বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৩০০ টাকায় ১০ ঘণ্টা খাটুনি, শেষ হয় না রূপসীদের জীবনযুদ্ধ বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন ৫ শতাধিক অসহায় ও দুঃস্থ মানুষ। গোপালগঞ্জে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন স্বামী আদমদীঘিতে আবেগঘন বিদায়: পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ​ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির বড় সাফল্য রংপুরে নবাগত জেলা প্রশাসককে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফুলেল শুভেচ্ছা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কালো আইন পাস প্রতিবাদে ২০ এপ্রিল জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  রাজশাহীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, রনির সদস্যপদ স্থগিত  

মোঃ মমিনুল ইসলাম  প্রতিনিধি সমগ্র বাংলাদেশ 

মোঃ মমিনুল ইসলাম

প্রতিনিধি সমগ্র বাংলাদেশ

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য (সদস্য নং-২০) ও একুশে টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির রনি-এর সাধারণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। রনির বিরুদ্ধে মোট ৩৩,১০,০০০ টাকা (তেত্রিশ লাখ দশ হাজার টাকা) আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

এর আগে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ আত্মসাৎকৃত অর্থ পরিশোধের জন্য তাঁকে বর্তমান কমিটি দু’বার লিখিত নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো নোটিশে কর্ণপাত করেননি এবং আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেননি।

 

ফলে সর্বশেষ ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

সাধারণ সদস্যরা দাবি তুলেছেন, আত্মসাৎকৃত টাকা আদায়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে আজীবনের জন্য প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করারও দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটির সদস্য ছিলেন, হুমায়ুন কবির রনি। দীর্ঘ ৫ বছর দায়িত্বে ছিল এই আহ্বায়ক কমিটি। ওই সময়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মালিকানাধীন কমিউনিটি সেন্টারটি রনিকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বলা হয়, কমিউনিটি সেন্টারের আয় নিয়মিত প্রেসক্লাবের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। কিন্তু রনি আয়ের একটাকাও ক্লাব ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।

 

পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটি এসে রনিকে হিসাব করে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। পরে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে ২০২৩-২৪ সালের নির্বাচনে লুৎফুর রহমান সভাপতি ও সাইয়ীদ মাহমুদ পারভেজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ কমিটি রনির টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করে। ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে রনি কমিউনিটি সেন্টার থেকে আয় করে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। এ প্রতিবেদন প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদিত হয়।

 

পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমান কমিটি পরপর চিঠি দিয়ে রনিকে টাকা পরিশোধ করতে বলেন। রনির কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সভায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবির রনির প্রেসক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

এ বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে হুমায়ুন কবির রনিকে অবগত করা হয়েছে।