Author: MD SHAHNEWAZ

  • বাগেরহাটে বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও মাছের ঘের দখল করার অভিযোগে আদালতে মামলা

    বাগেরহাটে বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও মাছের ঘের দখল করার অভিযোগে আদালতে মামলা

    সৈয়দ জালিস মাহমুদ  বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

     

    বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়ায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট এবং মাছের ঘের দখলের অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

     

    আসামিরা হলেন, মোঃ সুজা বিশ্বাস, মোঃ শান্ত বিশ্বাস, মোঃ জিহাদ বিশ্বাস, মোঃ বিপ্লব বিশ্বাস, মোঃ শামছু বিশ্বাস, মোঃ আলামিন বিশ্বাস, মোঃ জাহান আলী বিশ্বাস ও মোঃ মেহেদী বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন।

     

    মামলার বাদী পলাশী ইয়াসমিন (৫৫), কার্তিকদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রে মুলহোতা সুজা বিশ্বাস ও শান্ত বিশ্বাস এদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিল।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে প্রধান আসামির নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

    এসময় আসামিরা ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

     

    এছাড়া আসামিরা টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, খাটসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

     

    ঘটনার পর আসামিরা বাদীর স্বামী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহর মালিকানাধীন ৬টি মাছের ঘের দখল করে নেয়। ওই ঘেরে রুই, কাতলা, কোরালসহ গলদা, বাগদা চিংড়ি মাছ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাকারীদের

     

    মামলার আসামি সুজা বিশ্বাস অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখখুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এমনকি প্রাণনাশের ভয়ে মামলার বাদী ও তার স্বামী ১ নং সাক্ষী মল্লিক আবু তাহের উল্লাহ তার পরিবারসহ এবং মামলার তিন নাম্বার সাক্ষী মোঃ শাহিন (কলি) এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

     

    চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আসামিরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বসতভিটায় গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে বাদীর আনুমানিক ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

     

    মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    আগামী ৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

     

    অপরদিকে বাদী অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।

    এ মামলায় ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং স্থানীয় আরও অনেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

    ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    গোবিন্দগঞ্জে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি (শ্রী উজ্জ্বল চন্দ্র দেবনাথ):

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ রাসেল হোসেন রানা (২৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জ থানার একটি টিম রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বুজরুক বোয়ালিয়া এলাকায় চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনাকালে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের একটি বাস থামিয়ে তল্লাশি করা হলে বাসের লকারে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে বিশেষ কৌশলে মোড়ানো ৫ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই বাসের যাত্রী রাসেল হোসেন রানাকে আটক করা হয়। তিনি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি কুড়িগ্রাম থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-২৮/২০২৬)। তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

  • ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়: বগুড়া পৌরসভা হচ্ছে সিটি করপোরেশন

    ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়: বগুড়া পৌরসভা হচ্ছে সিটি করপোরেশন

    আশরাফুদ্দীন আল আজাদ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৫০ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে আজ সোমবার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এজন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এটি হতে যাচ্ছে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। একই সঙ্গে মহানগরী হিসেবেও বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার কর্মকর্তারা।

    জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালে বগুড়াকে জেলা ঘোষণার পর শহর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ১৮৬৯ সালে বগুড়া টাউন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক ডব্লিউ ওয়াভেল। ওই কমিটি সাত বছর চলার পর ১৮৭৬ সালের জুলাইয়ে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে বগুড়া মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করা হয়। তখন বগুড়া পৌরসভার আয়তন ছিল ১ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার। প্রথম প্রশাসক ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জো হোয়াইটম্যান। দীর্ঘ সময় পর ১৯৮১ সালের আগস্টে তৎকালীন সরকার বগুড়া মিউনিসিপ্যালিটির আয়তন বৃদ্ধি করে ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার করে। একে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করে ওয়ার্ডসংখ্যা ৯ থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হয়।
    বিজ্ঞাপন

    পৌরসভা গঠনের প্রায় ১৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১১টি পৌরসভা বিভিন্ন সরকারের আমলে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। কিন্তু অবহেলিত ছিল উত্তর জনপদের গেটওয়ে বগুড়া। দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি। আয়তন, জনসংখ্যা, নিজস্ব রাজস্ব আয়সহ সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের সব শর্ত বা যোগ্যতা থাকার পরও সিটি করপোরেশন করা হয়নি। এজন্য বিগত আওয়ামী সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন জেলাবাসী।
    সবশেষ ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের আমলে পৌরসভার চারপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে সময় ১২ ওয়ার্ড থেকে ২১ ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা। ২১ ওয়ার্ডে আনুমানিক সাত লাখ লোকের বসবাস।
    বগুড়া পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ও বিএনপির সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান বলেন, পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সে সময়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় বগুড়া পৌরসভা আর সিটি করপোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বারবার সিটি করপোরেশনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
    গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করে। কিন্তু বগুড়া দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হলেও তা পৌরসভাই ছিল। অথচ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার শর্ত অনেক আগেই পূরণ করেছে বগুড়া। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বগুড়া সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন বগুড়ার সুশীল সমাজ।
    জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
    গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে সেটিও হয়নি।
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেনের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
    এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত নোটিসে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রাক-নিকার সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।
    বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু এবং জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তারেক রহমানের হাত ধরে বগুড়া একটি মডেল সিটি করপোরেশন হবে ।

  • চিত্রা নদীতে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের লাশ উদ্ধার

    চিত্রা নদীতে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের লাশ উদ্ধার

    কামরুল ইসলাম তেরখাদা প্রতিনিধ।

    খুলনা জেলার তেরখাদা চিত্রা নদীতে গত ১৮/০৪/২০২৬ইং শনিবার আনুমানিক দুপুর ১ঃ৩০ মিনিট গোসলের উদ্দেশ্যে নদীর কূলে গাছ থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের ( ১৭ )লাশ অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল। হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন, খুলনা থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কারী দল এবং স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার কাজ পরিচালিত হয় এ সময় নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করছিল । অবশেষে আজ রবিবার ৯:৩০ মিনিট তেরখাদা বেলি ব্রিজের নিকট থেকে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। সে তেরখাদা উপজেলা উত্তরপাড়ার ইউনুস সেখের নাতি। মাতা পিতা বঞ্চিত ছেলেটি শিশুকাল থেকেই তার নানার কাছে মানুষ হচ্ছিল। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • পুকুরে বিষ দিয়ে ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধন

    পুকুরে বিষ দিয়ে ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধন

    মো: গোলাম কিবরিয়া

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

     

     

    রাজশাহীর বাগমারায় সোহেল রানা নামে পলাতক এক যুবলীগ নেতার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মহল্লায় ওই পুকুরে রুই, কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছ মরে ভেসে ওঠে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা।

     

     

    সোহেল রানা তাহেরপুর পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নুরপুর মহল্লার বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। এর আগে গত ২১ মার্চ ঈদের রাতে তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার তৈরী ‘সিক্সস্টার’ বাহিনীর ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে সোহেল রানার বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের ১২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জন্য তিনি পালিয়ে থাকার কারণে তাঁর স্বজনেরা পুকুরটি দেখাশোনা করছিলেন। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে কোনো পাহারাদার ছিল না।

     

     

    পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে সোহেল রানা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর কয়েকটি পুকুর বেদখল হয়ে যায়। বাড়ির কাছের পুকুরটি তাঁর স্বজনেরা দেখাশোনা করে আসছেন। হুমকির কারণে পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি। কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, তা জানতে পারেননি। এ বিষয়ে থানায় মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি ।

    এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

  • নওগাঁয় দেশীয় অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

    নওগাঁয় দেশীয় অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

    মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু , জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ :

     

    নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় সাম্প্রতিক মারামারি ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও নওগাঁ সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

     

    গত ১৯ এপ্রিল রাতে শুরু হওয়া এ অভিযান আজ দিনব্যাপী পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সুলতানপুর জেলে পাড়ার বাসিন্দা মোঃ সোহাগ হোসেন (৩০), মোঃ শাহীন আলম (২৭) ও মোঃ ওসমান গনি ওরফে রনি (২৭)।

     

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে সহিংসতায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রামদা, কিরিচ, হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, বড় ছোরা, লোহার পাইপ ও রড।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছিল তারা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে।

     

    পুলিশ আরও জানায়, ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

     

    এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলার যেকোনো স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

  • সোনা মসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাক সহ প্রায় ৬০০০ বোতল মাদক সিরাপ জব্দ

    সোনা মসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাক সহ প্রায় ৬০০০ বোতল মাদক সিরাপ জব্দ

    ​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাথর বোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাকসহ ৫,৯৩৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি।

    ​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক সেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি চৌকস টহল দল এই অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ১৮৫/২-এস হতে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামস্থ ‘আলম ট্রেডার্স’ এর স্টোন ইয়ার্ডে পার্কিং করা একটি ভারতীয় ট্রাকে (WB65-D-8924) তল্লাশি চালানো হয়।

    ​তল্লাশিকালে ট্রাকের পাথরের স্তূপের নিচে বিশেষভাবে ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২০টি বস্তা পাওয়া যায়। বস্তাগুলো থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

    ​উদ্ধারকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে:

    ​Eskuf DX সিরাপ: ৩,৮৯৭ বোতল

    ​Fairdyl সিরাপ: ২,০৩৮ বোতল

    ​মোট: ৫,৯৩৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ।

    ​মাদক বহনের দায়ে পাথরসহ ভারতীয় ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় ট্রাকের চালক উপস্থিত না থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জব্দকৃত মালামাল ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    ​এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দেশের যুবসমাজ ও আগামী প্রজন্মকে মাদকের মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর।