Blog

  • ঝিনাইদহে যাত্রা শুরু করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা

    ঝিনাইদহে যাত্রা শুরু করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা

    মোঃ ফজলুল কবির গামা

     

    আর্তমানবতার সেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে ঝিনাইদহে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’। গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সংগঠনটির হাতে সরকারি নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়।

     

    ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোমিনুর রহমান এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হোসেনের হাতে এই নিবন্ধন সনদ প্রদান করেন। সনদ হস্তান্তরকালীন এই বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, সংগঠনের সেক্রেটারি জহিরুল হক, নির্বাহী সদস্য শিমুল হোসেন, শামিম সরোয়ার ভুটার, আশরাফুল ইসলাম লিংকন ও সুরুজ হোসেন।

     

    সনদ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপ-পরিচালক মোমিনুর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সমাজের দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’ কেবল নিবন্ধনের কাগজপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ঝিনাইদহের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সেই সাথে সমাজসেবা অধিদপ্তর সবসময় এমন ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

     

    সরকারি এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হোসেন তাঁর অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’ মূলত প্রান্তিক মানুষের শিক্ষা সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অধিকার রক্ষা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই অফিশিয়াল স্বীকৃতি তাদের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পেছনে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

     

    তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি মানবিক, সচেতন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা। সমাজের সব অন্ধকার ও অবহেলা দূর করে সাধারণ মানুষের মাঝে আশার আলো ছড়িয়ে দিতে এই সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

  • ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মোঃ শাকিল আহম্মেদ, জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুর।

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ছনি বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ‌ বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    নিহত ছনি বেগম ওই এলাকার প্রবাসী রিপন হাওলাদারের স্ত্রী।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে যেকোনো সময়ে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন ছনি বেগম। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়।
    খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
    এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

  • দিঘলিয়ায় গভীর রাতে দুঃসাহসিক ডাকাতি: স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

    দিঘলিয়ায় গভীর রাতে দুঃসাহসিক ডাকাতি: স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট

    দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:

     

    খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামে গভীর রাতে এক বসতবাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা মুজাফ্ফার মিয়ার পুত্র জসিম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। লুণ্ঠনকারী মুখোশধারী যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জসিম মিয়া পেশাগত কারণে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী আছিয়া বেগম ও দুই সন্তান অবস্থান করছিলেন। জসিম মিয়ার শ্বশুর-শাশুড়ি ধান কাটার কাজে বাড়ির বাইরে থাকায় তারা এক প্রকার নিরাপত্তাহীন ছিলেন। গভীর রাতে একই এলাকার আজিবার শরিফের পুত্র তাকলিম শরিফ (২২) মুখ বেঁধে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযুক্ত যুবক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে আছিয়া বেগমকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় ডাকাত তার নাক-মুখ চেপে ধরে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সে আলমারিতে থাকা প্রায় ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুট করে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে মালামাল লুটের পর অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে জানালে সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে সে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

  • গাজীপুরে নিহত পরিবারের পাশে এমপি ডা. কেএম বাবর

    গাজীপুরে নিহত পরিবারের পাশে এমপি ডা. কেএম বাবর

    মোঃ শিহাব উদ্দিন , গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

     

    গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও ভাইকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর। তিনি নিহত শারমিন আক্তারের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে যান ডা. কেএম বাবর। সেখানে তিনি নিহত শারমিন আক্তারের বাবা শাহাদাত মোল্লার সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    এ সময় তিনি বলেন, পরিবারের যোগ্য কেউ থাকলে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল হতে পারবে।

    এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ১০ মে রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় শারমিন আক্তার (৩৫), তাঁর তিন সন্তান মিম আক্তার (১৫), মারিয়া (১২), ফারিয়া (১) এবং ভাই রসুল হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

    নিহত শারমিন আক্তার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লা চৌকিদারের মেয়ে। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করে আসছিল।

    ঘটনার পর থেকে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, তিনিই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন।

  • নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আল মামুন সরকার প্রশংসামূলক সেবায় আইজিপি পদক পেলেন, 

    নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আল মামুন সরকার প্রশংসামূলক সেবায় আইজিপি পদক পেলেন, 

    মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

     

    নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল মামুন সরকার পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ ২০২৫”তথা আইজিপি পদকে ভূষিত হয়েছেন।পুলিশের দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্তমূলক অবদান ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার হাতে সার্টিফিকেট ও মেডেল তুলে দেন। এতে বলা হয়,নেত্রকোনা মডেল থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে ওসি মোঃ আল মামুন সরকার কে “পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ ২০২৫”প্রদান করা হয়েছে। এ সম্মাননা পাওয়ায় নেত্রকোণা মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের মাঝেও উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,এ স্বীকৃতি ওসি মোঃ আল মামুন সরকার কে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা,সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশ ও জনগণের সেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন সরকার জানান,আইজিপি পদকে ভূষিত হওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এই সম্মাননা শুধু আমার একার নয়,নেত্রকোণা মডেল থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

     

    ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

  • কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

     

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া চৌব্বাস এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

     

    বুধবার (১৪ মে) রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের চৌব্বাস এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামি খোকন মিয়া (৩৭) উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দেউশ গ্রামের মৃত অহিদ মিয়ার ছেলে।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) আল-আমিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে অংশ নেন। এসময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ খোকন মিয়াকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১১৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

     

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত ককর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

  • ডুমুরিয়ায়‌ লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    ডুমুরিয়ায়‌ লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    ডুমুরিয়া খুলনা, শেখ মাহতাব হোসেন

    শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬

    দেশে ভোজ্য তেলের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। প্রতি বছর ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথ অনুসন্ধান চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলার লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তাতে সফলতাও আসছে।

    এ দেশে প্রধানত চার ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহৃত হয়—সরিষা, ধানের কুঁড়া (রাইস ব্রান), সয়াবিন ও সূর্যমুখী। এর সবগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। যার অংশ হিসেবে খুলনাঞ্চলের পতিত জমিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চাষ করা হচ্ছে সূর্যমুখী।

    আমাদের দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সূর্যমুখী তেল আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার ৪০৬ টন । দেশে বছরে উৎপাদন হয় সাধারণত ১০ থেকে ১২ হাজার টন। এই উৎপাদন আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    ওই অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের সহায়তায় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব লবণাক্ত জমি আগে বছরের পর বছর পতিত ছিল, সেগুলোতে শুরু হয়েছে সূর্যমুখীর হাসি।

    কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট—এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। সেসব জমিতে সুর্যমূখী চাষের বড় পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে সে কার্যক্রম চলছে।

    এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা লবণাক্ততা। সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার দলবণাক্ততা থাকলে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ফলে এ অঞ্চলের এখন সূর্যমুখী অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

    সাধারণ কৃষকরা যেহেতু প্রথমে আবাদ করতে চায় না সেজন্য ক্যান্টনমেন্ট, পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পতিত জমিতে আমরা আগে আবাদ করেছি। সেগুলোর ভালো ফলন দেখে, এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে-ফুলতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন

    নড়াইল সদর উপজেলার তুলারাম ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম এবার কয়েকটি জমিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এসব জমিতে আমন ধান কাটার পর কিছুই হতো না। পতিত থাকতো। লবণ ওঠে বলে ভাবতাম কিছু চাষ করলে শুধু খরচই বাড়বে। কিন্তু এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সূর্যমুখী করেছি। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে, আমি অবাক।

    চার জেলার বেশকিছু প্রদর্শনী মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিশাল বিশাল এসব মাঠে সূর্যমুখীর ভালো ফলন হয়েছে। মাঠগুলো দূর থেকে মনে হয় যেন হলুদ রঙের গালিচা বিছিয়ে আছে। কাছে গেলে বোঝা যায়—হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে।

    উপস্থিত চাষি ও স্থানীয়রা বলছেন, আমন ধান কাটার পর যে জমি কয়েক মাস পতিত থাকতো, সেখানে এখন ফুটছে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের হলুদ ফুল। এই ফসল শুধু জমি নয়—গ্রামীণ অর্থনীতিকেও বদলে দিতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব লবণাক্ত জমি নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পতিত থাকে। এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের খরচ হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা, তার বিপরীতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার আর্থিক লাভ হয়। কোথাও কোথাও সূর্যমুখীর একটি হেটের (বীজের চাকতি) ওজন এক কেজির ওপরে। এ বছর ১৬শ হেক্টর জমি সূর্যমুখী চাষের আওতায় এসেছে।

    উপকূলের এসব লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখীর উৎপাদন বাড়াতে পার্টনার প্রকল্প থেকে এ সুন্দর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন অনাবাদি জমির পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।-প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন

    খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের আলকা গ্রামেও একই চিত্র। সেখানে দুই একর জমিতে ছয়জন কৃষক মিলে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ‘এ বছরই প্রথম করেছি, ফলন ভালো হয়েছে, ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হবে। আগে জমি ফাঁকা পড়ে থাকতো। এখন স্বল্প খরচে ফসল হচ্ছে। সূর্যমুখী চাষের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এতে সেচের পানি খুব কম লাগে বা না দিলেই চলে।’

    গ্রামের আরেক কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমার বয়স ৩২ বছর, এই এলাকায় এমন ফসল আগে দেখিনি। তাই আমিও এক বিঘা জমিতে চাষ করেছি।’

    আবার বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নেও সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমলা বিশ্বাস বলেন, ‘আটজুড়ী গ্রামের পেয়ারী বেগম, বাচ্চু মিয়া, নিজাম মোল্লা ও আ. হালিম মোল্লাসহ চারজন কৃষক দুই একর জমিতে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের সূর্যমুখি চাষ করেছেন। এখানে একেকটি ফুলের পরিধি ১৫ ইঞ্চি, যাতে এক কেজির চেয়ে বেশি বীজ হয়েছে। এটি চাষির জন্য খুব লাভজনক।’

    খুলনার ফুলতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এসব কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। তারা এ বছরই প্রথম চাষ করছেন। আগামীতে কৃষকের সংখ্যা বাড়বে।

    কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে, সূর্যমুখী চাষে খরচ তুলনামূলক খুব কম। বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষের ৩৩ শতাংশ বা এক বিঘা জমিতে চার হাজার টাকার বীজ প্রয়োজন। এছাড়া অন্য খরচ মিলে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে চাষাবাদ সম্ভব।

    মাঠে হাসছে সূর্যমুখী সেখানে ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৭ থেকে ৮ মণ সূর্যমুখীর বীজ পাওয়া যাবে। আর এককেজি বীজ থেকে কমপক্ষে ৪০০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। এক বিঘায় সাড়ে ৭ মণ (৩০০ কেজি) হিসেবে তেল হবে প্রায় ১৩০ লিটার। যার বাজারমূল্য প্রতিকেজি ২৫০ টাকা হিসেবে কমবেশি ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া খৈল ও গাছটি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এসবের আর্থিক মূল্যও অনেক।

    নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট— এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা থাকলে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম

    আবার এসব সূর্যমুখী আমন ও বোরো ধানের মাঝের সময়ে করা যায়, কারণ এর জীবনকাল ৮৫-১০৫ দিন। এসব কেটে পাট, ধান, তিল, মুগডালসহ অন্য ফসল করা যাবে।

    পার্টনার প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘উপকূলের এসব লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখীর উৎপাদন বাড়াতে পার্টনার প্রকল্প থেকে এ সুন্দর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন অনাবাদি জমির পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।’

    সূর্যমুখীর বিস্তীর্ণ ক্ষেত

    তিনি বলেন, ‘এ ফসল চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম। এসব দিক বিবেচনা করে পার্টনার প্রকল্প থেকে স্থানীয় কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দেশে ভোজ্যতেলের মাত্র ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। দেশে বছরে আমদানি হয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার তেল। যদি পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো যায়, তাহলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

    মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমন পরবর্তীসময়ে পতিত ও লবণাক্ত জমিগুলোতে সূর্যমুখীর আবাদ করতে পারলে আমাদের তেল আমদানির হার অনেক কমে যাবে। দেশে তেলের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ সরিষা, সূর্যমুখী, তিলসহ অন্য উপায়ে সংগৃহীত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। দেশের পতিত ও লবণাক্ত জমিগুলো সূর্যমুখীর আবাদ বাড়াতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তা না হলে আমরা তেল আমদানিকারকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বো।’

    মোসাদ্দেক বলেন, দেশে বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি হয়। সেখানে সূর্যমুখী চাষ করতে পারলে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। কেননা সূর্যমুখী ক্ষেত ছাড়াও পুকুরের পাড়, ক্ষেতের আইল, বাড়ির আঙিনাসহ উঁচু প্রায় সব জায়গায় চাষ করা যায়। আমাদের প্রত্যাশ ৫০ শতাংশ তেলের চাহিদা পূরণ করা যাবে পতিত জমি থেকেই। খুলনা অঞ্চলে ১৩ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। সেখানে ১৮-২০ শতাংশ জমি আমন পরবর্তীসময়ে পতিত থাকে।

    কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সূর্যমুখী চাষে জমির উর্বরতা বাড়ে। কেননা ধানের শিকড় ৬-৮ ইঞ্চি গভীরে যায়। আর সূর্যমুখীর শিকড় ১৫ ইঞ্চি গভীরে প্রবেশ করে। এতে সেচ না পেলেও বেঁচে থাকে। পাতা পড়ে সার হয়। ফলে পরবর্তী ফসলে সার কম লাগে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট— এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমি লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে। সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা থাকলে জমিকে লবণাক্ত বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। তাই এ অঞ্চলের জন্য এটি সম্ভাবনাময় ফসল।’

    সূর্যমুখী চাষে খুশি কৃষকতিনি বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার এক বিঘা জমির জন্য এক কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি, টিএসপি ও পটাশসহ অন্য উপকরণ দেয়। এতে সরকারের খরচ হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু ওই জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ন্যূনতম প্রায় ২৬ হাজার টাকার ফসল পাওয়া সম্ভব।’

    মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের হাইব্রিড ও বারি সূর্যমুখী ৩— এই দুই জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড বীজ কৃষক সংরক্ষণ করতে না পারলেও বারি সূর্যমুখী–৩ এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৫০ জন কৃষককে এক বিঘা করে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় ৪০টি ব্লকে দুই একর করে জমিতে বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। এছাড়া খুলনা অঞ্চলের কৃষি অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় ৩০টি উপজেলাকে ভাগ করে আটটি তেল নিষ্কাশন মেশিন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি উপজেলায় মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমন কাটার পর পতিত থাকা আড়াই লাখ হেক্টর জমি ধীরে ধীরে আবাদে আনা গেলে শুধু সূর্যমুখী নয়, মুগডাল, ধৈঞ্চা ও সবুজ সারজাতীয় ফসলেরও চাষ বাড়ানো সম্ভব হবে। একজন কৃষক যদি প্রায় ১০০ কেজি বা আড়াই মণ সূর্যমুখীর বীজ পান, তাহলে তা থেকে উৎপাদিত তেলেই একটি পরিবারের সারা বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

    পার্টনার প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমি পতিত থাকে। আমরা কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ দিয়েছি। তারা ইতোমধ্যে ভালো ফল পাচ্ছেন। আগামীতে আরও অনেক কৃষক এতে যুক্ত হবেন। সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। কিন্তু আমদানি নির্ভরতার কারণে এর দাম বেশি। দেশে উৎপাদন বাড়লে মানুষের জন্য এটি সহজলভ্য হবে।’

     

  • ২৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও একটি পিকআপসহ ৩ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

    ২৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও একটি পিকআপসহ ৩ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি

    মোঃ মমিনুল ইসলাম

    প্রতিনিধি দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি সমগ্র বাংলাদেশ

     

     

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

     

    গ্রেফতারকৃতরা হলো—১. মোঃ মোস্তাকিন মিয়া ওরফে মোস্তাকিম ওরফে আরমান (২১) ২. শেখ ফয়সাল (২৪) ও ৩. মোঃ আরিফ মিয়া (৩০)

     

    বুধবার (১৩ মে) রাত ০৩:৩০ ঘটিকায় যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় চত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাঁজাসহ তাদের গ্রেফতার করে ডিবি-মতিঝিল বিভাগের একটি টিম।

     

    ডিবি-মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ডিবি-মতিঝিল বিভাগের উক্ত টিম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে কতিপয় মাদক কারবারি যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় চত্বর এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এসময় তাদের হেফাজত হতে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা রুজু করা হয়েছে।

     

    ডিবি-মতিঝিল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করতো। তারা উদ্ধারকৃত গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশে নিজ হেফাজতে রেখেছিল মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

     

    গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

     

    এন এম নাসিরুদ্দিন

    উপ-পুলিশ কমিশনার

    মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    মোবাইল: ০১৩২০-০৩৮০০০

  • গোপালগঞ্জে ট্রাক-রিকশার সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

    গোপালগঞ্জে ট্রাক-রিকশার সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

     

    মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

     

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়নের ভেড়ার বাজার এলাকায় ট্রাক ও রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রিকশাচালক।

    বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেকেরহাটগামী একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সঙ্গে গোপালগঞ্জ শহরমুখী একটি রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রিকশার যাত্রী মৃদুল শেখ (৩২) ও রিকশাচালক সামিউল মোল্লা (২৬) গুরুতর আহত হন।

    নিহত মৃদুল শেখ কংসুর উত্তরপাড়া গ্রামের ফেলু শেখের ছেলে। আহত সামিউল মোল্লা একই এলাকার দাউদ মোল্লার ছেলে।

    স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃদুল শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সামিউল মোল্লা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

  • বটিয়াঘাটায় ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১

    বটিয়াঘাটায় ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১

    নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা :

    খুলনার বটিয়াঘাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ মিলন রায় (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গত ১৩ মে রাত ১০টার দিকে পূর্ব হালিয়া বাজার এলাকার কাছে ভান্ডারকোট পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়, আটক মিলন রায় পূর্ব হালিয়া গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ রায়ের ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে ১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বটিয়াঘাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-০৮, তারিখ ১৪ মে ২০২৬।