্ত বিশ্বাস এদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে প্রধান আসামির নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এসময় আসামিরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া আসামিরা টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, খাটসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
ঘটনার পর আসামিরা বাদীর স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহর মালিকানাধীন ৬টি মাছের ঘের দখল করে নেয়। ওই ঘেরে রুই, কাতলা, কোরালসহ গলদা, বাগদা চিংড়ি মাছ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীদের
মামলার আসামি সুজা বিশ্বাস অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখখুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এমনকি প্রাণনাশের ভয়ে মামলার বাদী ও তার স্বামী ১ নং সাক্ষী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহ তার পরিবারসহ এবং মামলার তিন নাম্বার সাক্ষী মোঃ শাহিন (কলি) এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আসামিরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বসতভিটায় গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাদীর আনুমানিক ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী ৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে বাদী অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।
এ মামলায় ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।






