Blog

  • আল্টিমেটামের ভেতরেই ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ!

    আল্টিমেটামের ভেতরেই ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ!

    এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিনা উস্কানিতে ইরানে হামলার পর ২১ মার্চ শনিবার যুদ্ধের, ২২তম দিনে ইরানকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হরমুজ প্রনালির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আল্টিমেটাম ঘোষনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করায় বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    আল্টিমেটাম, হুমকি ও হঠাৎ স্থগিতাদেশঃ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তারা ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাবে। পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফসহ সামরিক বাহিনী কঠোর অবস্থান জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “ফলপ্রসূ আলোচনা” হয়েছে এবং তিনি পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেন।
    অন্যদিকে ইরান এই আলোচনার দাবি অস্বীকার করে বলেছে, কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি; বরং তাদের কঠোর অবস্থানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে।

    পাল্টাপাল্টি হুমকি-যুদ্ধের বিস্তারের আশঙ্কাঃ

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্পষ্টভাবে জানায়—ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
    এছাড়া হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে মাইন পেতে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় তেহরান।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাল্টা হুমকি কার্যকর হলে তা সরাসরি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ দিতে পারত।

    তেলের বাজারে বড় ধাক্কাঃ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
    রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যদিও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে প্রায় ১০৪ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট(WTI) তেলের দামও বড় পতনের মুখে পড়ে, যা ১৩%-এর বেশি পড়ে গিয়ে একপর্যায়ে ৮৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এর আগে সংঘাতের জেরে তেলের দাম ৫০% পর্যন্ত বেড়েছিল। ফলে বাজারে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
    বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের মূল কারণ ছিল সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার ইঙ্গিত। এর আগে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় দাম দ্রুত বাড়ছিল। কারণ, বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরশীল।
    অন্যদিকে, ইসলামিক র‍্যাভুলুশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হুমকি দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করবে। এতে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যঃ

    বৈশ্বিক জ্বালানির ‘লাইফলাইন’
    বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে। ইরান দাবি করছে—শত্রু দেশের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে বাস্তবে বহু জাহাজ আটকে পড়েছে।
    ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর হলে দ্রুতই এ সমুদ্রপথ সচল হবে।
    ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথভাবে প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। এ সময় তিনি “আমি আর আয়াতুল্লাহ” বলে মন্তব্য করেন, যা ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে।
    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর এটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প জানান, চলমান আলোচনা সংঘাত নিরসনে কিছুটা আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ইরানের নতুন কৌশল: মাশুল আরোপঃ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুমকি ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কিছু জাহাজের ওপর প্রায় ২০ লাখ ডলার ট্রানজিট ফি আরোপের কথা জানিয়েছে। দেশটির আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজেরদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং কে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। জবাবে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের শত্রু ছাড়া অন্যদের জন্য প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে। সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যদিও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
    বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের কেবল অর্থনৈতিক চাপ নয়—বরং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত।

    বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপঃ

    বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এশিয়া থেকে আফ্রিকা এবং ইউরোপের সরকারগুলো সরকারি ছুটি ঘোষণা, বাধ্যতামূলকভাবে বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), জ্বালানি রেশনিং এবং শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার মতো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংকটের প্রভাবে বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে—
    শ্রীলঙ্কায় স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অতীব জরুরি নয় এমন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিউআর কোডভিত্তিক ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে।
    ভুটানে মজুতদারি রোধে জেরি ক্যানে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
    পাকিস্তানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সপ্তাহে চার দিন কর্মদিবস নির্ধারণ এবং সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
    ফিলিপাইনে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে।
    ভিয়েতনামে যতটুকু সম্ভব প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকদের গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
    মিয়ানমারে তীব্র সংকটে পেট্রলপাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য নিবন্ধন নম্বরের ভিত্তিতে ‘জোড়-বিজোড়’ রেশনিং পদ্ধতি চালু হয়েছে।
    কম্বোডিয়ায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেট্রলপাম্প কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। লাওসে সরকারি চাকরিজীবীদের বাসা থেকে কাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং যাতায়াত কমাতে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি চালু হয়েছে।
    মিসরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৯টার মধ্যে বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁ এবং সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সরকারি ভবন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনের আলোও বন্ধ রাখা হচ্ছে।
    কেনিয়ায় জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধের পাশাপাশি রেশনিং চালু হয়েছে। দেশটির বর্তমান মজুত কেবল এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ডিজেল সংকট ও আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা রুখতে শিল্প খাতে নিয়ন্ত্রিত বরাদ্দের ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
    নিউজিল্যান্ডে ১৯৭৯ সালের নীতি অনুসরণ করে সপ্তাহে এক দিন ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো বন্ধ রাখার ‘গাড়িমুক্ত দিবস’ চালুর কথা ভাবছে সরকার। জ্বালানি মজুত পর্যবেক্ষণে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে এবং উচ্চ মূল্যের কারণে এয়ার নিউজিল্যান্ডের কয়েক শ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
    স্লোভাকিয়ায় ডিজেল মজুতদারি ঠেকাতে সরকারিভাবে ক্রয়ের কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। স্লোভেনিয়ায় স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকের জন্য তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
    এসব পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের ভয়াবহতা এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশগুলো কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, তা-ই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

    আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তাঃ

    International Energy Agency–এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন,
    এই সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট কিংবা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
    সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আরও ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

    কূটনৈতিক তৎপরতা: কারা থামাল সংঘাত?

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তুরস্ক ও মিসরসহ একাধিক দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আঞ্চলিক নেতাদের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন—ইরানে হামলা হলে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত আসতে পারে।
    যদিও ট্রাম্প ‘সম্পূর্ণ সমাধান’-এর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করছে।

    ‘চোরাবালিতে আটকে’ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলঃ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সংঘাতে ‘চোরাবালিতে’ আটকে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ভুয়া আলোচনার’ গল্প ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন, আলোচনা ইতিবাচক এবং দ্রুত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যখন ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধে “চোরাবালিতে আঁটকে গেছে”। ইরানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
    মঙ্গলবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক কৌশলে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারা এখন একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। তার ভাষায়, “এটি এমন এক চোরাবালি, যেখানে যতই এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ততই তারা গভীরে ডুবে যাচ্ছে।”
    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে একের পর এক হুমকি ও পাল্টা হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও—তেলের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
    ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক চাপ প্রয়োগ করে অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও বাস্তবে তারা কৌশলগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব দাবি করছে, তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইরানের কর্মকাণ্ডই অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।
    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই “চোরাবালিতে আটকে যাওয়ার” বক্তব্য মূলত একটি কৌশলগত বার্তা—যার মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চায় যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে এটি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সমর্থন জোগাড়েরও একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।
    বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর চাপ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।

    সামনে কী?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা স্পষ্ট—
    আলোচনা সফল হলে হরমুজ প্রণালি খুলে যেতে পারে, ব্যর্থ হলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।
    বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই পাঁচ দিনের ‘বিরতি’ কি শান্তির পথ খুলবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের পূর্বাভাস!

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগরে রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, নিহত ২

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগরে রণক্ষেত্র: দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে, নিহত ২

    মস্ত মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া

    ​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার কিংবা নিয়ে এলাকার দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। আজ দুপুরে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও টেঁটার আঘাতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    ঘটনাস্থলেই একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— এছাড়া গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে অনেক বাড়িঘর।

    নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

  • সিলেটের বিশ্বনাথে ওরসকে কেন্দ্র করে মসজিদে হামলা

    সিলেটের বিশ্বনাথে ওরসকে কেন্দ্র করে মসজিদে হামলা

    আখলাক হুসাইন, সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃ

    সিলেটের বিশ্বনাথে ওরসের নামে মদ-জোয়ার আসর বসানো হয় দীর্ঘদিন থেকে। সেই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার থেকে শুরু হয় এবারের ওরস নামক মদ-জোয়ার আড্ডা। রোববার ওরসের দ্বিতীয় রাতে মদ-জোয়ার আড্ডার পাশাপাশি গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাইকে গান বাজনা করে ওরস কর্তৃপক্ষ। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ওরসের আসরে হামলা চালিয়ে গানের মঞ্চ ভাঙচুর চালায়।

    ওরসের আসর পণ্ড করাকে কেন্দ্র করে মসজিদ ভাঙচুর করে ওরস কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। সোমবার ২৩ মার্চ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওরস ভক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার সকালে শ্রীপুর জামে মসজিদে হামলা করে।
    এতে মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা ও সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    শ্রীপুর গ্রামের নুর মিয়া, কাঁচা মিয়াসহ গ্রামবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওরসের নামে অশ্লীল নৃত্য, উচ্চ আওয়াজে গানবাজনা, অবাধে মাদকসেবন, বিক্রি ও বেহায়াপনার এক স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এসবে গ্রামবাসী বাধা দিলেও মাজারের খাদেম দুদু মিয়া ও তার অনুসারীরা মানেনি। এক পর্যায়ে গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওরসে ভাঙচুর করে। সকালে মাজারের লোকজন মসজিদে হামলা করে ব্যাপক ক্ষতি করে।

    মাজারের খাদেম দুদু মিয়া কালবেলাকে বলেন, ওরসে গান-বাজনা করায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আর মসজিদে হামলার ব্যাপারে কিছুই জানি না।

    সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

  • কালিগঞ্জে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

    কালিগঞ্জে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

    কালিগঞ্জ প্রতিনিধি।

    গাজীপুরের কালিগঞ্জে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমিটির সভাপতি শামীম শাহরিয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় মন্ডল, সহ-সভাপতি সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহরাব আলী সরকারসহ স্থানীয় আরও গণ্যমান্য মিডিয়া ব্যক্তিবর্গ।
    বক্তারা ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সমাজের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই তাদের অধিকার রক্ষায় সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই পরস্পরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    অনুষ্ঠানটি ছিল আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন।

  • আনন্দপুরে সরকারি রাস্তা দখল: প্রবাসীর বাড়ি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বাধা মামলার দেওয়ার হুমকি

    আনন্দপুরে সরকারি রাস্তা দখল: প্রবাসীর বাড়ি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বাধা মামলার দেওয়ার হুমকি

    মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর এলাকায় সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রবাসী বাসিন্দা জাহেদুল জানিয়েছেন, তাঁর পিতার চলাচলের রাস্তা পাশের বাড়ির জনৈক দেলোয়ার হোসেন ও তার পরিবার ৫০ বছর পুরনো রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সরকারি ভূমি ১২০০ দাগের ২.৮৯ একর দখল করে বেড়া দিয়ে রেখেছে।

    জাহেদুল বলেন, “আমার পিতা পঙ্গু। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। সামাজিকভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। অভিযোগের পরও স্থানীয় প্রতিপক্ষ আমাদের হুমকি দিচ্ছে।”

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন ও তার পরিবার সামাজিক কোনো বিচার বা সালিশ মানে না। এমনকি তার পরিবারের ভাই, চাচা ও অন্যান্য আত্মীয়দের কাছেও তারা কোনো বিবেচনা নেয় না। স্থানীয়রা জানায়, দেলোয়ার হোসেনের পিতা ছিলেন ছিদ্দিকুর রহমান (মৃত) এবং স্ত্রী রহিমা মাস্টার।

    অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিকবার বিষয়টি প্রশাসনের নিকট জানানো হলেও এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দখলদাররা প্রবাসী জাহেদুল ও তাঁর পরিবারের উপর হুমকি দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে এলাকায় দখল বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

    জাহেদুল কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন যাতে সরকারি জায়গাটি দখলমুক্ত করা হয় এবং বন্ধ রাস্তা পুনরায় চালু করার একটি আবেদন করেছেন বলে জানান। এই বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি মীমাংসা সহ সহ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

  • পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সাথে জননেতা নুরুজ্জামানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সাথে জননেতা নুরুজ্জামানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:-

    ​পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি)-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা মোঃ নুরুজ্জামান।​সম্প্রতি মন্ত্রী মহোদয়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    ​সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী মহোদয়কে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে অভিনন্দন জানান। এসময় তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় উন্নয়ন এবং রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের আসন্ন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।​সাক্ষাৎ শেষে জননেতা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মাননীয় মন্ত্রীর পরামর্শ ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, নানিয়ারচরসহ পুরো রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর।
    ​সাক্ষাৎকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পাহাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নের ধারা ত্বরান্বিত করতে মাননীয় মন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দলে নানিয়ারচর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি তেলের সংকটের কারণ: বাস্তবতা নাকি সিন্ডিকেট?

    এম এ মান্নান স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামতপুর নওগাঁ

    বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত সমস্যা হলো জ্বালানি তেলের সংকট। প্রায়ই শোনা যায় পেট্রোল পাম্পে তেল নেই, অথচ একই এলাকার আশেপাশে বেশি দামে সেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন জাগায়—এটি কি সত্যিকারের সংকট, নাকি কিছু অসাধু চক্রের তৈরি কৃত্রিম সংকট?প্রথমত, জ্বালানি তেলের প্রকৃত সংকটের কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের সংকট, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে অনেক সময় সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে পাম্পে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে কখনো কখনো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়, যা সাময়িক সংকট তৈরি করতে পারে।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পাম্পে তেল না থাকলেও পাশের দোকান বা অবৈধ বিক্রয়কেন্দ্রে বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে এখানে শুধুমাত্র প্রকৃত সংকট নয়, বরং সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কাজ করছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল মজুদ করে পাম্পে সরবরাহ কম দেখায় এবং পরে সেই তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে লাভবান হয়।এই ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি। যখন আইন প্রয়োগ দুর্বল হয়, তখন অসাধু চক্রগুলো সহজেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি প্রকৃতপক্ষে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট হতো, তাহলে দেশের অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এর অর্থ হলো তেল কোনো না কোনোভাবে পাওয়া যাচ্ছে, তবে স্বাভাবিক মূল্যে নয়। ফলে জনগণ বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।সুতরাং বলা যায়, বর্তমান জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে নয়; বরং এর সঙ্গে অসাধু সিন্ডিকেটের ভূমিকা অনেকাংশে জড়িত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে।জ্বালানি তেলের সংকট একটি জটিল সমস্যা, যেখানে বাস্তব কারণ ও কৃত্রিম সংকট—দুটোই কাজ করতে পারে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • মীরসরাইয়ে প্রবাসীকে হামলা ও অপহরণ মামলায় এক আসামি গ্রেফতার

    মীরসরাই প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট এলাকায় প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিমকে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সালমান (৩০), যিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে গ্রেফতার করে মীরসরাই থানা পুলিশ।

    মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইশতিয়াক রুবেল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নিজ জমিতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছিল।

    গত ১৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার পিঠে আঘাত ও ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে হাদি ফকিরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

  • রাজশাহীতে ঈদ ঘিরে কি বড় বিপদের সংকেত? বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের স্তূপ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫।

    রাজশাহীতে ঈদ ঘিরে কি বড় বিপদের সংকেত? বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের স্তূপ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৫।

    মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​|

    রাজশাহী মহানগরীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নসাৎ করে দিয়েছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও শহরকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে মজুত করা বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে এলিট ফোর্সটি।
    ​মধ্যরাতের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ​মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন রেলওয়ে মাঠ (রেলমাঠ) সংলগ্ন একটি নির্জন লেবু বাগানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। র‍্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেয়। বাগানের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি সন্দেহভাজন প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে র‍্যাব সদস্যরা।
    ​সক্রিয় ছিল বোম ডিসপোজাল ইউনিট ​বস্তা দুটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাব-৫ এর স্পেশাল বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তল্লাশি চালিয়ে বস্তা থেকে ২১টি তাজা ককটেল সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে। একইসাথে অপর একটি বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু ভয়ংকর দেশীয় অস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে:​০১টি বড় হাসুয়া (দৈর্ঘ্য ৭২ সে.মি.)
    ​০১টি বিশাল ছোরা (দৈর্ঘ্য ৬৫ সে.মি.)​০১টি মাঝারি ছোরা (দৈর্ঘ্য ৩৮ সে.মি.)​০১টি ধারালো চাকু (দৈর্ঘ্য ২৫ সে.মি.)

    ​র‍্যাব-৫ এর মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ককটেল ও অস্ত্রগুলোর মালিক সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে র‍্যাবের প্রাথমিক ধারণা, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান করতে এবং নগরীতে ত্রাস সৃষ্টি করতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই মজুত গড়ে তুলেছিল। গভীর রাতে জনমানবহীন বাগানে এই অস্ত্র মজুত করা থেকে স্পষ্ট যে, তারা বড় কোনো রক্তক্ষয়ী হামলার ছক কষছিল।

    ​উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্রসমূহ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কারা এই বাগানটিকে ‘সেফ হাউজ’ হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে র‍্যাব।
    ​এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও র‍্যাবের টহল বৃদ্ধির পর জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

  • ​মৌলভীবাজারে ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় ঘাতক বড় ভাই গ্রেফতার

    ​মৌলভীবাজারে ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় ঘাতক বড় ভাই গ্রেফতার

    ​ছাদিকুর রহমান সাব্বির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান , দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

    ​মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে আপন ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই হানিফ মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল (১৫ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা সদর কোতোয়ালী থানার সংরাইশ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
    ​ঘটনার প্রেক্ষাপট
    ​পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ফাটাবিল এলাকায় সরকারি রাস্তার ব্রিজের ওপর এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তামিম মিয়া (১৮) স্থানীয় শাহেদ আলীর ছেলে।
    ​ঘটনার দিন হানিফ মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে সাইদুলকে শাসন করার জন্য একটি থাপ্পড় দেন তার ছোট চাচা তামিম মিয়া। এই বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই হানিফ মিয়া ধারালো চাকু দিয়ে তামিমের গলার নিচে আঘাত করেন।
    ​তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান
    ​গুরুতর আহত অবস্থায় তামিমকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক হানিফ মিয়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
    ​হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিকে ধরতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অবশেষে কুমিল্লার সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
    ​একনজরে ঘটনা:
    ​নিহত: তামিম মিয়া (১৮)।
    ​গ্রেফতার: হানিফ মিয়া (৩৫)।
    ​ঘটনার স্থান: ফাটাবিল এলাকা, মৌলভীবাজার সদর।
    ​গ্রেফতারের স্থান: কুমিল্লা সদর কোতোয়ালী এলাকা।
    ​কারণ: ভাতিজাকে শাসন করা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ।
    ছবি সংযুক্ত ।