মোঃ আইনুল ইসলাম
বিভাগীয় সম্পাদক,
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।
দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পুনর্মিলনীতে আবেগঘন দিনব্যাপী আয়োজন।
“সময় মানুষকে দূরে নিয়ে যায়,
কিন্তু স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনে পুরনো ঠিকানায়। বন্ধুত্বের সেই বেঞ্চ, স্কুলের সেই মাঠ, ঈদের আনন্দে আজও বেঁচে থাকে হৃদয়ের গভীর পাতায়।” ঐতিহ্য, স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মুখর হয়ে উঠেছিল দেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ। ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত “ঈদ পুনর্মিলনী–২০২৬”।
শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) দিনাজপুর জিলা স্কুলের কবি কাজী কাদের নেওয়াজ অডিটোরিয়ামে (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক) আয়োজিত এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজন্মের প্রাক্তন ছাত্রদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় পুরো ক্যাম্পাস। ১৯৬২ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বর্তমান পরীক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি ও দিনাজপুর-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব পিনাক চৌধুরী এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আহমেদ আজাদসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলী এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা।
প্রাক্তন ছাত্র মঞ্জুরুল হক সোহাগের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ শাহীন পারভেজ (১৯৯৫ ব্যাচ), যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল ইসলাম (১৯৯৫ ব্যাচ), মোঃ রুস্তম এ জামান (১৯৮০ ব্যাচ), ফারুক সুমন (২০০০ ব্যাচ), প্রতীক, সোয়েব, সোহাগসহ বিভিন্ন ব্যাচের সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আহ্বায়ক মোঃ শাহীন পারভেজ বলেন, “দিনাজপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের আবেগ, শেকড় ও আত্মার একটি অংশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই আয়োজন। আমরা চাই ভবিষ্যতেও এই বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক এবং নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে ধারণ করুক।”
যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বহু বছর পর এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলন সত্যিই অসাধারণ অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই পুনর্মিলনী প্রমাণ করেছে— সময়ের ব্যবধান যতই হোক, দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রতি ভালোবাসা কখনো ম্লান হয় না।”
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিন পর পুরনো সহপাঠীদের একসঙ্গে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। কেউ স্মরণ করেছেন স্কুল জীবনের দুষ্টুমি, কেউবা ফিরে গেছেন জীবনের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিতে।
বক্তারা বলেন, দিনাজপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আবেগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তোলার আলোকবর্তিকা। এ ধরনের আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল শেকড়ে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন আহ্বান। পুরনো দিনের স্মৃতি, প্রিয় বন্ধুদের হাসিমাখা মুখ আর বিদ্যালয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মিলিয়ে দিনাজপুর জিলা স্কুল পরিবারের কাছে দিনটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য ও স্মরণীয় মিলনমেলা।