Blog

  • আরপিএমপির পৃথক অভিযানে চুরি হওয়া অটোগাড়ি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    আরপিএমপির পৃথক অভিযানে চুরি হওয়া অটোগাড়ি উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মোঃ জিয়াউর রহমান

    বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

     

    রংপুর মহানগর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে চুরি হওয়া একটি অটোগাড়ি উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) তাজহাট থানা পুলিশ। এছাড়াও জনসাধারণের সঙ্গে মারমুখী আচরণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাজহাট থানার মামলা নং-১৮, তারিখ ২৩ মে ২০২৬, ধারা ৩৭৯ পেনাল কোড-১৮৬০ এর তদন্তের অংশ হিসেবে অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হারাগাছ থানার বালারঘাট শেখপাড়া ব্রিজ এলাকার পূর্বপাশ থেকে চুরি হওয়া একটি অটোগাড়ি উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় তারিকুল ইসলাম (২২), নুর ইসলাম (৪০) ও হামিদুল ইসলাম (৩৮) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে হারাগাছ থানা পুলিশের সহযোগিতা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    এদিকে একই রাতে তাজহাট থানাধীন নগরমীরগঞ্জ টেপরুর মোড় এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের দিকে জনসাধারণের সঙ্গে মারমুখী আচরণ ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের অভিযোগে রাশেদ খান (৩৫) ও মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) নামে দুইজনকে আটক করা হয়।

    পরে তাদের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন আইন-২০১৮ এর ৭৬ ধারায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, মহানগর এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আরপিএমপি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানাকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • ঝিনাইগাতীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ 

    ঝিনাইগাতীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ 

    মো: মমিনুল ইসলাম

    ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি

    সমগ্র বাংলাদেশ

     

    শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদের বোতল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মালিক বা জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

     

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার উপজেলার লশেরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় অসংখ্য ভারতীয় মদের বোতল পাওয়া যায়।

     

    ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জানান, “উদ্ধার হওয়া মদগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কে বা কারা এসব মাদক এখানে রেখে গেছে, তা উদঘাটনে আমরা কাজ করছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

     

    এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

     

    ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় ঝিনাইগাতী রুটটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একাধিকবার ফেনসিডিল ও ভারতীয় মদ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

     

    মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক নজরদারি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রতিটি স্তরে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি করা। সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • মোল্লাহাটে আইন-শৃঙ্খলা সভা: অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

    মোল্লাহাটে আইন-শৃঙ্খলা সভা: অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

    আল হাফিজ মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ

     

    বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চুরি, ডাকাতি, যানজট ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    শনিবার বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

     

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিনের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা, পুলিশ বিভাগের উপপরিদর্শক মনজির, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাসান আলী, কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়, সাবেক আহ্বায়ক শিকদার জামাল উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুনীয়া আক্তার, প্রধান শিক্ষক এস এম ফরিদ আহমেদ, প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সাধারণ সম্পাদক এম এম মফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ ফারুক, আল হাফিজ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

    সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সুমনা আইরিন বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ উপজেলা গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে বাজার, পশুর হাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা এবং মাদক বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

     

    সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো অপরাধ, যানজট, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

    সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • রাজশাহীতে চাহিদা বাড়ছে তালশাঁসের

    রাজশাহীতে চাহিদা বাড়ছে তালশাঁসের

    মো: গোলাম কিবরিয়া

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

     

    রাজশাহীতে তীব্র দাবদাহে চাহিদা বাড়ছে তালশাঁসের

    দেশজুড়ে চলছে মধুমাস। জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমনে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা রকম সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল। ইতোমধ্যে রাজশাহীর বাজারগুলোতে আম ও লিচুর সমারোহ দেখা গেলেও তীব্র দাবদাহের কারণে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল তালশাঁসের। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ও তৃষ্ণা মেটাতে রাজশাহীর মানুষ এখন ঝুঁকছেন তালশাঁসের দিকে।

     

    রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, তালাইমাড়ি, বিনোদপুর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িতে করে তালশাঁস বিক্রি করছেন অসংখ্য বিক্রেতা। শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা গরম থেকে স্বস্তি পেতে তালশাঁস কিনছেন।

     

     

    জানা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এসব তালশাঁস। পরে সেগুলো নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এনে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। চলমান তীব্র তাপদাহে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ বলে জানান তারা।

     

    সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে তালশাঁস বিক্রি করছেন সুমন ।

     

     

    তিনি বলেন, প্রতি পিস তালশাঁস ৫ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। একটি তালে সাধারণত তিনটি শাঁস থাকায় পুরো তাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়।

     

    তিনি আরও বলেন, গরমের সময় তালশাঁসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই এটা খেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিস তালশাঁস বিক্রি করি। এবার গরম বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

     

    সুমনের মতো আরও অনেক বিক্রেতাকে সাহেব বাজার, তালাইমাড়ি, বিনোদপুর ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে। কেউ ভ্যানে, কেউবা রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই ফল বিক্রি করছেন।

     

    তালাইমাড়ি এলাকায় কাজের ফাঁকে তালশাঁস খেতে দেখা যায় নির্মাণ শ্রমিক শহিদুল ইসলামকে।

     

    তিনি বলেন, সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করতে হয়। গরমে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে যায়। তালশাঁস খেলে শরীর ঠান্ডা লাগে এবং কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।

     

    অন্যদিকে সাহেববাজারে কেনাকাটা করতে এসে তালশাঁস খাচ্ছিলেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাইয়ান।

     

    তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে তালশাঁস খুবই আরাম দেয়। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্যও উপকারী। তাই গরমে সুযোগ পেলেই খাই।

     

    চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান থাকায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে তীব্র গরমে মানুষের কাছে তালশাঁস এখন অন্যতম জনপ্রিয় ফল হয়ে উঠেছে।

     

     

    রাজশাহীতে চলমান দাবদাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে তালশাঁসের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সকলে ।

  • ইজিবাইকে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু গোপালগঞ্জে

    ইজিবাইকে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু গোপালগঞ্জে

    মোঃ শিহাব উদ্দিন

    গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরান মানিকদা আদর্শ গ্রামে ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কালু দাস (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। (২৩ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কালু দাস ওই গ্রামের রমেশ রবি দাস ও দিপালী রবি দাসের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নিজ বাড়িতে ইজিবাইক চার্জ দিতে গেলে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন কালু দাস। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা দ্রুত তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বর্তমানে মরদেহটি গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা, ঘের থেকে মরদেহ উদ্ধার।

    খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা, ঘের থেকে মরদেহ উদ্ধার।

    সরদার সাইদী হাসান বাবু

    ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি খুলনা বিভাগ, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

     

    খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া খুটিরঘাট এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২৫) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) দুপুর সাড়ে ১ টার দিকে একটি মাছের ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

     

    নিহত ওমর ফারুক খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার জাব্দিপুর এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখের ছেলে।

     

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ঘের থেকে ওমর ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তার মাথায় ও বুকে দু’টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে মরদেহটি ঘেরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

     

    ওসি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

     

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওমর ফারুক পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। তিনি সম্প্রতি এই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

     

    পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা কোনো অপকর্মের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

     

    এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সামান্য বৃষ্টিতেই বেহাল অবস্থা, প্রশ্নের মুখে ছিড়াপাড়া গ্রামের নতুন হেয়ারিং রাস্তার কাজ

    সামান্য বৃষ্টিতেই বেহাল অবস্থা, প্রশ্নের মুখে ছিড়াপাড়া গ্রামের নতুন হেয়ারিং রাস্তার কাজ

    মোঃ জিয়াউর রহমান, বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর , দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের ছিড়াপাড়া গ্রামে নতুন নির্মিত হেয়ারিং রাস্তার কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, দেবে যাওয়া ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে।
    স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি রাস্তার কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ নরম হয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও ইট ও মাটি সরে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
    এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত রাস্তার কাজ পুনরায় মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
    একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নতুন রাস্তার কাজ দেখে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই যদি রাস্তার এই অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে মানুষের চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়বে।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
    এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসইভাবে রাস্তার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

  • মদনে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার-১

    মদনে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার-১

    মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

    নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মদন থানা পুলিশ।
    শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯ টা ৩০ ঘটিকায় দিকে মদন থানাধীন মদন পৌরসভাস্হ জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) ফয়সাল, এএসআই সাকিব, এএসআই খোরশেদসহ, পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মদন থানাধীন মদন পৌরসভাস্হ জাহাঙ্গীরপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের জনৈক অলি মিয়ার বাড়ীর পিছনে সাত্তার সাহের পতিত জমি হইতে আসামী মোঃ মিলন শেখ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
    গ্রেপ্তারকৃত মোঃ মিলন শেখ উপজেলার ৬নং তিয়শ্রী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের কহুছ মিয়ার ছেলে।
    এসময় তার কাছ থেকে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মদন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    মদন থানা অফিসার ইনচার্জ,মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
    এ ঘটনায় মদন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • হাম আক্রান্ত তরুণীর মৃত্যু, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উদ্বেগ

    হাম আক্রান্ত তরুণীর মৃত্যু, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উদ্বেগ

    মোঃ শিহাব উদ্দিন

    গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

     

    গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টা ১১ মিনিটে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    মৃত তরুণীর নাম তুলি (১৮)। তিনি মাদারীপুর ডাসার থানার ধামসা গ্রামের সুশীল ঢালীর মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    তরুণীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলাকায় হাম রোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য সচেতন মহল বলছে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিত টিকাদান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ সম্ভব।

  • ঈদ সামনে, টুংটাং শব্দে মুখর গোপালগঞ্জের কামারপল্লী

    ঈদ সামনে, টুংটাং শব্দে মুখর গোপালগঞ্জের কামারপল্লী

    মোঃ শিহাব উদ্দিন

     

    গোপালগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি।

     

     

    ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনের কামারপল্লীতে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়। কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কামারশিল্পের কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি ও চাপাতিসহ কুরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

     

    সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও কুরবানির ঈদকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পায় এই পুরোনো পেশা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-বটি ও ছুরিতে শান দিতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা। কামারদের হাতের নিপুণতায় তৈরি এসব সরঞ্জামের চাহিদা এখনও রয়েছে শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে।

     

    কামারপল্লীর কারিগররা জানান, বর্তমানে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, দা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, বটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং জবাইয়ের ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। লোহা ও কয়লার দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানান তারা।

     

    কামার সত্য রঞ্জন দাশ বলেন, “একসময় আমাদের কাজের অনেক কদর ছিল। এখন মেশিনে তৈরি সরঞ্জামের কারণে আগের মতো কাজ পাই না। তবে কুরবানির ঈদ এলেই কিছুটা ব্যস্ততা বাড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”

     

    শহরের নবীনবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল মোল্লা বলেন, “প্রতি বছর কুরবানি দিই। তাই ঈদের আগে চাপাতি ও ছুরিতে শান দিতে এসেছি। ভালোভাবে জবাই করতে ধারালো সরঞ্জামের বিকল্প নেই।”

     

    কুরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা মো. শাহাবুদ্দিন সুজা বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে হাতে তৈরি জিনিসের মান ভালো হওয়ায় মানুষ এখনও কামারদের কাছেই আসছে।”

     

    প্রযুক্তির আধুনিকতায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প টিকে আছে মূলত কুরবানির ঈদকে ঘিরেই। বছরের এই সময়টুকুতে বাড়তি কাজ আর আয়ের আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখেন গোপালগঞ্জের কামাররা।