Author: Masum Ibn Musa

  • রেহাই পেলনা মৃত হাতি- রাতের আঁধারে দেহে দুর্বৃত্তদের থাবা উধাও পা,শুঁড় ও দাত

    রেহাই পেলনা মৃত হাতি- রাতের আঁধারে দেহে দুর্বৃত্তদের থাবা উধাও পা,শুঁড় ও দাত

    এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার

    রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর মারা যাওয়া বন্য হাতিটির দেহও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেল না।
    মৃত্যুর এক রাত না পোহাতেই দুর্বৃত্তরা হাতিটির একটি পা (রান), শুঁড় ও দাঁত কেটে নিয়ে যায় ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার(২৬ এপ্রিল) ২৬ খ্রিঃ
    সকালে লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় মারা যায় প্রায় ৬০ বছর বয়সী হাতিটি।
    বন বিভাগ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটে।
    সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাটা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
    ঘটনার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো বন্যপ্রাণীর কাজ নয়,পরিকল্পিতভাবে মানুষের হাতেই এমন নৃশংসতা ঘটেছে।
    এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

    বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত রাতে স্ত্রী হাতিটি বনে ফিরে গেলে মৃতদেহটি একা পড়ে ছিল। এই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে হাতিটির শুঁড় ও একটি পেছনের পা কেটে নিয়ে যায়। বন বিভাগের প্রহরী সকালে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, একজন প্রহরীর পক্ষে শত শত মানুষকে সামলানো সম্ভব নয়। রাতে নিরাপত্তার কারণে প্রহরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়। আমরা তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

    একদিকে জীবিত অবস্থায় বাঁচানো গেল না, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও মিলল না সম্মান,লোভের কাছে আবারও হেরে গেল এক নিরীহ বন্যপ্রাণী।

  • বাঁশখালীর নিখোঁজ ৫ যুবকের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন

    বাঁশখালীর নিখোঁজ ৫ যুবকের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন

    রিপোর্টার: মোনতাহেরুল হক আমিন : বাঁশখালী প্রতিনিধি।

    #অভিযুক্ত দালালদের বিচার দাবি
    #নিখোঁজের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও দালালদের গ্রেপ্তার নেই

    বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ
    সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ বাঁশখালীর ৫ যুবকের সন্ধান ও অভিযুক্ত মানবপাচারকারী দালালদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

    বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের ফজুল্লা কাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক গ্রামবাসী ও নিখোঁজ যুবকদের স্বজনরা অংশ নেন। এসময় এলাকাবাসী ও স্বজনরা অভিযুক্ত মানবপাচারকারী দালাল জসীম উদ্দিন ও আবদুল্লাহর শাস্তি দাবি করেন।

    উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের নিখোঁজ ৫ যুবক হলেন—নজির আহমদের ছেলে মো. রুবেল (৩৩), আবদুর রহমানের ছেলে মো. ওসমান গণী (১৮), জাফর আলমের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (২৫), তৈয়ম দুলালের ছেলে আজিজ (২৮) এবং মখছুদ আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক (২৩)।

    স্থানীয়রা জানান, পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের মো. আপনের ছেলে আবদুল্লাহ এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জসীম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে প্রতারণা করে আসছে। গ্রামের বেকার যুবকরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

    মধ্যম শিয়াপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে ওসমান গনী মাস্টার নজির আহমদ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তো। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকেও মালেশিয়া নিয়ে যান প্রতারক চক্রের সদস্য জসীম উদ্দিন।

    মানববন্ধনে স্বজনরা অভিযোগ করেন, দালাল চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে বিপজ্জনক এ যাত্রায় পাঠায়। নিখোঁজের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি তাদের খোঁজ মেলেনি।

    কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন নিখোঁজ জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক। মানববন্ধনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা খতিজা বেগম। জামাল উদ্দিনের পিতা মকছুদ আলম বলেন, দালালরা প্রথমে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে। পরে থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। এরপর মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নাম করে আবারও টাকা নেওয়া হয়। কাজের সুযোগের কথা বলে তার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, ট্রলারটি সাগরে ডুবে গেছে। কিন্তু এখনো ছেলের কোনো সন্ধান পাননি।

    নিখোঁজ মো. বেলালের স্ত্রী তাসমিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী অটোরিকশা চালাতেন। সুখেই চলছিল ঘর-সংসার। ১ এপ্রিল লোভনীয় অফার দিয়ে আমার স্বামীকে মানবপাচারকারী দালাল জসীম গাড়িতে করে টেকনাফ নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার স্বামীকে রিসিভ করেন আরেক মানবপাচারকারী দালাল আবদুল্লাহ।

    তিনি বলেন, মানবপাচারকারী দালাল জসীম আমার ৯ বছরের সুখের সংসারের সর্বনাশ করলো। ওরা আমার প্রতিবেশী হয়ে কেমনে এই অবিচার করতে পারলো বুঝে উঠতে পারছি না। এখন আমার এক কন্যা আর এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে কার কাছে যাবো? আমি অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। আমাদের একটা ভাই নেই।

    পেশায় জেলে ছিলেন তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক আজিজুর রহমান। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার স্ত্রী তছলিমা বেগম। নিখোঁজ আজিজের বড় ভাই আনিস বলেন, আমার ভাই আমাকে টেকনাফ গিয়ে ফোনে বলে, ভাই আমি চলে যাচ্ছি মালেশিয়া। আমার জন্য দোয়া করবেন। তখন আমি বললাম, তোকে কে নিয়ে গেছে? তখন সে বললো, ‘আমাকে আবদুল্লাহ আর জসীম নিয়ে এসেছে। আমাকে বোটে তুলে দিয়ে ওরা চলে গেছে। আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে ওরা।’

    বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি নৌকা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এমটি মেঘনা প্রাইড জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের জাহাজে হস্তান্তর করে। বিপদগ্রস্ত নৌকায় অন্তত ২৮০ জন যাত্রী ছিল।

    পুলিশ ও উদ্ধারপ্রাপ্তদের বরাতে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে থাকা একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। পরে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কয়েকদিন পর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

    বেঁচে ফেরা একাধিক যাত্রীর ভাষ্য, ট্রলারে নারী-শিশুসহ প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর তারা পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

    অন্যদিকে, কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড এবং টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’-তে স্থানান্তর করা হয়।

  • ফুলবাড়িতে প্রাণ বঙ্গমিলার্স এর উদ্যোগে বিশ্বমানের লম্বা সুগন্ধি বাসমতি ধান চাষে সাফল্য, পরিদর্শনে জেলা কৃষিবিদ

    ফুলবাড়িতে প্রাণ বঙ্গমিলার্স এর উদ্যোগে বিশ্বমানের লম্বা সুগন্ধি বাসমতি ধান চাষে সাফল্য, পরিদর্শনে জেলা কৃষিবিদ

    মোঃ আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার

    শস্য ভান্ডার দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে প্রাণ বঙ্গমিলার্স এর উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বাসমতী ও লম্বা-চিকন বা সরু চালের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের গবেষণা কার্য্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জলবায়ুতে মানানসই বাসমতি জাতের ধান চাষআবাদের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন সম্ভব।
    ​বাসমতী (পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান): বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সুগন্ধি চাল।
    ব্ল্যাক রাইস (ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া): ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এর রঙ গাঢ় বেগুনি-কালো এবং খেতে বাদামের মতো সুস্বাদু।
    স্থানীয় কাটারী: আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় উত্তরাঞ্চলের প্রিমিয়াম চিকন চাল।
    বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত ব্রিধান ৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪, ও বাংলামতি
    ২ টি মোটা স্থানীয় জাত নিয়ে প্রাণবঙ্গ মিলার ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি বঙ্গমিলারের তত্ত্বাবধানে পুষ্টিগণ সমৃদ্ধ সুস্বাদু ও জনপ্রিয় বাসমতি ও সরুচালের উৎপাদন বৃদ্ধির পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

    ​প্রাণ বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড বিদেশ থেকে দামী বাসমতী আমদানি না করে দেশেই বিশ্বমানের দীর্ঘ-সরু ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ব্ল্যাক রাইস এবং কাটারী উৎপাদনের মাধ্যমে চালের বাজারে নতুন বিপ্লব আনতে কাজ করছে। এই প্রচেষ্টা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আমরা এমন একটি ‘ভ্যালু চেইন’ তৈরির চেষ্টা করছি যেখানে কৃষক ফসলের প্রিমিয়াম দাম পাবেন এবং ভোক্তারা দেশেই পাবেন বিশ্বমানের বাসমতী ও স্বাস্থ্যকর ব্ল্যাক রাইস।

    ২২ এপ্রিল ( বুধবার) বেলা ১১ টায় বাসমতি, লম্বা বা সরু ধানের প্রদশনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জাফর ইকবাল কৃষিবিদ মো: গফ্ফার আল- হাদী, ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন।

    এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাণ কোম্পানির মহা-ব্যবস্থাপক মো: জাকারিয়া হোসেন, কৃষিবীদ মো: নওশাদ হোসেন, মো: আকিনুজ্জামান, ধীমান রায়, মো: রোমানুর রহমান, মো: উজ্জল খলিফা, মো: রায়হানুল সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ।

  • গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রেমিক-প্রেমিকা জনতার হাতে আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রেমিক-প্রেমিকা জনতার হাতে আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য

    মোঃ জিয়াউর রহমান, মফস্বল সম্পাদক রংপুর, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    সাদুল্লাপুর উপজেলা এ এক প্রেমিক প্রেমিকাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের হাতে তাদের আটকের খবর এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলা-এর কুপতলা ইউনিয়নের দুগাপুর গ্রামের আনছার আলীর ছেলে মোঃ রাব্বি মিয়া এবং দামেরদারপুর ইউনিয়ন-এর কিশামত বড়বাড়ি এলাকার ফারুকের মেয়ে ফারজানাকে একটি নির্জন স্থানে একসঙ্গে দেখতে পান এলাকাবাসী। সন্দেহের ভিত্তিতে তারা এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে জনতা ওই যুগলকে আটক করে।
    ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশের দাবি, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এভাবে জনতার হস্তক্ষেপ অনুচিত এবং এতে ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
    এ ধরনের ঘটনা সমাজে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনানুগ পন্থা অনুসরণ করা জরুরি।

  • নিরাপদ সমাজ গঠনে শ্রীপুর থানায় সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    নিরাপদ সমাজ গঠনে শ্রীপুর থানায় সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    মোঃ জুয়েল রানা, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সমগ্র বাংলাদেশ, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার আয়োজনে মাদক, ইভটিজিং, দাঙ্গা ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ মিরাজুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব দীপংকর ঘোষ।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন অফিসার ইনচার্জ, শ্রীপুর থানা।

    পুলিশ সুপার মহোদয় তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ একা নয়, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে।

    এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে মাগুরা জেলা পুলিশ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা: রিমান্ডে মিলছে পরিকল্পনার তথ্য, জড়িতদের ধরতে জোর অভিযান

    মোল্লাহাটে সোহাগ হত্যা: রিমান্ডে মিলছে পরিকল্পনার তথ্য, জড়িতদের ধরতে জোর অভিযান

    আল হাফিজ শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আলোচিত সোহাগ শেখ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।
    গত ১৪ মার্চ শনিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে মোল্লাহাট বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহাগ শেখ। পথে পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ৭ মার্চ রাতে সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর ইসলাম (২৭) একই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।

    এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ইয়াসিন বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল পুলিশ বাপ্পী মল্লিক ওরফে ‘ব্ল্যাক বাপ্পী’ (৩২) নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পূর্বে ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

    শুক্রবার ও শনিবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী মল্লিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ভাষ্যমতে, সোহাগ শেখের বোন হত্যা মামলার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ওই মামলায় সোহাগ বাদী ছিলেন এবং তার ভগ্নিপতি মাহামুদ শিকদার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৬ সালের একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন মাহামুদের সঙ্গে বাপ্পীর পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে মোট পাঁচজন অংশ নেন। বাপ্পী নিজে একটি মোটরসাইকেলে একা ছিলেন এবং তিনি গুলি করেননি বলে দাবি করেছেন। অন্য দুটি মোটরসাইকেলে চারজন ছিলেন, যাদের মধ্যে দুজন সোহাগকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার পর সবাই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক আরো জানান, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য, পূর্বের হামলার সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

    এদিকে, ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সকল আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার রহস্য উদঘাটনে তারা আশাবাদী এবং শিগগিরই পুরো ঘটনার চিত্র স্পষ্ট হবে।

  • সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের  গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

    মোঃ ইয়াছিন আলী রিপোর্টার (সিরাজগঞ্জ) :

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগড় ইউনিয়নের ক্ষিরতলা গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শান্ত কুমার তেলী (১৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে একটি বাগানে ইউক্যালিপটাস গাছের ডালের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।

    নিহত শান্ত কুমার তেলী ওই গ্রামের স্বদেশ চন্দ্র তেলীর বড় ছেলে। পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, ভোরে তাকে শয়নকক্ষে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বাগানে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • মাদারীপুরে ৬ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

    মাদারীপুরে ৬ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট

    মোঃ আলী শেখ, স্টাফ রিপোর্টার :

    মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় নগদ টাকাসহ কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। এই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছে সংবদ্ধ ডাকাত দল।
    মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে মাদারীপুরে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় নগদ টাকাসহ কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। এই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।

    আজ শনিবার ভোর রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের হাউসদী বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে।

    মাদারীপুর পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার ভোর রাতে সদর উপজেলার হাউসদী বাজারের স্বর্ণকার পট্টিতে মুখোশধারী একদল ডাকাত নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স নামের একটি দোকান তালা কেটে প্রথমে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এসময় বাজারে মিলন মোল্লা নামের এক রাজমিস্ত্রি রাত্রিকালীন (নাইট শিফট) রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। বিষয়টি তিনি দেখতে পেলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে বেঁধে রেখে পাশের আরও একটি মুদি দোকানসহ আরও ৫টি স্বর্ণের দোকানে একই ভাবে দোকানের আলমারি ও ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানার একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে

    ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স, নিউ নারায়ন জুয়েলার্স, ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স, নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স, নিউ কণিকা জুয়েলার্স, মা লক্ষ্মী জুয়েলার্স ও মুদি দোকান জিয়া স্টোর।

    ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের মালিক সেন্টু মাল বলেন, ‘আমার দোকানে ৩০ ভরি স্বর্ণ,  ৫০০ ভরি রূপা ছিল এবং প্রায় এক লাখ টাকা ক্যাশ বাক্সে ছিল। সবই ডাকাতি করে লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কোনো শক্তি এখন আর আমার নেই। আমি এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    একই ধরনের কথা বললেন অন্য ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরাও।

    এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হাউসদী বাজারের কয়েকটি স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গুরুত্বসহকারে এই ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং ও নাগরিক ভোগান্তি

    জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং ও নাগরিক ভোগান্তি

    এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

    জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জেলার ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। এতে তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
    এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। ফলে তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।
    পিডিবির তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য।
    শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শূন্যের কোঠায় ছিল। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্র সকাল-সন্ধ্যা উভয় সময়ই বন্ধ ছিল। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।
    বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
    এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে নগর ও গ্রামে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এবং উপজেলার অনেক স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি পানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।
    নগরীর বাকলিয়া রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম বলেন, বৈশাখের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও অফিসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করার দাবি জানান।
    চট্টগ্রাম সরঃ কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাহিল জানায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বাসা ও স্কুল—উভয় জায়গাতেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
    পিডিবির চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।

  • ফুটপাত উচ্ছেদে সরকারের ব্যর্থতার আভাস।

    ফুটপাত উচ্ছেদে সরকারের ব্যর্থতার আভাস।

    প্রতিবেদক সাংবাদিক:”কাজী ফাহিম

    সকালবেলা অভিযান, বিকেলে আবার দখল
    ফুটপাত উচ্ছেদ কি শুধু লোক দেখানো?
    রাজধানীর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। পতিদিন হকার উচ্ছেদ, দোকানপাট সরানো সবই হচ্ছে নিয়মমাফিক।
    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই অভিযান কতটা বাস্তবসম্মত?
    কারণ, সকাল গড়াতেই যে ফুটপাত ফাঁকা করা হয়, বিকাল নামলেই সেখানে আবার বসে পড়ে হকাররা।
    একই জায়গা, একই দৃশ্য শুধু সময়টাই বদলায়।
    পথচারীরা বলছেন,ফুটপাত দিয়ে হাঁটা তো দূরের কথা, আমাদের রাস্তায় নেমে চলতে হয়।”
    ফলে বাড়ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
    অন্যদিকে, হকারদের কথাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
    তাদের ভাষায়“আমরা কোথায় যাব? পেট তো চালাতে হবে।”
    এই বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে সমস্যাটা শুধু উচ্ছেদ নয়, সমস্যাটা পরিকল্পনার।
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন না হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করা হচ্ছে, ততদিন এই উচ্ছেদ অভিযান কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না।
    বরং তৈরি হবে এক অদ্ভুত চক্র
    উচ্ছেদ, আবার দখল…
    উচ্ছেদ, আবার দখল…
    তাহলে প্রশ্ন উঠছে
    সরকার কি সত্যিই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারবে?
    নাকি এই অভিযান কেবলই সাময়িক প্রদর্শনী?
    সমাধান কোথায়
    উচ্ছেদে, নাকি পরিকল্পনায়?