Blog

  • বড়লেখায় পালানোর সময় নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার

    বড়লেখায় পালানোর সময় নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও সাবেক সেনা সদস্য গ্রেফতার

    প্রতিবেদক,

    ছাদিকুর রহমান সাব্বির

    সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

     

     

     

    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’এর সক্রিয় সদস্য ও সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সদস্য মোঃ রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

     

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি দুর্গম উঁচু টিলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাহেদ বিশ্বনাথ থানার দশঘর এলাকার নুর মিয়ার ছেলে।

     

    অভিযানের পটভূমি

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেশজুড়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।

     

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য রাহেদ হোসেন সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

    এই খবরের ভিত্তিতে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।

     

    মামলার বিবরণ ও হস্তান্তর

    প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত রাহেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়েরকৃত একটি মামলার (মামলা নং-০২) এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটি বর্তমানে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)ইউনিট তদন্ত করছে।

     

    বড়লেখা থানা পুলিশ জানায়:

    গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

     

    সারাদেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারির পর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল।

    পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তাকে সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

     

    পুলিশের এই সফল অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

  • কাজ না পেয়ে উত্তেজিত ঠিকাদার 

    কাজ না পেয়ে উত্তেজিত ঠিকাদার 

    মো: গোলাম কিবরিয়া

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

     

     

    টাকা দিয়েও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে হট্টগোল ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরীতে বিএমডিএ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

     

     

    অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম কোরবান আলী। তিনি নগরীর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা।

     

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কোরবান আলী প্রথমে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর পরিচালক (পিডি) শিবির আহমেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠানকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

     

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিয়েও কোনো কাজ দেননি।

     

     

    পরে তিনি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানের দপ্তরের সামনে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বাধা দিলে তাকেও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

     

    একপর্যায়ে কোরবান আলী দাবি করেন, নির্বাহী পরিচালকের নাম ব্যবহার করেও তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সরাসরি নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ সময় বিএমডিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব এনামুল কাদির এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকেও হুমকি ও চোটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

     

     

    বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার কোরবান আলী এর আগেও একাধিকবার কার্যালয়ে গিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলে হট্টগোল করেছেন। প্রায় এক মাস আগেও তিনি কাজ না পাওয়ার অভিযোগে অফিসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

     

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার কোরবান আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ ফোন রিসিভ করেননি।

     

    অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান বলেন, ঘটনার সময় তিনি ও প্রকল্প পরিচালক সাইট পরিদর্শনে ছিলেন। পরে বিষয়টি শুনেছেন।

     

     

    বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় ওই ঠিকাদার মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তার দপ্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে ফোনে কথা হলে কোরবান আলী জানান, সাবেক সরকারের এক কৃষিমন্ত্রীর ভাতিজাকে তিনি টাকা দিয়েছেন।

     

    নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

  • হোয়াইক্যং চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ৩২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

    হোয়াইক্যং চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ৩২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

    বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম

     

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ৩২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

     

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

     

    তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হ্নীলা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেটকার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিক্স ডগ “হেনরী”-এর সহায়তায় গাড়িটিতে তল্লাশি চালায়।

     

    তল্লাশীকালে প্রাইভেটকারটির সামনের বাম্পারের ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬টি কার্টনে থাকা মোট ৩২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

     

    এ ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক মো. তারেক (২৩)কে আটক করা হয়। তিনি টেকনাফ উপজেলার গোদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

     

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি হ্নীলা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

     

    বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, মাদক সরবরাহকারী ও জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোনসহ আটক ব্যক্তিকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মদনে ২০ টন সরকারি চালসহ ট্রাক আটক,

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মদনে ২০ টন সরকারি চালসহ ট্রাক আটক,

    মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ

     

    নেত্রকোনার মদন উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ টন সরকারি চালসহ একটি ট্রাক আটক করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    আটককৃত ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-২২-৩১২০। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটিতে মোট ৬৬৬ বস্তা চাল ছিল। এর মধ্যে ৩০ কেজি ও ২০ কেজি ওজনের বস্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জব্দ হওয়া চালের পরিমাণ প্রায় ২০ টন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

    স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জব্দকৃত চালের সঙ্গে নেত্রকোনার বারহাট্টার বাউসী রাইস মিল ও তালুকদার রাইসমিলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    এ ঘটনায় ট্রাকের চালক শামীম (২৮), শাহীন মিয়া ও মাহমুদুল আলমের নাম জানা গেছে।

    অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম, তদন্ত কর্মকর্তা অসীম কুমারসহ পুলিশের সদস্যরা। অভিযানের পর ট্রাকটি প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাল পরিবহন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা

  • ঝিকরগাছায় ধর্ষণের শিকার বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীর সন্তান প্রসব, অভিযুক্ত পরিবার অস্বীকার 

    ঝিকরগাছায় ধর্ষণের শিকার বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীর সন্তান প্রসব, অভিযুক্ত পরিবার অস্বীকার 

    বিল্লাল হুসাইন

    ঝিকরগাছার পল্লীতে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী(২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত ১৮ মার্চ নাভারন পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপাচার(সিজার) এর মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার (১২মে) আব্দুর রহমান নামের স্থানীয় এক কবিরাজের নামে ঝিকরগাছা থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং- ২১তারিখ ১৩/০৫/২৬ খ্রিঃ, ধারা : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)

     

    সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তান নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে তরুণী। তবে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বাচ্চাকে কোলে নিতে পারেনা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে গেলেও অন্যের সহায়তা নেওয়া লাগে বলে জানান বাড়ির লোকজন।

     

    তরুণীর(ধর্ষিতার) মা বলেন, স্থানীয় কবিরাজ তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান (৬০) প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, মেয়েটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। সে ঠিকমতো সঠিক উচ্চারণে কথাও বলতে পারেনা। গত অক্টোবর মাসে তার শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে আমরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানান মেয়ে ৪মাসের অন্তসত্বা। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানায়, আমাদের প্রতিবেশী হুজুর পান খাওয়ানোর ও টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে তার কবিরাজির ঘরে নিয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করেছেন। প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই বিষয়ে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয় ভাবে সালিশ হয়। অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী আর আমাদের পরিবার গরীব হওয়ায় তারা কোনো সমাধান করেনি। উল্টো ওই পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। থানায় গিয়ে মামলা দিতে চাইলেও স্থানীয় সমাজপতিরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। ফলে সে সময় থানায় মামলাও করতে পারিনি। এরপর গত মার্চ মাসের ১৯তারিখে মেয়ের প্রসব বেদনা উঠলে নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান ডেলিভারি করানো হয়। সন্তান হওয়ার পরে আমরা সমাজের লোকজনের কাছে হেঁটেছি, আমার মেয়ের দায়িত্ব নিতে বলেছি কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেছি।

     

    এদিকে আব্দুর রহমান সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় তার আদী নিবাস খুলনা। ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামী হয়ে সেখান থেকে স্বপরিবারে ঝিকরগাছায় চলে আসেন। তার ২ ছেলে ২মেয়ে ও আছে, সবার বিয়ে সাদি হয়ে গিয়েছে। ছেলেরা বিদেশে থাকে। বাড়িতে তিনি এবং তার স্ত্রী থাকেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের স্ত্রী বলেন, পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায়না। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তিনি সত্য উদঘাটন এর দাবী জানান।

     

    ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ আসামি গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আসামি আত্মগোপনে আছে। দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

     

    স্থানীয় লোকজন এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ও এলাকা বাসীর মনে ক্ষোপের জন্ম নিয়াছে।

  • শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে গলা কে.টে হ.ত্যা করে দুবৃত্তরা; লা.শ ফেলে রাখে গজারী বনে।

    শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে গলা কে.টে হ.ত্যা করে দুবৃত্তরা; লা.শ ফেলে রাখে গজারী বনে।

    মোঃ মিন্টু মিয়া ,

    বিশেষ প্রতিনিধি গাজীপুর:

     

    গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ (২২) নামে এক অটোরিকশা চালককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামের বগারভিটা এলাকার একটি গজারি বনের পাশের কৃষি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত আসিফ ওই গ্রামের মো. হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। নিহত আসিফ দুই বছর আগে তৃতীয় বিয়ে করেন তার একটি ৭ মাসের কন্যা সন্তান রয়েছে। সে আগেও দুটি বিয়ে করেছেন তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরে সে তৃতীয় বিয়ে করে।এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

    নিহতের স্ত্রী মীম আক্তার জানান, বুধবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন আসিফ। সাধারণত রাত ১০টার মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। তবে গত রাতে যথাসময়ে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে কল করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। সকালে গজারী বনে তার গলাকাটা লাশ মিলেছে।নিহতের মা আছমা বেগম জানান, ”ফজরের আজানের পর বাড়ির অদূরে একটি নির্জন স্থানে কেউ আমার ছেলের অটোরিকশাটি ফেলে রেখে যায়। অটোরিকশাটি দেখার পর থেকেই আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। পরে সকালে খুঁজতে খুঁজতে বগারভিটা এলাকায় আসিফের গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি।” আমার ছেলেকে গত ১মাস আগে ব্যাংক থেকে লোনে টাকা তুলে ১লাখ ১০হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনে দিয়েছি।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নারীর ব্যবহারের কিছু সামগ্রী পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

  • কিশোরগঞ্জ সদরে শিক্ষা উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও টিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

    কিশোরগঞ্জ সদরে শিক্ষা উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও টিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

    মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, বৃক্ষরোপণ ও অসহায়দের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

    ​শিক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক মতবিনিময়

    ​উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ।

    ​সভায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত মাদক, বাল্যবিবাহ ও কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধে শিক্ষকদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা শেষে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    ​মানবিক সহায়তা: টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

    ​একই দিনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সদর উপজেলার গরিব ও অসহায় পরিবারের মাঝে আবাসন সহায়তার অংশ হিসেবে ২ বান করে ঢেউ টিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া বজ্রপাতে প্রাণ হারানো ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়ে ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকার চেক প্রদান করা হয়।

    ​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন:

    ​জিএস শরীফ, চেয়ারম্যান, বিআরডিবি।

    ​মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

    ​স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।

    ​প্রধান অতিথির বক্তব্য

    ​প্রধান অতিথি জনাব মাজহারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন,

    ​”শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধান ও দুর্যোগকালীন সহায়তায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ ও সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়তে শিক্ষক সমাজকেই প্রধান কারিগরের ভূমিকা পালন করতে হবে।”

  • স্ট্রোকের রোগীসহ তিন শিক্ষক পদায়ন, যোগ দেয়নি কেউ, মন্তব্য পাওয়া যায়নি অফিসারের

    স্ট্রোকের রোগীসহ তিন শিক্ষক পদায়ন, যোগ দেয়নি কেউ, মন্তব্য পাওয়া যায়নি অফিসারের

    মোঃ মাইদুল ইসলাম

     

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন একজন শিক্ষিকা দিয়ে পাঠদান পরিচালনার সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদানের আদেশ জারি করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে পদায়ন করা শিক্ষকদের মধ্যে একজন তিনবার স্ট্রোক করা রোগী বলে জানা গেছে। এছাড়া নির্ধারিত দিনেও কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।

     

    এর আগে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষিকা দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছিল। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ও শিক্ষা অফিসার এর কিছু অনিয়ম বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

     

    এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান যিনি তিনবার স্ট্রোক করেছেন, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদানের আদেশ দেওয়া হয়।

     

    অফিস আদেশ অনুযায়ী, তাদেরকে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তারা ওই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

     

    তবে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদায়নকৃত কোনো শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।

     

    তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজকে তারা কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। আদেশের কপি আমাকেও দেয়া হয়নি। তবে তাদের মধ্যে একজন স্ট্রোকের রোগী বলেও জেনেছি।”

     

    বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোছাঃ সেলিমা পারভীন বলেন, “সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান তিনবার স্ট্রোক করেছেন। একজন অসুস্থ মানুষ কি এত দূর যেতে পারে? কাছাকাছি শিক্ষকদের দিলে ভালো হতো। আর এই আদেশের আগে আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শও করা হয়নি।”

     

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

     

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি তিনজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে দিয়েছি। আজ তাদের যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু কেন তারা যোগদান করেননি, সেটি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলতে পারবে।”

     

    স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

  • গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে জেব্রা ক্রসিং নির্মাণে শিক্ষার্থীদের স্বস্তি

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে জেব্রা ক্রসিং নির্মাণে শিক্ষার্থীদের স্বস্তি

    মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

    গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কলেজের মূল ফটকের সামনে জেব্রা ক্রসিং নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে কলেজে প্রবেশ করায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল।

    শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সড়ক ভবন থেকে জেব্রা ক্রসিংয়ের কাজ অনুমোদন এনে দেন কলেজ ছাত্রদলের অন্যতম পরিচিত মুখ মো. হামিম। তাঁর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    জেব্রা ক্রসিং নির্মাণকাজ চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করতে কলেজের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে মো. হামিমকে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং সড়ক নিরাপত্তায় সবাইকে এগিয়ে আসার কথা বলেন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের সামনে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হতো। জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

    এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরও ভূমিকা রেখেছেন অভ্র, রিফাত ও তামিম। তাদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হওয়ায় কলেজজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • দিনাজপুরে প্রতিদিন স্টোর এর মানবিক উদ্যোগে উপকৃত শতাধিক পরিবার

    দিনাজপুরে প্রতিদিন স্টোর এর মানবিক উদ্যোগে উপকৃত শতাধিক পরিবার

    মোঃ আইনুল ইসলাম,

    বিভাগীয় সম্পাদক,
    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

    অল্প টাকায় নিত্যপণ্য, স্বাবলম্বিতার স্বপ্নে এগিয়ে নারী সমাজ। সমাজসেবা, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে পরিচালিত “প্রতিদিন স্টোর” এর উদ্যোগে দিনাজপুর শহরের বড় বন্দর নতুন পাড়া ৬ নং ওয়ার্ডে এক ব্যতিক্রমধর্মী পণ্য সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ওয়ার্ডের ৬৫০ জন সদস্যের মধ্য থেকে ২০০ জন সদস্যকে বিশেষ পণ্য প্যাকেজ প্রদান করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানটির জেলা পরিচালক মোছাঃ খালেদা আক্তার পারভীন জানান, দিনাজপুর জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন হাজার সদস্য এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এর আগে প্রায় এক মাস পূর্বে আরও ১,৫০০ সদস্যকে পণ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দিনাজপুর জেলার ১৩টি থানায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে গরিব, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সুবিধা ভোগ করতে পারেন। জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, “প্রতিদিন স্টোর” একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর জেলা অফিস দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘাসিপাড়ায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নম্বর- ৭৭৩৪৯৮৫২৫০৪১৩৮।

    আজকের পণ্য প্যাকেজে ছিল—
    এক কেজি হুইল পাউডার,
    আধা কেজি ডিশ ওয়াশ,
    আধা কেজি হারপিক,
    একটি স্যাভলন সাবান,
    একটি ভীম সাবান এবং
    আধা কেজি সয়াবিন তেল।
    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয়টি পণ্যের এই প্যাকেজে তাদের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা এবং অতিরিক্ত ১০ টাকা প্যাকেজিং খরচসহ মোট ৩১০ টাকা।

    অনুষ্ঠানে জেলা পরিচালক মোছাঃ খালেদা আক্তার পারভীন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,“এই নারী উদ্যোক্তা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা বেকারত্ব কমাতে চাই। মানুষ যেন অল্প টাকায় ভালো মানের পণ্য পায় এবং আমরা যেন মানুষের সেবা করতে পারি—এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। মানুষের সন্তুষ্টিই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”

    প্রধান অতিথি ও নারী উদ্যোক্তা মোছাঃ নীলফা বেগম বলেন,
    “গরিব মানুষের সেবা করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। নারীরা যদি পুরুষের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারে, তাহলে পরিবার ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

    প্রধান উদ্যোক্তা মোছাঃ রুবিয়া বেগম তার উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন,
    “মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে আমার পথচলা শুরু। দুটি ব্রাইট শাড়ি এনে পাঁচটি ওড়না তৈরি করে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি করি। সেখান থেকেই নিজের ভেতরে একজন উদ্যোক্তার আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়।”

    উপকারভোগী সদস্য মোছাঃ রাজিয়া আক্তার বলেন,
    “আমরা এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। অল্প টাকায় ভালো পণ্য পাচ্ছি।”আরেক উপকারভোগী রোকসানারা বেগম বলেন,“এই কার্যক্রম চালু থাকলে সমাজের আরও অনেক গরিব ও অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।”

    প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড অফিসার মোছাঃ রাবেয়া আক্তার বর্ষা বলেন,
    “শুরুর সময় আমাদের জন্য বিষয়টি অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। সদস্যদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা জামানত নিয়ে সদস্য করা হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নির্ধারিত সময়ে কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সদস্যদের সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন,“পরিচালক মহোদয় যদি আমাদের পাশে থাকেন, তাহলে আমরা ঘরে ঘরে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারবো এবং মানুষের সেবা আরও বিস্তৃত করতে পারবো।”

    নারী উদ্যোক্তা মালিয়া আনজুম মুমু বলেন,“শুরুর সময় অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে তেমন সহযোগিতা পাইনি। তবে বাবা-মা, বোন ও স্বামীর উৎসাহ আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”তিনি আরও জানান, “বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৩” উপলক্ষে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” কার্যক্রমের আওতায় অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ক্রেস্ট অর্জন করেন তিনি।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।