Blog

  • জলাবদ্ধতা নিরসনে কালিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

    জলাবদ্ধতা নিরসনে কালিয়ায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

    মোঃ রাসেল শেখ, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল

    দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশনের সংকট ও কৃষিজমির ক্ষতি নিরসনে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নে সুবলের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮৭২ টাকা ব্যয়ে ৫৮০ মিটার খাল পুনঃখননের এ প্রকল্পকে স্থানীয়রা এলাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের ঋষিবাড়ি থেকে প্রধান সড়ক অভিমুখী খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর খালটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অনেক এলাকায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো কৃষক ও সাধারণ মানুষকে। পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণের দৈনন্দিন সমস্যার বাস্তব সমাধানেই এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে টেকসই করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    পুনঃখনন উদ্বোধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম, কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ সেলিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ শিহাব উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্দার আর্মস্ট্রং, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মিলন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ হোসেনসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল পুনঃখননের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

  • রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট দিপুসহ গ্রেফতার ৪

    রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট দিপুসহ গ্রেফতার ৪

    মোঃ কামরুল ইসলাম , রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:-

    ​রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও ১২ মামলার আসামি কাজী আশরাফুল আজম ওরফে দিপুসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।​রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। শহরের তবলছড়ি, অফিসার্স কলোনী এবং মানিকছড়ি চেকপোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই বিশেষ তৎপরতা চালানো হয়।

    ​অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন।

    ​১. কাজী আশরাফুল আজম ওরফে দিপু (৪০): তবলছড়ি ওয়াপদা কলোনী এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, তিনি একজন কুখ্যাত মাদক সম্রাট এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে।২. ইউসুফ হাসান রতন (৩৪): শান্তি নগর এলাকার বাসিন্দা। তাকে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। তিনি দিপুর মাদক ব্যবসায় অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত।৩. দয়াল মনি চাকমা (৪২): কোতোয়ালী থানার বদিপুর এলাকার বাসিন্দা। মাদক বিক্রির সময় তাকে চোলাই মদসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।৪. মোহাম্মদ ইসমাইল (৩২): রিজার্ভ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি যৌতুক নিরোধ আইনের একটি মামলায় (সিআর- ৫১৯/২৬) পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

    ​কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কাজী আশরাফুল আজম দিপু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তবলছড়ি ও মানিকছড়ি এলাকায় ওত পেতে থেকে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।​এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ জানায়, জেলায় মাদক নির্মূল এবং সন্ত্রাস দমনে এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • নওয়াপাড়ায় পৌরসভায় আর ইউ টি ডি পি র দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    নওয়াপাড়ায় পৌরসভায় আর ইউ টি ডি পি র দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    বিশেষ প্রতিনিধি

    ‎যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে রিজিলিয়েন্ট আরবান এ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) আওতায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় নওয়াপাড়া পৌরসভার মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালার দিনব্যপী বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা, ও সিআরএপি শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন, কর্মশালার সভাপতিত্ব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দীন দিপু। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম কুমার সোম।

    ‎আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আশীষ কুমার বসু,আরইউটিডিপি প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদুল ইসলাম,পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মোঃ আল আমিন, আর্কিটেক আজমিরা আক্তার, আর্কিটেক ফারহানা ইসলাম, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নঈম মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্ল্যা, অভয়নগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো রিপানুর ইসলাম রিপন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লবের সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান, অভয়নগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম মাসুম প্রমুখ। এছাড়াও দিনব্যাপী কর্মশালায় টিএলসিসির সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।

  • সান্তাহারে ১৮ বছরেও হয়নি রাস্তার সংস্কার, মানবেতর জীবন এলাকাবাসীর

    সান্তাহারে ১৮ বছরেও হয়নি রাস্তার সংস্কার, মানবেতর জীবন এলাকাবাসীর

    বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর এলাকায় দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সংস্কারহীন পড়ে আছে একটি সংকীর্ণ সড়ক। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই রাস্তাটির কারণে এলাকাবাসীকে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করলেও তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

     

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে বশিপুর এলাকার জনৈক মতিন বাড়ি নির্মাণের সময় চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা না রেখেই স্থাপনা তৈরি করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকাবাসী কার্যত সংকীর্ণ পথে চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন।

     

    বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ৪০ জন মানুষের বসবাস। কিন্তু স্বাভাবিক চলাচলের মতো কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিদিনই নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। মোটরসাইকেল, ভ্যান কিংবা জরুরি প্রয়োজনে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

     

    স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি কোনো ব্যক্তি মারা গেলে মরদেহ খাটিয়ায় করে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত রাস্তার ব্যবস্থাও নেই, যা মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

    এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

     

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, “বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।##

  • ডুমুরিয়ায় গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম বেশ চড়া।

    ডুমুরিয়ায় গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম বেশ চড়া।

    শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।

    ডুমুরিয়া খুলনা বুধবার ১৩ মে‌ ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের কাঁচাবাজারে গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম বেশ চড়া। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

    মে মাসের শুরু থেকেই গরুর মাংসের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

    বর্তমান মূল্য: প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

    কারণ: ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খামার থেকে গরু পরিবহনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়েও মাংসের চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় দাম কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

    পেঁয়াজের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা গেছে।

    বর্তমান মূল্য: দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা (যা গত সপ্তাহে ৬০-৬৫ টাকা ছিল)।

    কারণ বাজারে সরবরাহের সামান্য ঘাটতি এবং পাইকারি পর্যায়ে হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দেওয়াকে দায়ী করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

    সবজির বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল কাঁচা মরিচের দাম।

    বর্তমান মূল্য: প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা (স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে)।

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হওয়াও এর একটি বড় কারণ।

    ডুমুরিয়া উপজেলার বাজার পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও বক্তব্য দিয়েছেন।

    যৌক্তিক মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা: তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা সিন্ডিকেট করে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি না করতে পারে। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে যৌক্তিক লাভে পণ্য বিক্রির জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

    মিজ সবিতা সরকার বাজার পরিদর্শনের সময় ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যদি কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে বা মূল্য তালিকা না রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (যেমন: জরিমানা বা দোকান সিলগালা) নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

    ডুমুরিয়া ও চুকনগরসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তিনি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের মতো পচনশীল পণ্যের সরবরাহ চেইন যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও তিনি নজর রাখছেন। স্থানীয় আড়তদারদের মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে।

    তিনি সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং কোনো বাজারে অসাধু উপায়ে দাম বেশি নেওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে পরামর্শ দিয়েছে।

     

  • লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

    লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

    রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।

     

    লালমনিরহাট জেলা শহরের বাবুপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

     

    আহত যুবকের নাম হৃদয় ইসলাম (২৬)। তিনি লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এরশাদ আলীর ছেলে।

    অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৯) আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে।

     

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হৃদয় ইসলাম। এসময় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন হৃদয়। তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

    পরে দ্রুত তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে।

    ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

     

    আহত হৃদয়ের বাবা এরশাদ আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে হৃদয় ও জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে গত ১৪ থেকে ১৫ মাস ধরে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নানাভাবে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত জান্নাতুল। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন একাধিকবার বসেছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বুধবার সকালে আমরা পাশের কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ হৃদয়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত গলা চেপে ধরে আছে, আর তার পাশে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল।”

     

    লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. করিম বাদশা বলেন, “আহত যুবকের গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

     

    লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

  • একাত্তরের সেই বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর বিদায়ে কাঁদল পুরো গ্রাম

    একাত্তরের সেই বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর বিদায়ে কাঁদল পুরো গ্রাম

    রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ

    একাত্তরের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, স্বাভাবিক জীবন আর সম্মানের নিরাপদ আশ্রয়। স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া সেই বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) এবার বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেও। তার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের মানুষ।

     

    বুধবার (১৩ মে) সকালে রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

     

    এরআগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

     

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

     

    টেপরী রাণী ছিলেন ওই উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বাসিন্দা মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।

     

    স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। চারদিকে তখন যুদ্ধের ভয়াবহতা। পরিবারের সদস্যদের প্রাণ রক্ষার আশায় অসহায় এক বাবা মেয়েকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তুলে দিতে বাধ্য হন। সেই যাত্রায় বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। ছিল শুধু নীরব কান্না আর আতঙ্কে ভারী হয়ে ওঠা পরিবেশ।

    এরপর টানা সাত মাস পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন টেপরী রাণী। নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়ে তিনি রক্ষা করেছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন।

     

    দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পরও সমাজ তাকে আপন করে নেয়নি। অনাগত সন্তানকে নষ্ট করে ফেলার জন্য নানা চাপ আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

     

    পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। কিন্তু সমাজের কটূক্তি পিছু ছাড়েনি তাদের। ছোটবেলা থেকেই সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হতো। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।

     

    দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী। পরের বছর তার জীবনের আত্মত্যাগের গল্প প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

     

    বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য নারীদের আত্মত্যাগের গভীরতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

     

    ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, আমাকে নিয়ে মাকে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু দেশের জন্য মায়ের যে ত্যাগ, সেটা কখনও ভোলার নয়। ২০১৭ সালে মা বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসে।

     

    এবিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দেশের জন্য তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

  • সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র উদ্যোগে বগুড়ার   ঐতিহ্যবাহী আলুঘাটি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র উদ্যোগে বগুড়ার  ঐতিহ্যবাহী আলুঘাটি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মোঃ আল আমিন ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি:

     

     

     

    ৮ মে ২০২৬, শুক্রবার দিনব্যাপী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র উদ্যোগে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলুঘাটি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি এসবি’র ডিআইজি মীর আশরাফ আলী, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সমাজসেবক কর্ণেল (অবঃ) জগলুল আহসান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও এডিবির সাবেক প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবক লেঃ কর্ণেল (অবঃ) মোঃ আব্দুর রহমান, এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল বাসেদ মোঃ রেজাউল বারী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপর সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির ডিসি (ক্রাইম এ্যান্ড অপস) তারেক জোবায়ের, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুর রহমান, বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক ও জিয়া শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, এনএসআই এর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম টিটু। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (হিসাব) আ স ম নাসিমুল ইসলাম লিমন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালক আবু হুরায়রা ইকবাল, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান ড. মো:আনোয়ারুল ইসলাম প্রিন্স, বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, ঢাকা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহিদুর রহমান দিপু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ডক্টর আহসান হাবিব রুবেল, অর্থ সম্পাদক ড. মো: হালিম উল হক লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাসাস ঢাকা মহানগর উত্তর এর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: এনামুল হক, সারিয়াকান্দি উপজেলা কল্যাণ সমিতি ঢাকা এর সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মো: ছালজার রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা এর সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মশিহুর রহমান, বগুড়া জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা এর সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিমানের উপপরিচালক মোঃ হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব সাদাকাতুল বারী পুটু সরকার এবং সমিতির সিনিয়র সদস্য মো: আতিকুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী আজমা সুরাইয়া শিল্পী,সন্ধ্যা রানী দত্ত, ম্যাক আপেল, মতিন চৌধুরী , রীতা ভাদুরি, রাফি তালুকদার ও অপ্সরা ইসলাম রোদেলা। নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যশিল্পী অধরা সরকার রিয়া ও উম্মে নুসরাত নিহা।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ রবিউল হোসেন রবি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি, ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জাকারিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সোনাতলা উপজেলা কল্যাণ সমিতি ঢাকা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আ ফ ম জিন্নাতুল ইসলাম তপন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সমিতির সহ-সভাপতি সৈয়দ আহসান হাবিব আলোক এবং সদস্য সচিব ও সমিতির সহ-সভাপতি এ কে এম আল্লামা ইকবাল।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযান ৪টি ভারতীয় গরু জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযান ৪টি ভারতীয় গরু জব্দ

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। আজ সোমবার (১৩ মে) সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার সুন্দরপুর ও সূর্যনারায়নপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বিজিবি।​জব্দকৃত গরু: ৪টি (হাকিমপুর, ফরিদপুর, মনাকষা ও জহুরপুর বিওপি এলাকা থেকে)।​আনুমানিক মূল্য ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।​ গরুগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি মে মাসে এ পর্যন্ত মোট ১৬টি গরু জব্দ করেছে ৫৩ বিজিবি (মূল্য প্রায় ২৯.৪০ লক্ষ টাকা)।

    ​”সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে দুর্গম ও নদী পথে বিশেষ টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

    — লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি (অধিনায়ক, ৫৩ বিজিবি)।

  • মৃত্যুফাঁদে পাঠদান ফাটল ধরা স্কুল ভবনের বারান্দায় চলছে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    মৃত্যুফাঁদে পাঠদান ফাটল ধরা স্কুল ভবনের বারান্দায় চলছে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

    মোঃ জিয়াউর রহমান

    বিভাগীয় সম্পাদক রংপুর

    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

     

    রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা উপজেলার ১০নং বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের চাঁদপাড়ায় অবস্থিত চাঁদপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন যেন এক ভয়াবহ ঝুঁকির নাম। শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা ও সুরকি। যে কোনো সময় ভবনের ছাদ ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় বিদ্যালয় ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। তবুও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান।

    উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে নির্মিত হয় পাকা ভবন এবং পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ফাটল ভয়াবহ রূপ নেয়। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে থাকায় আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বড় বড় ফাটল দেখা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেন। পরে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনের একটি কক্ষ শিক্ষকদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বাকি তিনটি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে বারান্দায় বেঞ্চ বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সকালে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিকেলে দুই শিফটে ক্লাস চলছে।

    টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। খোলা বারান্দায় ক্লাস করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুমতাহিনা, সামির, ইসমাইল ও মিম জানায়, প্রতিদিন স্কুলে আসতে ভয় লাগে। কখন ছাদ ভেঙে পড়ে সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। বৃষ্টির সময় ও বজ্রপাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজুমান আরা ও সহকারী শিক্ষক ছায়ফুল ইসলাম জানান, ভবনের সব শ্রেণিকক্ষের ছাদে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

    এদিকে অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।