Blog

  • কটিয়াদীতে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কটিয়াদীতে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    আজাদ রহমান মিশর

    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

     

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে হামিম (১২) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হামিম কটিয়াদী পৌর এলাকার চড়িয়াকোনা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ুনের ছেলে। সে কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তারা সপরিবারে উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ভোগপাড়া মহল্লায় বসবাস করতেন।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে হামিম তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে যায়। অন্য বন্ধুরা পানি থেকে উঠে এলেও হামিমকে দীর্ঘক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সহপাঠীদের চিৎকারে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের জানানো হয়। পরে আনসার সদস্যরা দ্রুত পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে হামিমকে উদ্ধার করেন।

    উদ্ধারের পর তাকে তাৎক্ষণিক কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মুখলেসুর রহমান সোহান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, একই স্থানে ইতিপূর্বেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ইমন মিয়া (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এই পুকুরেই নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মাঝে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

  • ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযান ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ।

    ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযান ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ।


    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়ের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে।

    ​আজ শনিবার (০৯ মে, ২০২৬) সকাল ০৮:৩০ থেকে ০৯:০০ ঘটিকার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন মিরাপুর (পিড়ালপুকুর) গ্রামস্থ এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির একটি চৌকস দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে হাতেনাতে আটক করে।

    ​গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোসাঃ শিউলি আক্তার মদিনা (৪২)। তিনি গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মিরাপুর (পিড়ালপুকুর) গ্রামের মৃত তাহিরের মেয়ে।

    ​অভিযানকালে আসামির হেফাজত থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৭০০ (সাতশত) গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    ​এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
    ​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সিলেটে সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি, কোতোয়ালি থানায় জিডি

    সিলেটে সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি, কোতোয়ালি থানায় জিডি

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

     

    সিলেট নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন এলাকায় মো. সোহাগ মিয়া (৪২) নামের এক সংবাদকর্মীকে পথরোধ করে লাঞ্ছিত ও পরবর্তীতে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পন্ন করেছেন। যার নম্বর- ৬৯৯, তারিখ: ০৮/০৫/২০২৬।

    জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় সংবাদকর্মী সোহাগ মিয়া পায়ে হেঁটে কুয়ারপাড় পয়েন্ট দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এসময় বিবাদী আমির (২৫) এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন সহযোগী একটি মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ করে। তারা সোহাগ মিয়ার পরিচিত মিজান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির কলার ধরে টানাটানি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। সংবাদকর্মী সোহাগ মিয়া এগিয়ে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করলে বিবাদীরা তাকেও হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    ঘটনার পরদিন ৮ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪:১৬ ঘটিকায় বিবাদী আমির তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে সোহাগ মিয়ার ব্যক্তিগত নম্বরে কল করে। ফোনে বিবাদী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং থানায় অভিযোগ দেওয়ার কারণে প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি প্রদান করে।

    ভুক্তভোগী সোহাগ মিয়া জানান, বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এবং বিবাদীরা যেকোনো সময় তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

    এই বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এসআই (নিরস্ত্র) খলিল আহমদ চৌধুরীকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ফরিদপুর সোনার দোকানে চুরি করে পালানোর সময় ৩ চোর আটক 

    ফরিদপুর সোনার দোকানে চুরি করে পালানোর সময় ৩ চোর আটক 

    পাবনা জেলা প্রতিনিধি।

     

    পাবনার ফরিদপুরের বনওয়ারীনগর বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে সোনা চুরি করে পালানোর পথে ডেমড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে পুলিশের হাতে ৩ চোর আটক হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ২.৫ ভরি স্বর্ণ ও ৩৭ ভরি রুপা,কাটার মেশিন ও দোকানের তালা উদ্ধার করা হয়েছে।

     

    ধৃত চোর হলো,কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সাপাপুর গ্রামের মালেকের পুত্র ফারুক (২৯), দেবিদ্বার উপজেলার পানারপুর গ্রামের মতি মিয়া সরকারে পুত্র ওমর ফারুক সরকার(২৫) ও দেবীদ্বার উপজেলার কিনাইয়া গোপালপুর গ্রামের তবদল ওরফে মোহন মিয়ার পুত্র জয়নাল চৌধুরী(৩৫)।

     

    ফরিদপুর থানার ওসি মোঃ ফয়েজ উদ্দিন জানান, বড় একটা সিন্ডিকেট চোর চক্রের সদস্য ধৃত চোরেরা গতকাল শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টার সময় বনওয়ারীনগর বাজারের বিপ্লব কর্মকার কান্টুর স্বর্ণের দোকানের তালা কেটে উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও রুপা চুরি করে নিয়ে সিএনজি করে পালানোর সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডেমড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌছিলে সিএনজি চালকের সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার করলে আশপাশে থাকা টহল পুলিশ এসে চোরদের ধরে ফেলে। এ ঘটনায় থানায় ৪/২৬ নম্বর একটি চুরির মামলা হয়েছে। জেল হাজতে পাঠানো হবে।

     

    উল্লেখ্যঃ সম্প্রতি চাটমোহর পৌর সদরের স্বর্ণকার পট্টিতে ছয়জনের একটি চোরের দল তালা কেটে একটি সোনার দোকান থেকে চার ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে।

  • সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া 

    সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া 

    মোল্লা এমরান আলী রানা নাটোর প্রতিনিধি

    নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব গোলাম কিবরিয়া।

     

    শনিবার (০৯ মে) দুপুর ১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত অবস্থা, রোগীদের সেবার মান, চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিদর্শন করেন তিনি।

     

    এসময় নাটোর সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

     

    পরিদর্শনকালে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চলমান সেবা কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ফাঁকা জায়গা পরিস্কার করে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ফুল গাছ রোপণ করার জন্য বলেন উপ-সচিব।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে ভোর রাতের অভিযানে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

    ঠাকুরগাঁওয়ে ভোর রাতের অভিযানে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

    রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ

     

    ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী থানার পূর্ব শুখানপুকুরী (তল্লিপাড়া) এলাকায় শনিবার (৯মে) ভোররাতে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূল্লী থানা পুলিশ, পূর্ব শুখানপুকুরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১নং আসামির নিজ বসতবাড়িতে মাদক বিক্রির সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে আনারুল ইসলামের হেফাজত থেকে ১৭ পিস, আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৮ পিস এবং হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট পরিমাণ ৩৩ পিস।

     

    এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

     

    ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

  • হঠাৎ ঝড়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

    হঠাৎ ঝড়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

    মো: গোলাম কিবরিয়া

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

     

     

    রাজশাহীর তানোরে ভোরের আকস্মিক ঝড় ও ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের টিনের চালা উড়ে গেছে। পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, লিচু ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

     

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে আকচা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানের টিনের চালা উড়ে যায়। এছাড়া জমির মধ্যে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ উপড়ে গেছে। অনেক স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। আলু উত্তোলনের পর রোপণ করা বোরো ধান এবং পাকা ধানের ক্ষেত মাটিতে নুয়ে যায় ।

     

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আম ব্যবসায়ীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানখেত ও আমবাগানে। ঝড়ে অনেক গাছ উপড়ে গেছে, আবার কোথাও ভেঙে গেছে বড় বড় ডালপালা। আমবাগানের গাছে থাকা কাঁচা ও আধাপাকা আম ঝরে পড়ে পুরো বাগানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কৃষক ও আমচাষিদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায় ।

     

    ঝড় থেমে যাওয়ার পর সকালে বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের ঝরে পড়া আম কুড়াতে দেখা যায়। তাদের মধ্যেই ছিল ছোট শিশু ফাহিম। হাতে ঝুড়ি নিয়ে আম কুড়াতে কুড়াতে সে বলে, “অনেক আম পড়েছে, আমি কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাব।”

     

    তবে কৃষকদের মুখে ছিল হতাশা আর দুশ্চিন্তার ছাপ। উপজেলার কৃষক জলিল জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ভোরের ঝড় ও বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

     

     

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পাঁচ বিঘা ধান লাগিয়েছিলাম। সব ধান শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। বছরের সব আশা-ভরসা এই ফসলের ওপর ছিল।”

     

    একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরাও। আম ব্যবসায়ী মিলন জানান, তিনি দুই বিঘা আমের বাগান লিজ নিয়েছিলেন। সকালে বাগানে এসে দেখেন অধিকাংশ আম মাটিতে পড়ে গেছে।

     

     

    তিনি বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে বাগান লিজ নিয়েছি। এখন দেখি গাছে আম নেই বললেই চলে। যে পরিমাণ আম ঝরে গেছে, তাতে খরচের টাকাও উঠবে কিনা জানি না।”

     

     

    স্থানীয়রা জানান, কয়েক মিনিটের এই ঝড়েই কৃষকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে গেছে এবং পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

     

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই কৃষকদের সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা, কৃষি বীমা ও জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

     

     

    এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের জরুরি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত সহযোগিতা না পেলে অনেক পরিবার মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

     

    তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। সরকারি ভাবে যতটুকু সম্ভব কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

     

    তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, “ভোরের আকস্মিক ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • রংপুরে ডিবির অভিযানে ৭৫০ ফুট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার, আটক ১

    রংপুরে ডিবির অভিযানে ৭৫০ ফুট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার, আটক ১

    মোঃ জিয়াউর রহমান

    বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর
    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    রংপুর মহানগর এলাকায় জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় তহাছেন মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
    শনিবার (৯ মে) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদের দিকনির্দেশনা এবং মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মহানগর এলাকায় মাদক, অনলাইন জুয়া, প্রশ্নফাঁস চক্র, অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, চোরাচালান ও নিষিদ্ধ জালসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
    এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি আভিযানিক দল পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলির নেতৃত্বে নগরীর ফুল আমেরতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ৭৫০ ফুট নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
    আটক তহাছেন মিয়া রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার উমর বালাটারী এলাকার মৃত ইয়াছিন মিয়ার ছেলে।
    পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জাল আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
    রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পরিবারিক বিরোধে প্রেমিক-প্রেমিকার কান্নায় ভারী ইউপি চত্বর

    পরিবারিক বিরোধে প্রেমিক-প্রেমিকার কান্নায় ভারী ইউপি চত্বর

    মোঃ জিয়াউর রহমান, বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর,

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

     

    কুড়িগ্রামের রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রেমিক প্রেমিকাকে ঘিরে আবেগঘন এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    জানা যায়, পদ্মার চর গ্রামের মোঃ কবির হোসাইন (১৯) এবং বাওয়াইর এলাকার মোছাঃ জুঁই আক্তার (১৬) এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আনা হয়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পরিবার ছেলে ও মেয়েকে আলাদা করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের বিচ্ছেদের আশঙ্কায় করা আহাজারি উপস্থিত লোকজনকে নাড়া দেয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা হস্তক্ষেপ করেন। পরে উভয় পরিবারকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে ঘটনাটির পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আইনগত ও সামাজিক দিক বিবেচনায় সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দুই পরিবার নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • যশোর ডিবির এসআই অলক কুমার দে পেলেন বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা

    যশোর ডিবির এসআই অলক কুমার দে পেলেন বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা

    জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:

    পেশাগত দক্ষতা, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল কর্মসম্পাদনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ ‘এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ অর্জন করেছেন যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) অলক কুমার দে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে বাছাই করে এ বছর মাত্র ৩৬ জন সদস্যকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই স্থান করে নিয়েছেন যশোর ডিবির এই দক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা।

    বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের দোহাজারী গ্রামের সন্তান অলক কুমার দে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি শৃঙ্খলা, সাহসিকতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

    বর্তমানে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত থাকাকালে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ তদন্ত, তথ্য উদঘাটন, মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ঘটনাগুলো অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার সক্ষমতা রয়েছে তার। বিশেষ করে তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ঘটনাস্থল বিশ্লেষণে তার অভিজ্ঞতা ও তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রেই সফলতা এনে দিয়েছে।

    পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্কও প্রশংসিত হয়েছে। যশোরে কর্মরত অবস্থায় নানা সময়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করার ঘটনাও রয়েছে। আইনগত সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরামর্শমূলক কর্মকাণ্ডেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়। ফলে একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবেও তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

    এর আগে তিনি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানায় এসআই হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দর্শনার্থীদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলক কুমার দে কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সৎ, নিরহংকার ও পরিশ্রমী একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনো আপস করেন না এবং জনগণের নিরাপত্তা ও সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন। তার এই পেশাগত সততা ও নিষ্ঠার কারণেই তিনি সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

    নিজের এই সম্মাননা অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় অলক কুমার দে বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করতে পারাটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি আমার পরিবার, সহকর্মী এবং যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা সবসময় আমাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন।”

    তার এই অর্জনে যশোর ও ফকিরহাট এলাকায় আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একজন দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে অলক কুমার দে ভবিষ্যতেও দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবেন।