Blog

  • চাঁপাই মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ 

    চাঁপাই মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ 

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    চাঁপাই মৎস্যচাষী সমবায় সমিতির মাসিক সভা ও সদস্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জেলা শহরের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ মার্কেটের তৃতীয় তলায় একটি অফিসে বিতরণ করা হয়।

    মাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাই মৎস্যচাষী সমবয় সমিতির সভাপতি ওবায়দুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা, কোষাধক্ষ্য আব্দুল কাদের, কার্যনির্বাহী সদস্য আল আমিন প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমিতির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

    ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল, আতব চাউল, নুডুলস, তেল, চিনি, লাচ্চা সেমাই, পাপড়, বুন্দিয়া ৭ ধরনের খাদ্য সামগ্রী।

    সভাপতি ওবায়দুল হক জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতর আমাদের মুসলমানদের জন্য অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দিনটি আমাদের মুসলিম ভাইদের বড়ই আনন্দের এবং খুশির দিন। চাঁপাই মৎস্যচাষী সমিতির উদ্যোগে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতেই প্রথম বারের মতো সমিতির পক্ষ থেকে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও সমিতির সদস্যদের নিয়ে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের  ফসল নষ্ট।

    পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট।

    মো. আরফান আলী :
    ঠাকূরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১২ ও ১৩ মার্চ রাত্রে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে। মাঠজুড়ে সবুজ ফসল এখন বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষকের পরিশ্রম ও আশা মুহূর্তেই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভারাক্রান্ত কৃষক কোন কূল কিনারা না পেয়ে হতাশ, জীবন ধারণের সম্বল টুকু হারিয়ে নিঃস্ব ক্ষুদ্র কৃষকগণ। তিমটি ফসল গম, ভূট্রা আলু বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
    প্রাকৃতিক এই দূর্যোগে কৃষকের ক্ষতি অপূরণীয় হলেও সবাই আশা করছেন দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং আবার নোতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষকের জীবন ও কৃষি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে কোন দূর্যোগ পূর্বাভাস প্রদান করা হয় নি। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশন নির্বাহী পরিচালক কবি ও সাংবাদিক জানান, সরকার চাইলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য কৃষি বীমা চালু করেলে কিছুটা ক্ষুদ্র কৃষকের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম উদ্বোধন

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল মোড় থেকে পুরাতন বাজার পর্যন্ত এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ।
    উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফয়সাল রাযহান,সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান, সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আব্দুস সামাদ, ,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অরুপ কুমার দাস, , দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম, জেলা সমবায় অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোখলেছুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন-অর – রশীদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের
    কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলকে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিচালনা করে যাচ্ছেন গাজার ব্যবসা।

    প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিচালনা করে যাচ্ছেন গাজার ব্যবসা।

    মোঃ রেজা, কুমিল্লা ক্রাইম বার্তা

    জানা যায় দির্গদিন ধরে ভারত বডার সিমান্ত পার করে বাংলাদেশে গাঁজা সাপ্লাই করে আসছেন এই চক্রটি।

    তবে সম্পত্তি একটি ভিডিও কুমিল্লা ক্রাইম বার্তার হাতে এসে পৌছায় আর এই ভিডিওতে দেখা যায় গাজা পুরানো এবং ভালো এই ধরনের কথা কাস্টমারের সাথে সরাসরি ভিডিও কলে বলছেন।

    তবে এমনইএক গাজাব্যবসায়িকের সন্ধান পাওয়া যায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বাবুর্চি আদর্শ গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে সাব্বিরকে।

    এবং এবিষয়ে গাজা ব্যবসায়িক সাব্বিরের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে গেলে তিনি জানান…..

    তবে তার এলাকার স্থানীয়দের ভাষ্য মোতাবেক জানা যায় এ সাব্বির দীর্ঘদিন যাবত গাঁজা ফেনসিডিল ইয়াবা বিক্রি করে যুব সমাজকে নষ্ট করে ফেলছেন।

    এবং স্থানীয়দের আরো অভিযোগ অতি দ্রুতই এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়িক সাব্বিরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে ।

    তারা আরো জানান এ ধরনের গাঁজা ব্যবসায়ী দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে সিটিএ আছে তাদেরকেও খুঁজে বাহির করে আইনের কাছে সপর্দ করতে হবে।

     

  • ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এতিমখানা ও মাদ্রাসার অনাথ এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌদি আরবের উপহার হিসেবে খেজুর বিতরণ করা হয়েছে।

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এতিমখানা ও মাদ্রাসার অনাথ এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌদি আরবের উপহার হিসেবে খেজুর বিতরণ করা হয়েছে।

    রিপোর্ট সালথা উপজেলা প্রতিনিধি ইয়াছিন শেখ

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, King Salman Humanitarian Aid and Relief Center এর মাধ্যমে রাজকীয় Saudi Government-এর পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে উপহার হিসেবে এই খেজুর পাঠানো হয়।
    ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রেরিত নির্দেশনার আলোকে সালথা উপজেলায় মোট ১৮ কার্টুন খেজুর পাওয়া গেছে।
    পরে এসব খেজুর উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অনাথ ও দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • মনিরামপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী-ভাসুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

    মনিরামপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী-ভাসুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

    কল্যান রায় জয়ন্ত

    যশোরের মণিরামপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, ভাসুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বিথিকা সুলতানা মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহিরঘোরিয়া গ্রামের মহাতাব উদ্দিনের মেয়ে বিথিকা সুলতানা (২৬) প্রায় তিন বছর আগে কাজিয়াড়া গ্রামের মৃত খালেক গাজীর ছেলে মেহেদি হাসানের (৩২) সঙ্গে ৩ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান (মাহির-৮ মাস) রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মেহেদি হাসান, তার বড় ভাই সোহরাব হোসেন (৪৮) এবং শাশুড়ি লালবানু বিবি (৬০) যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। যৌতুকের টাকা দিতে না পারলে তাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা মহাতাব উদ্দিন আসবাবপত্র, বিভিন্ন সামগ্রী এমনকি ছাগলও দেন। তবে কিছুদিন শান্ত থাকার পর আবারও তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

    গত ৯ মার্চ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে স্বামী মেহেদি হাসান পুনরায় টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ অন্যরা তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফোলা জখম হয়। একপর্যায়ে স্বামী লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্বামী ও শাশুড়ি তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং তাদের ৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান মাহিরকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

    ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তার বাবা তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান। পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় বাহিরঘোরিয়া গ্রামের রেজাউল হোসেন ও গোপালপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী গৃহবধূ বিথিকা সুলতানা জানান, আমার স্বামী পরকীয়া এবং মাদকাসক্ত। আমাকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। সংসার বাঁচাতে আমি কয়েকদফা বাবার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র নিয়ে দিয়েছি। আমার সন্তানের জন্মের পর থেকে আমার স্বামী আমার দেখাশোনা এমনকি ভরণপোষণ দেন না। আমার ভাসুরের ইন্দনে আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার পায়তারা করছে। আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে বাচ্চাসহ উঠলে কয়েকদিনের মাথায় আমার ভাসুরের নির্দেশে শাশুড়ি ও স্বামী মিলে আমাকে হত্যার উদ্দ্যেশে লোহার রড় দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং মেঝেতে ফেলে গলার উপর উঠে দাড়ায়। একপর্যায়ে আমি আমার বাবার বাড়িতে জানালে, আমার বাবা-মা ও ভাবি আমাকে নিয়ে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে আইনি সহায়তার জন্য আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগ করার পর আমার স্বামী ও ভাসুর বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আইনের কাছে ন্যায় বিচার চাই।

    বিথিকা সুলতানার ভাবি জানান, খবর পেয়ে আমার ননদকে আনতে গেলে আমাদের সামনে তার শাশুড়ি মারধর করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য আমরা দ্রুত মনিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেই থেকে ও (বিথিকা সুলতানা) আমাদের বাড়িতে আছে।

    বিথিকা সুলতানার পিতা মহাতাব উদ্দিন জানান, আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দিতো। আমি গরীব মানুষ। তারপরও মেয়ের সুখের জন্য ধার-দেনা করে বিভিন্ন সময়ে জামাইকে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র দিয়েছি। আমার জামাই মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী। কয়েকদিন আগে আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দ্যেশে মারধর করেছে। মনিরামপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসছি। আমি আমার জামাই ও তার পরিবারের শাস্তি চাই।

    ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক কলহে তাকে টুকটাক মারধর করি এটা সত্য কিন্তু তাকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে কখনো মারধর করিনি। সে কিছুদিন আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের টিন কেটে তাকে উদ্ধার করেছি। কয়েকদিন আগে আত্মহত্যা করার জন্য দরজা দিতে গেলে আমি দরজায় লাথি মারি, ওইসময় দরজার আঘাতে তার কপাল কেটে যায়। কয়েকটি চড় মারা ছাড়া তাকে আর মারধর করিনি।

    ছেলের বৌ-কে মারধরের বিষয়ে ভুক্তভোগীর শাশুড়ি লালবানু বিবি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বৌমা আমাকে গালিগালাজ ও মারধর করে। কয়েকদিন আগেও গালিগালাজ করছিল ওই সময় একটা চড় মেরেছিলাম। ছেলে-বৌ এর সাথে ঝগড়া হলে আমি তার মধ্যে যায় না।

    এবিষয়ে মেহেদী হাসানের বড় ভাই সোহরাব হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে খুলনাতে বসবাস করি। বাড়িতে কি হয় তা আমি জানি না। আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করা জন্য আমার বিরুদ্ধে উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

    এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রজিউল্লাহ খান’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • লিবিয়ায় চার শতাধিক বাংলাদেশির ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ — আশরাফ-বাহার ‘মানবপাচার মাফিয়া’ চক্র নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    লিবিয়ায় চার শতাধিক বাংলাদেশির ওপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ — আশরাফ-বাহার ‘মানবপাচার মাফিয়া’ চক্র নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
    লিবিয়ায় অবস্থানরত শত শত বাংলাদেশি তরুণের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে ঘেরা। ভুক্তভোগী পরিবার, প্রবাসী সূত্র ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চার শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে কুমিল্লার আশরাফ ও তার ভাই বাহার, যাদের অনেকেই “মানবপাচার মাফিয়া” চক্রের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
    সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে বাংলাদেশ থেকে তরুণদের বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়। অনেক পরিবার শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে কিংবা ঋণ নিয়ে সেই টাকা জোগাড় করে।
    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রথমে তাদের বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয়। পরে অবৈধ পথে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে তাদের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় এক বিভীষিকাময় জীবন।
    লিবিয়ায় এসব আটক স্থানের নাম ভুক্তভোগীদের ভাষায় “গেম ঘর”। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানে দিনের পর দিন মানুষকে অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখা হয়। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না, অসুস্থ হলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে না। সামান্য প্রতিবাদ করলেই মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
    সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো—জিম্মি করে রাখা ব্যক্তিদের দিয়ে পরিবারের কাছে ফোন করিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
    এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে আশরাফের দুই স্ত্রী—মাদারীপুরের রুনা ও বরিশালের সিমুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তারা বিদেশে অবস্থান করে দালাল নেটওয়ার্ককে সহযোগিতা করেন এবং নতুন প্রবাসপ্রত্যাশীদের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতে ভূমিকা রাখেন।
    এছাড়া আশরাফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আকাশ নামের এক ব্যক্তির নামও সামনে এসেছে। জানা গেছে, আকাশের বাড়ি সিলেট জেলায় এবং তিনি আশরাফের একান্ত সহকারী হিসেবে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চক্রের নির্দেশেই লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটক কেন্দ্র পরিচালনা করা হয় এবং সেখান থেকেই পরিবারগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই “আশরাফ-বাহার মানবপাচার মাফিয়া চক্র” দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
    মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • চট্টগ্রাম থেকে অগ্রিম টিকেটে ট্রেনে যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু

    চট্টগ্রাম থেকে অগ্রিম টিকেটে ট্রেনে যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু

    এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

    প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। ট্রেনের অগ্রিম টিকিটধারীদের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে। প্রথম দিন থেকেই স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
    এদিকে ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ২৩ মার্চের ফিরতি যাত্রার টিকিট। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
    ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিন স্তরের টিকিট চেকিং শেষে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন।
    আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
    সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইমন ইসলাম বলেন, “পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ঈদের পর। তাই একটু আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছি, যাতে ঈদের পর দ্রুত ফিরতে পারি।”
    চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনে প্রতিদিন ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ঈদযাত্রা শুরু হয়। পরে সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সকাল ৬টা ও ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় চট্টলা এক্সপ্রেস ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বিজয় এক্সপ্রেস এবং সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
    বাংলাদেশ রেলওয়ে গত ৩ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে, যা চলে ৯ মার্চ পর্যন্ত। এর ধারাবাহিকতায় ৩ মার্চ বিক্রি করা হয় ১৩ মার্চের যাত্রার টিকিট এবং সর্বশেষ ৯ মার্চ বিক্রি করা হয় ১৯ মার্চের যাত্রার অগ্রিম টিকিট।
    রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মার্চের ফিরতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৩ মার্চ, ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৯ মার্চ। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
    এদিকে যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রার আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে অগ্রিম বিক্রি করা কোনো টিকিট ফেরতযোগ্য নয়।

  • কালিয়াকৈর পৌরসভায় কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব মমিন রাকিবেল ঘটছে খুন,চুরি,ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা

    কালিয়াকৈর পৌরসভায় কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব মমিন রাকিবেল ঘটছে খুন,চুরি,ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা

    মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ

    কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, এখানে প্রায়ই ঘটছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই,চাঁদাবাজি ও হত্যার ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    জানা যায়,কালিয়াকৈর পৌরসভা কালামপুর রেল ক্রসিং ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং এলাকায় চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,মাদক ব্যবসা। কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে রয়েছে সাকিব হোসেন ও মমিন।
    গত ২/৩দিন আগে কালামপুর এলাকায় ডাকাতি করতে গেলে এলাকাবাসীর হাতে আটক হন কিশোর গ্যাং লিডা সাকিব হোসেন অন্য দিকে সাকিবের সহযোগী আর এক কিশোর গ্যাং লিডার মমিন সে রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
    অনুসন্ধানে জানা যায় কালিয়াকৈর থানাধীন কারল সুরিচালা পূর্ব পাড়া এলাকার মোঃ ইউনুস মিয়ার ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার সাকিব হোসেন।
    কালামপুর রেল ক্রসিং ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং মোড়ে থাকা ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ে রয়েছে একাধিক অভিযোগ এ নিয়ে পুলিশ সাকিব হোসেনের নামে মামলা নিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মমিনের বিরুদ্ধে এতে কালামপুরবাসী ও মোড়ের ফুটপাতের অন্তত দুই শতাধিক হকারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কালামপুর রেল ক্রসিং রোড ও মাটিকাটা রেল ক্রসিং পর্যন্ত রাতের বেলায় ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের দখলে থাকে। পুলিশ মাঝে মধ্যে টহল দিলেও তার মধ্যেই সুযোগ বুজে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দুটি রেল ক্রসিং এলাকায় নিয়মিত ঘটছে ছিনতাই।এখানে পুলিশের জোরালো কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে বলে জানান এলাকাবাসী ।
    কালামপুর ও মাটিকাটা এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, এই এলাকার দুইটি পয়েন্টের রাস্তায় রোজার শুরুতেই অন্তত সাকিব ও মমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক ও কিশোরদের আড্ডা চলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ-প্রতিরাতেই এই দুইটি পয়েন্ট থেকে কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, মাসোহারা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
    অন্য দিকে মন্ডলপাড়া এলাকায় চুরি ছিনতাই ডাকাতির দৌরাত্ম বেড়ে চলছে এলাকাবাসীর দাবি এই এলাকায় পিচ্চি রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় সময় চলে ছিনতাই। রাত হলে মন্ডলপাড়ায় প্রতিদিন ঘটে চুরির ঘটনা এমনকি মন্ডলপাড়া থেকে ওয়ালটন যাওয়ার রাস্তায় দিনের দুপুরে চলে ছিনতাই এই ছিনতাইকারীদের নেতৃত্ব দেন রাকিব। তিনি একাধিক বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জেল বেরিয়ে এসে আবারও শুরু  করেন ছিনতাই চুরি ডাকাতি এ নিয়ে চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী।
    এই এলাকায় কয়েক লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকের বসবাস গার্মেন্টস শ্রমিকদের অভিযোগ রাতে গার্মেন্টস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে কালামপুর রেল ক্রসিংও মাটিকাটা রেল ক্রসিংয়ে ছিনতাই করে সর্বোস্ব লুটে নিয়ে যায় সাকিব ও মমিনবাহীর লোকজন।
    এলাকাবাসীর অভিযোগ, কালিয়াকৈর পৌরসভা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের হাতে এখন মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের দিয়েই চলে মাদক ক্রয়-বিক্রয়। এতে সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত এখন কিশোররাই। মাদকের টাকার জন্য বাসাবাড়িতে চুরি করছে কিশোররা। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কালিয়াকৈরে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। যেখানেই ঘটনা ঘটছে সেখানেই পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।

  • সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী

    সাংবাদিকরা পজেটিভ লিখলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী

    মোঃ আঃ কুদ্দুস, মনোহরদী:

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আমরা পত্রিকা পড়ি কাগজ দেখার জন্য না, সাংবাদিকদের লেখা দেখার জন্য। আপনাদের লেখাটা যেন সব সময় নেগেটিভ না হয়, পজেটিভ লিখেন তাহলে ভালো কাজে জাতি উৎসাহিত হবে। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে মনোহরদী প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, যদি আমার বা আপনাদের কোন কাজে কর্মে সরকারের উপর কোন বদনাম আসে বা সরকারের বিরুদ্ধে যদি সাংবাদিকরা লেখার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন আমাকে যেমন আমার প্রধানমন্ত্রী ছাড়বেন না বলে দিয়েছেন আপনাদের ও কিন্তু আমি ছাড়বো না। একদম সোজা কথা৷ বিন্দুমাত্র যদি অন্যায় কেউ করে, সমাজ বিরোধী কাজ কেউ করে বা সহযোগীতা করে যেখানে যাকে পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

    তিনি আরো বলেন, আজ থেকে ২ বছর আগে সরকার চালালো আর আজকের সরকার চালানো অনেক পার্থক্য রয়েছে । এখনকার যে তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক, বুদ্ধিজিবী, বিরোধী দল সবাই আমাদের দিকে বাজপাখির মতো তাকিয়ে আছে নোট করার জন্য আমরা কি করি৷ সমাজ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সমাজ এখন ভালো কাজ দেখতে চায়৷ কাজেই সমাজ জেগে ওঠবে একটা সরকারের বিরুদ্ধে তখন আড়াই মাস না আড়াই বছর না কি আড়াই ঘণ্টা সেটা মুখ্য ব্যাপার না। আমরা খারাপ কাজ করলে মানুষ জেগে ওঠবে৷

    মন্ত্রী বলেন, আমাদের কোন কাজ কর্মে যেনো আমাদের সরকার অপমানিত না হয়। সরকারের কাজে যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সাবধান থাকবেন। সরকারকে ৫ বছর চলতে দেওয়াই আমাদের কর্মের সার্থকতা।

    মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সজিব মিয়া, মনোহরদী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিনুল ইসলাম, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন ও মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন বর্মণ।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা, সহসভাপতি কাজী আনোয়ার কামাল, সদস্য শ্যামল মিত্র, মনোহরদী পৌর বিএনপির আহবায়ক বদরুল ইসলাম মোল্লা বাবুল, সদস্য সচিব মো. হান্নান মিয়া, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, মুহা. ইসমাইল হোসাইন খানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসন, রাজনীতিবীদ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

    পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।