Blog

  • বাগেরহাট-২: ব্যালট-রেজাল্ট হেফাজতে নিতে ইসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

    বাগেরহাট-২: ব্যালট-রেজাল্ট হেফাজতে নিতে ইসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

    আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাগেরহাট
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাট-২ আসনের নির্বাচনী ব্যালট-রেজাল্টশিটসহ নথিপত্র ইসিকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ।

    এই আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের করা মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করে আজ বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে নির্বাচনী মামলা করেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, গৌড় বাংলা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হাসিব হোসেন, চাঁপাই দর্পণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল সুকরানা, সিনিয়র সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ, জোনাব আলী, আজিজুল ইসলাম শিশির, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদৌস সিহানুক (শান্ত) এবং মহানন্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নাসিমসহ অন্যান্যরা। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে অবৈধভাবে মাটি কাটা, মাদক পাচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনদুর্ভোগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি জেলার উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। সভাটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

  • কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৪ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ১

    কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৪ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ১

    স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ মাহামুদুল ,

    কুমিল্লা: কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১১টা ০৫ মিনিটে থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে কোতয়ালী মডেল থানাধীন ০৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া কৃষ্ণপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
    থান সূত্রে জানা যায় অভিযানকালে মৃত আবদুল মতিন মাস্টারের “বাইতুত তাকওয়া” নামীয় ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া সুমন সাহা (৪৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিকোনা (সাহাপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।
    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তার বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষ থেকে ২৫ বোতল Royal Green Whisky (৭৫০ মি.লি.), ১১ বোতল Royal Stag Whisky (৭৫০ মি.লি.) এবং ১৮ বোতল Royal Stag Whisky (৩৭৫ মি.লি.) উদ্ধার করা হয়।
    উদ্ধারকৃত মদ উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়। জব্দ কার্যক্রম পরিচালনা করেন এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানান, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম মূল্যে এসব বিদেশি মদ সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করেছিলেন।
    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

  • সরকারি মুকসুদপুর কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    সরকারি মুকসুদপুর কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    মুকসুদপুর প্রতিনিধিঃ

    সরকারি মুকসুদপুর কলেজ ক্যাম্পাসে দু’দিন ব্যাপী রোভার স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক তাঁবু বাস ও দীক্ষা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    আজ মঙ্গলবার ৩১ মার্চ মুকসুদপুরে সরকারি মুকসুদপুর ডিগ্রী কলেজে দুনিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। গতকাল সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়ে রাত ৮.০০ ঘটিকায় ওন, ভিজিল এবং আত্মশুদ্ধি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২.০০ টায় শুরু হয়ে দুটি গ্রুপে মোট ১০ জন রোভার সহচরকে দীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ২.০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠান শেষে নতুন রোভার ডেন কক্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি ও অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক জনাব এস. এম. ওয়ালিউর রহমান (উডব্যাজার)। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক জনাব মোঃ এনামুল হক, বিভাগীয় প্রধান ইসলামি স্ট্যাডিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সচিব জনাব কবির উদ্দিন আহাম্মেদ , প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান মিয়া, প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, যুগ্মসম্পাদক জনাব সুশান্ত কুমার মন্ডল, প্রভাষক বিভাগীয় প্রধান গনিত, কোষাধ্যক্ষ জনাব কুতুব উদ্দিন খান, প্রভাষক, অর্থনীতি ,অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রভাষক জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম( সাবেক সম্পাদক), হিসাব বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক জনাব ফিরোজ মাহমুদ( সাবেক সম্পাদক) । অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রোভার স্কাউট গ্রুপ কমিটির সকল সম্মানিত সদস্য, সম্মানিত শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ এবং রোভার সদস্য।

  • পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

    পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

    জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী।

    ‎বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
    ‎রোগীদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
    ‎শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, দুই দিন আগে তার শিশু কন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে গ্যাস্ট্রিক ও প্যারাসিটামল ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। স্যালাইন সেট, টেপ, সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
    ‎একই ধরনের অভিযোগ করেন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাখালী গ্রামের কাওসার মৃধার দাদি মালেকা বেগমসহ আরও কয়েকজন রোগী ও স্বজন।
    ‎হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ার রোগী বাড়লেও পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
    ‎ফার্মেসিম্যান মো. রুহুল আমীন জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের মজুত শেষ হয়ে গেছে। চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
    ‎এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, টেন্ডার জটিলতার কারণে গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সিসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।

    ‎জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী।
    ‎মোঃ শহিদুল ইসলাম,

  • অবহেলিত নির্মাতারা,নন-এমপিও শিক্ষকদের নীরব কান্না

    অবহেলিত নির্মাতারা,নন-এমপিও শিক্ষকদের নীরব কান্না

    এম,এ,মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)

    নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের করুণ বাস্তবতা আমাদের সমাজের এক গভীর অসাম্য ও অবহেলার প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্র আজ যখন বারবার কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলছে, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল কারিগর—শিক্ষক—নিজেই চরম অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
    কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ভবন, যন্ত্রপাতি বা পাঠ্যক্রম দিয়ে চলে না; এগুলো চালনা করেন শিক্ষকরা—যারা নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অসংখ্য নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০-২৫ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা করা শুধু কষ্টের নয়, এটি মানবিক মর্যাদারও পরিপন্থী।
    এই শিক্ষকরা প্রতিদিন ক্লাস নেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখান, অথচ নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে তারা বাধ্য হন টিউশনি, ছোটখাটো ব্যবসা বা অন্য পেশায় যুক্ত হতে। অনেকেই সমাজে সম্মান বজায় রাখতে গিয়ে নিজের কষ্ট চেপে রাখেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। তাদের এই নীরব যন্ত্রণা আমাদের চোখে পড়ে না, কারণ তারা প্রতিবাদ করতে গেলেও সেই প্রতিবাদের ভাষা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।
    যখন এই শিক্ষকরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামেন, তখন তাদের ওপর নেমে আসে আরেক নির্মম বাস্তবতা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ, অবজ্ঞা ও দমন-পীড়ন তাদের ক্ষতকে আরও গভীর করে তোলে। যে শিক্ষক একদিন একজন ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, সেই ছাত্রই হয়তো আজ ক্ষমতার আসনে বসে সেই শিক্ষকের কষ্টের দিকে তাকানোর সময় পান না—এ এক নির্মম বৈপরীত্য।
    এ যেন এক হারিয়ে যাওয়া কৃতজ্ঞতার গল্প। আমরা ভুলে যাই, একজন শিক্ষকই আমাদের প্রথম পথপ্রদর্শক। তার হাত ধরেই আমরা জীবনের পথে হাঁটতে শিখি, বড় হই, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হই। কিন্তু যখন সেই শিক্ষকই অবহেলিত হন, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
    নন-এমপিও শিক্ষকদের এই দুর্দশা শুধু একটি পেশাগত সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট। কারণ, শিক্ষক যদি অনিশ্চয়তায় থাকেন, তবে শিক্ষার মান কখনোই উন্নত হতে পারে না। আর শিক্ষার মান উন্নত না হলে একটি দেশ কখনোই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে না।
    তাই এখন সময় এসেছে এই সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার। নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করা, ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত এই শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা।
    একজন শিক্ষক কেবল একজন পেশাজীবী নন—তিনি একটি জাতির নির্মাতা। সেই নির্মাতার চোখে যদি জল থাকে, তবে সেই জাতির ভবিষ্যৎ কখনোই উজ্জ্বল হতে পারে না। তাই শিক্ষকদের এই কান্না থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

  • সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় অভিযান, জরিমানার পর “অপরাধীদের চাপের মুখে প্রশাসন!!

    সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় অভিযান, জরিমানার পর “অপরাধীদের চাপের মুখে প্রশাসন!!

    মিরু হাসান, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

    বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় একদিকে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সচেতন মহলে মিলেছে ব্যাপক প্রশংসা। অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দোষীদের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বাজার এলাকার শাহী মসজিদের পাশের একটি সরকারি পুকুরে কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কাটা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত মাটি পাশের একটি ইটভাটায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এতে পুকুরের স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের সড়কও ঝুঁকির মুখে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

    অভিযোগ রয়েছে, শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ পুকুরটিকে মসজিদের সম্পত্তি দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তবে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উক্ত জমিটি বশিপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। জমির মধ্যে মসজিদ, পুকুর, অজুখানা, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা থাকলেও কোনো বৈধ লিজ না থাকায় এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই বিবেচিত।

    পরবর্তীতে পুকুরসংলগ্ন এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানার নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং জরিমানা আদায় করা হয়।

    তবে এ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের পর কিছু প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাদের ওপর চাপ, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, “সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

    এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় এমন পদক্ষেপই প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে সবাই সহযোগিতা করবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।

  • নাসিক ২ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঠ প্রস্তুতি জোরদার

    নাসিক ২ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঠ প্রস্তুতি জোরদার

    রিপোর্টার
    মোঃ আলমগীর হোসেন

    আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ২ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তারা সরাসরি যোগাযোগ, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছেন। এতে করে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।

    মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, মিজমিজি পশ্চিমপাড়া, কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া ও সানাড়পাড়া রহিম মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য তিনজন প্রার্থীকে ঘিরে চলছে জোর আলোচনা। তাদের মধ্যে বিএনপির দুইজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী রয়েছেন।
    সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন (ভেন্ডার)—যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠ রাজনীতি ও জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে ওয়ার্ডবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন।

    এছাড়াও রয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, যিনি অতীত অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে আবারও আলোচনায় রয়েছেন।
    অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. জামাল হোসাইন-ও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

    প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন (ভেন্ডার) বলেন,
    “আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হৃদয়ের। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়—চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়াই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে জনসেবায় উৎসর্গ করবো।
    সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বলেন,
    এই ওয়ার্ডের মানুষ আমাকে দুবার তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সবসময় তাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। ইনশাআল্লাহ, জনগণ এবারও তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. জামাল হোসাইন বলেন,
    “আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দলীয় সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের অপসারণের পর থেকে ২ নং ওয়ার্ডে নাগরিক সেবায় কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালিত হলেও প্রত্যাশিত সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ২৩ হাজার ভোটারের এই ওয়ার্ডে এবার যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রত্যাশা সবার মাঝে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে জমে উঠতে যাচ্ছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

  • ফকিরহাটে বাসের চাপায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নিহত

    ফকিরহাটে বাসের চাপায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নিহত

    আজিজুল গাজী, ব্যুরো চিফ, খুলনা।

    বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসের চাপায় মো. ছাহাদ (১১) নামে এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
    বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার বৈলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    নিহত ছাহাদ উপজেলার বৈলতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গিরের ছেলে। তিনি ফকিরহাট এলপি উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ছাহাদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসযোগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিল। বৈলতলী এলাকায় পৌঁছে বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগামী বাস তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
    এ বিষয়ে মোল্লাহাট হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, দুর্ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পাঁচবিবি এলবিপি স্কুলে এসএসসি বিদায়-২৬ অনুষ্ঠিত

    পাঁচবিবি এলবিপি স্কুলে এসএসসি বিদায়-২৬ অনুষ্ঠিত

    পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) উপজেলা সংবাদদাতাঃ

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লাল বিহারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও ষষ্ঠ শ্রেণীর নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন-বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ এপ্রিল বুধবার বেলা ১১ টায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বরণ-বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বেলায়েত হোসেন।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, একাডেমীক সুপারভাইজার মোঃ জহুরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম ও প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আজাদ আলীসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরা ও কর্মচারী গণ।
    এ সময় প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেশ মূলক বক্তব্য রাখেন।
    বিশেষ করে আগামীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভালো ফলাফল করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।