মাসুদ রানা বাবুল
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ হারুনুর রশিদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধান অভিযুক্তদের একজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামী আরিফ সরকারকে (৪০) গত ০৬ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ওই দিনই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিবপুরের নিজ বাসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হারুনুর রশিদ খান। দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসার পর ৩১ মে ২০২৩ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় তার ছেলে আমানুর রশিদ খান বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় আরিফ সরকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে তদন্তের ভার পায় পিবিআই (PBI) নরসিংদী। তদন্তে উঠে আসে যে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আরিফ সরকার। এর আগে এই মামলার আরেক আসামী মহসীনকেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যার স্বীকারোক্তিতে আরিফের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।
আরিফ সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকায় পিবিআই-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আরিফসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পিবিআই।
আসামি হস্তান্তর ও আইনি পদক্ষেপ
ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই পুলিশ আরিফের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও পিবিআই-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম দুবাই গিয়ে আসামীকে নিয়ে আসে। গত ০৬ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংক্ষেপে: বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার পলাতক আসামী আরিফ সরকারকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পিবিআই-এর নিবিড় তদন্ত ও আন্তর্জাতিক পুলিশি সমন্বয়ের ফলে এই সাফল্য অর্জিত হলো।









