বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কয়টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট ইএসডিও থ্রাইড প্রকল্পের আদিবাসীদের ছাগল পালন বাবদ নগদ অর্থ বিতরণ।  ফুলবাড়ীতে জাতীয় পুষ্টিসপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৩০০ টাকায় ১০ ঘণ্টা খাটুনি, শেষ হয় না রূপসীদের জীবনযুদ্ধ বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেলেন ৫ শতাধিক অসহায় ও দুঃস্থ মানুষ। গোপালগঞ্জে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন স্বামী আদমদীঘিতে আবেগঘন বিদায়: পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ​ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির বড় সাফল্য

“বিচারকের আসনে বসার আগে মানুষ হও: নইলে অবিচারই হবে সমাজের নিয়তি”

মোঃ আইনুল ইসলাম,

মোঃ আইনুল ইসলাম,
বিভাগীয় সম্পাদক,
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

শিক্ষামূলক মতামতভিত্তিক প্রতিবেদন:

একজন জ্ঞানী ব্যক্তির গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাণী—“বিচার করার আগে সাধক হও আগে।”এই একটি বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক দর্শন। কারণ, সাধক না হয়ে বিচার করতে গেলে সেই বিচার আর ন্যায় থাকে না—তা রূপ নেয় অবিচারে।

আর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অবিচার কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি এমন এক অপরাধ, যার জবাবদিহিতা সরাসরি আল্লাহ পাকের দরবারে দিতে হবে। কেননা—
“সমস্ত বিচারকের মাথার উপর একজন মহা বিচারক রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ।”

❖ সমস্যা কোথায়?
আমাদের সমাজে দুঃখজনকভাবে এমন একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে— যারা আত্মসমালোচনার বদলে অন্যের দোষ খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত। নিজের ভেতরের অসঙ্গতি, নৈতিক দুর্বলতা কিংবা দায়ীত্বহীনতা তারা দেখেন না; কিন্তু অন্যের সামান্য ত্রুটি তাদের চোখে পাহাড়সম হয়ে ওঠে।

এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয়—
মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি, সামাজিক বিভাজন, অপপ্রচার, অন্যায়ের নীরব সহযোগিতা, এবং সম্মানহানির সংস্কৃতি সমাজবিজ্ঞান বলে, যে ব্যক্তি নিজের সংশোধনে আগ্রহী নয়, সে কখনো সমাজ সংশোধনের যোগ্য হতে পারে না।

❖ যুক্তির জায়গা
অজ্ঞতা যখন আত্মবিশ্বাসের মুখোশ পরে আসে, তখন যুক্তি আর কাজ করে না।
কারণ— যুক্তি বোঝার জন্য দরকার মন,
মন খোলার জন্য দরকার বিনয়, আর বিনয়ের জন্য দরকার আত্মজ্ঞান, যার ভেতরে এই তিনটির কোনোটিই নেই, তার কাছে যুক্তি দেওয়া মানে—পাথরে বীজ বপন করা।

এমন মানসিকতা সম্পর্কে কুরআনের একটি গভীর ইশারা প্রযোজ্য হয়ে ওঠে—
“তাদের চোখ আছে, কিন্তু তারা দেখে না;
তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না।” এরা শারীরিকভাবে জীবিত, কিন্তু নৈতিকভাবে অচল।

❖ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য পরিণতি
প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই ধরনের মানসিকতা থেকে কি পারিবারিক কল্যাণ সম্ভব, সামাজিক স্থিতি? রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন? উত্তর বাস্তবতা থেকেই আসে—যেখানে আত্মশুদ্ধি নেই, সেখানে দায়ীত্ববোধ জন্মায় না।

যেখানে দায়ীত্ববোধ নেই, সেখানে কল্যাণ কেবল কাগজে থাকে—বাস্তবে নয়। ঠিক যেমন— বিষাক্ত পানি যেদিকে গড়ায়, সেদিকের পরিবেশ ধ্বংস করে, তেমনি বিষাক্ত চিন্তা যেখানেই প্রভাব বিস্তার করে, সেখানেই নষ্ট হয় সম্পর্ক, সমাজ ও বিশ্বাস।

❖ করণীয় কী?
সমাধান খুব জটিল নয়, কিন্তু কঠিন নিজেকে বিচার করার সাহস অর্জন করা।
অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা
দোষ ধরার আগে দায়ীত্ব বোঝা,বিচার করার আগে মানবিক হওয়া,এটাই সভ্য সমাজের ভিত্তি।

❖ উপসংহার
আজ সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট দারিদ্র্য নয়, অশিক্ষাও নয়—সবচেয়ে বড় সংকট হলো নৈতিক আত্মসমালোচনার অভাব।
যে ব্যক্তি নিজেকে সংশোধন করতে শেখে, সে একাই সমাজ বদলাতে পারে। আর যে ব্যক্তি শুধু অন্যকে বিচার করতেই জানে—সে নিজেই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
বিচার করার আগে মানুষ হও—কারণ আল্লাহর আদালতে কোনো ভুল বিচার ক্ষমা পায় না।