রিপোর্টার
মোঃ আলমগীর হোসেন
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ২ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তারা সরাসরি যোগাযোগ, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। এতে করে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।
মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, মিজমিজি পশ্চিমপাড়া, কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া ও সানাড়পাড়া রহিম মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীকে ঘিরে চলছে জোর আলোচনা। তাদের মধ্যে বিএনপির দুইজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী রয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন (ভেন্ডার)—যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠ রাজনীতি ও জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে ওয়ার্ডবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন।
এছাড়াও রয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, যিনি অতীত অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে আবারও আলোচনায় রয়েছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. জামাল হোসাইন-ও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন (ভেন্ডার) বলেন,
“আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়—চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়াই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে জনসেবায় উৎসর্গ করবো।
সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বলেন,
এই ওয়ার্ডের মানুষ আমাকে দুবার তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সবসময় তাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ, জনগণ এবারও তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. জামাল হোসাইন বলেন,
“আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দলীয় সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের অপসারণের পর থেকে ২ নং ওয়ার্ডে নাগরিক সেবায় কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালিত হলেও প্রত্যাশিত সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ২৩ হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডে এবার যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রত্যাশা সবার মাঝে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে জমে উঠতে যাচ্ছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।









