Blog

  • ডুমুরিয়ায় কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ: প্রত্যেক কোরবানির ক্রেতার জানা উচিত

    ডুমুরিয়ায় কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ: প্রত্যেক কোরবানির ক্রেতার জানা উচিত

    শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা

    শনিবার ১৬ মে ২০২৬

    ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, খুলনা ডুমুরিয়াসহ সারাদেশের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। এই মৌসুমী উচ্চ চাহিদার সুযোগ নিয়ে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক আর্থিক লাভের জন্য কোরবানির পশুদের কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই অনৈতিক কার্যকলাপ পশুর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং ভোক্তাদের জন্যও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    এই বিষয়ে নির্দেশনা দিতে গিয়ে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবিদ্যা বিভাগের মোহাম্মদ আলম মিয়া ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে ক্রেতারা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো চিনতে পারবেন। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু এবং

    ড. আলম মিয়ার মতে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর প্রায়শই নাক শুষ্ক থাকে, শরীর ফোলা ও থলথলে হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এই প্রাণীগুলো অল্প দূরত্ব হাঁটার পরেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সাধারণত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।

    এদের প্রায়শই দুর্বল, নিস্তেজ দেখায় এবং এমনকি ঠিকমতো দাঁড়াতেও কষ্ট হতে পারে। তিনি বলেন, এই ধরনের গবাদি পশু স্পর্শ করলে শারীরিক প্রতিক্রিয়া কমে যায়। আঙুল দিয়ে তাদের শরীরে চাপ দিলে চামড়া দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না এসে কিছুক্ষণ দেবে যায়। উরুর পেশীগুলোও অস্বাভাবিক নরম অনুভূত হয়, এবং তাদের হাড় তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ায়।

    বিশেষজ্ঞ আরও উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গবাদি পশুর সাধারণত ক্ষুধা কম থাকে এবং জাবর কাটা অনিয়মিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের মুখ থেকে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে পারে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পশুর হাটে নিয়ে যাওয়ার পর তারা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং একবার বসলে প্রায়শই উঠতে দ্বিধা করে।

    সুস্থ গবাদি পশুর লক্ষণ ব্যাখ্যা করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল কবির বলেন, একটি সুস্থ গরুর সাধারণত নাক ভেজা থাকে, চোখ উজ্জ্বল হয় এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়। সুস্থ গবাদি পশু স্বাভাবিকভাবেই সক্রিয় থাকে, খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং নিয়মিত জাবর কাটে। তাদের চামড়াও টানটান ও চকচকে দেখায়।

    তিনি আরও বলেন যে, যদি প্রাণীটির শরীরে চাপ প্রয়োগ করলে তা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে এটি সাধারণত স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজাকরণের লক্ষণ। তবে, চাপ দেওয়া স্থানটি যদি দেবে যায়, তবে তা অস্বাভাবিক পানির উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে।

    কৃষকদের উদ্দেশে ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ আবু সাঈদ সুমন বলেন,অনেক গবাদি পশুপালক অযোগ্য চিকিৎসক বা হাতুড়েদের পরামর্শে ডেক্সামেথাসোন এবং প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। এই ধরনের ওষুধ পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয় এবং যকৃত ও কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, পশুর আকস্মিক মৃত্যুও হতে পারে।

    সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গবাদি পশুকে স্বাভাবিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে মোটাতাজা করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে দুই থেকে চার বছর বয়সী সুস্থ গবাদি পশু নির্বাচন, নিয়মিত কৃমিমুক্তকরণ, সুষম খাদ্য সরবরাহ, ভিটামিন ও খনিজ সম্পূরক প্রদান এবং খামারের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা।

    সঠিক যত্ন নিলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গবাদি পশুকে স্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করা সম্ভব। তিনি ক্রেতাদের কোরবানির পশু নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং শুধুমাত্র আকার দেখে বিচার না করে পশুর আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, নাকের অবস্থা এবং চলাফেরার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা পশুচিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করার জন্যও তিনি উৎসাহিত করেছেন।

    ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার জানান:মেডিকেল টিম: ডুমুরিয়ার প্রতিটি বড় পশুর হাটে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকে। কোনো পশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা তাৎক্ষণিক তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত: ক্ষতিকর ঔষধ বিক্রি বা ব্যবহার রোধে নিয়মিত বাজার ও খামার মনিটরিং করা হচ্ছে। পশুর হাটে কোনো প্রকার অনিয়ম বা কৃত্রিম গরু বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    “আমরা চাই ডুমুরিয়াবাসী নিরাপদ ও সুস্থ পশু কোরবানি দিক। ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা হুজুগে বা শুধুমাত্র আকৃতি দেখে পশু না কিনে এর সুস্থতা যাচাই করুন। কোনো পশু অসুস্থ মনে হলে হাটে দায়িত্বরত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানান। আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর কোরবানির পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

     

     

     

     

  • হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ হল রুমে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর উদ্দ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

    হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ হল রুমে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর উদ্দ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

    নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিবিধি:-

    বাংলাদেশ প্রেসক্লাব হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্দ্যেগে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সাংবাদিক পরিচয় উদ্বোধনের মাধ্যম দিয়ে গতকাল শুক্রবার দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর সাংবাদিকরা আসতে থাকে জেলা পরিষদ হল রোমে। সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ হল রোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এম.এ হান্নান।

    বাংলাদেশ প্রেসক্লাব হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বেলাল ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোতালিব তালুকদার দুলাল এর যৌথ পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ফরিদ খাঁন। উদ্ভোধন শেষে সাংবাদিক ফরিদ খাঁনকে সবাই ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে সকলের পরিচয় পর্ব শেষে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট হবিগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফরিদ খাঁন।

     

    এতে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সিলেট বিভাগীয় সভাপতি রোমান আহমদ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব হবিগঞ্জ জেলা শাখার উপদেষ্টা এম.এ.এন.এম শিবলী খায়ের, হবিগঞ্জ সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হোসেন খাঁন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল কাদির কাজল, হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এপিপি এডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী। এছাড়াও সিলেট বিভাগের ৯টি উপজেলার আগত সাংবাদিকরা তাদের মতামত, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গঠনমূলক মত প্রকাশ করেন।

     

    প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গণমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম সাময়িক বিষয়াদী, সাংবাদিকদের মান উন্নয়ন সহ সংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে করার আহবান জানান অতিথিরা।

    নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক গণমাধ্যম সম্পর্কে বাস্তব ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর সদস্যদের কল্যান, সাংবাদিকদের পেশাগত সংকট ও বর্তমান গণ মাধ্যমের নানান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

     

    এছাড়াও সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ,আজমেরিগঞ্জ, বানিয়াচং জেলার শাখার নেতৃবৃন্দ।

  • ঐতিহ্যের ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে মাঠে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু

    ঐতিহ্যের ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে মাঠে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু

    এম মিজানুর রহমান,চট্টগ্রাম:

    চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডকে ঘিরে শুরু হয়েছে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এরই মধ্যে জনসম্পৃক্ততা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু।

     

    ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফিরিঙ্গীবাজারের নামকরণের পেছনেও রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। তৎকালীন চট্টগ্রামের শাসক ছিলেন গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ। ১৬শ শতকের প্রথম দিকে চট্টগ্রামে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে। পর্তুগিজরা এ অঞ্চলে “ফিরিঙ্গি” নামে পরিচিত ছিল। ১৫৩৭ সালে শের শাহের আক্রমণে ভীত হয়ে সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ সামরিক সহায়তার বিনিময়ে পর্তুগিজদের চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি ও বন্দরের শুল্ক আদায়ের অধিকার প্রদান করেন। পরবর্তীতে তারা দেয়াঙ্গ এলাকায় বাণিজ্যকেন্দ্র, গির্জা, শুল্ক সংগ্রহ কেন্দ্র ও পণ্যের আড়ত গড়ে তোলে। সেই সূত্র ধরেই এলাকাটি “ফিরিঙ্গি বাজার” নামে পরিচিতি লাভ করে।

     

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই ওয়ার্ডের পূর্বে পাথরঘাটা, উত্তরে আন্দরকিল্লা, পশ্চিমে আলকরণ ও দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও চর পাথরঘাটা ইউনিয়ন অবস্থিত। এলাকাটি নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ফলের আড়তের বাজারের জন্য ফিরিঙ্গীবাজারের সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা ২৬ হাজার ৬২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ হাজার ৩৩১ জন এবং নারী ১২ হাজার ২৮৯ জন। মোট পরিবার রয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪টি। তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তবে এ ওয়ার্ডে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে।

     

    দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু বলেন, “ফিরিঙ্গীবাজারের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমি সবসময় সম্পৃক্ত ছিলাম। এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়াও মাদক, কিশোর গ্যাং এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেব।”

    তিনি আরও বলেন, “৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার এলাকায় এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই। আমি নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। অনেক সময় নিজে উপস্থিত থেকে ড্রেন পরিষ্কার ও সচল রাখার কার্যক্রম তদারকি করছি।”

    এছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছি।

     

    রাজনৈতিক জীবনের বিষয়ে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু জানান, তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

     

    তিনি বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। তারপরও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার মানুষের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ উন্নয়ন ও সেবার রাজনীতিকে মূল্যায়ন করবে।”

     

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ, রমজান, পূজা-পার্বণ, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাং নির্মূলের চেষ্টার মাধ্যমে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

     

    নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক ফিরিঙ্গীবাজার গড়ে তুলতে চাই। পরিকল্পিত সড়ক সংস্কার, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাজ করব। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

     

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্য, জনঘনত্ব ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের নির্বাচন সবসময়ই আলোচনায় থাকে। এবারের নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগের দিক থেকে মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু ইতোমধ্যে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

  • কাভার্ডভ্যান ভর্তি প্লাস্টিক দানা আত্মসাৎ: চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৩ জন, মালামাল উদ্ধার।

    কাভার্ডভ্যান ভর্তি প্লাস্টিক দানা আত্মসাৎ: চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৩ জন, মালামাল উদ্ধার।

    মোঃ শাহজাহান বাশার

    চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যান ভর্তি বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক দানা আত্মসাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আত্মসাৎ হওয়া ২৬০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা ও একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ।

    পুলিশ জানায়, প্যারাগন প্লাস্টিক লিমিটেডের আমদানিকৃত ৫২০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা চট্টগ্রামের একটি ডিপো থেকে নির্ধারিত কারখানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-০৮০২ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান ভাড়া করা হয়। চালানে থাকা মালামালের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

    তবে অভিযোগ ওঠে, গত ৪ মে রাত ৮টা থেকে ৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে কাভার্ডভ্যান চালক ও তার সহযোগীরা পরস্পরের যোগসাজশে মালামাল নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করে। পরে এ ঘটনায় ৯ মে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলার পরপরই তদন্তে নামে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারেছ মো. কুসুমের নেতৃত্বে একাধিক টিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেন এসআই সৈয়দ ফকরুল ইসলাম, এসআই সজীব কুমার আচার্য্যসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।

    তদন্তের একপর্যায়ে গত ১১ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম আলী ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ডভ্যানের চালক মো. রাশেদকে আটক করে পুলিশ।

    পরবর্তীতে রাশেদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে আশরাফ আলী সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো স্থান থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানার সুদাফা পূর্বপাড়া ভাদাম রোড এলাকার একটি গোডাউন থেকে আত্মসাৎ হওয়া ২৬০ ব্যাগ প্লাস্টিক দানা এবং ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ আত্মসাতের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

  • গোপালগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন  সভাপতি রনি, সম্পাদক বাঁধনের বড় জয়

    গোপালগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন সভাপতি রনি, সম্পাদক বাঁধনের বড় জয়

    মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

     

    গোপালগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে একাত্তর টেলিভিশনের আজিজুর রহমান রনি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দেশ টিভির শেখ জাবেরুল ইসলাম বাঁধন নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বাঁধন বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

    বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর ফল ঘোষণা করেন।

    নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে আজিজুর রহমান রনি ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাই টিভির আরিফুল হক আরিফ পান ১৪ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ জাবেরুল ইসলাম বাঁধন ২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যানেল এস টিভির কাজী মাহমুদ পান ৩ ভোট।

    সহসভাপতির দুটি পদের একটিতে আর টিভির আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অপর পদে বিজয় টিভির অছিকুজ্জামান ও এসএ টিভির আজিজুর রহমান টিপু সমান ১২ ভোট পাওয়ায় লটারির মাধ্যমে অছিকুজ্জামানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ পদে সময় টিভির জয়ন্ত শিরালী পান ৯ ভোট।

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দীপ্ত টিভির হুসাইন ইমাম সবুজ ১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নাগরিক টিভির আশিক জামান পান ১২ ভোট।

    সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এশিয়ান টিভির তানভীর হাসান সৈকত ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গ্লোবাল টিভির হেমন্ত বিশ্বাস পান ৬ ভোট।

    কোষাধ্যক্ষ পদে এনটিভির মো. মাসুদ পারভেজ ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনন্দ টিভির মো. সেলিম রেজা পান ১১ ভোট।

    নির্বাহী সদস্যের চারটি পদে বাংলা টিভির সৈয়দ আকবর হোসেন, স্টার টিভির নুরুল আলম ফয়সাল, নিউজ-২৪ টিভির সামিউল আলিম এবং চ্যানেল ওয়ান টিভির সঞ্জয় বিশ্বাস নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা যথাক্রমে ২৩, ২৯, ২৬ ও ২৬ ভোট পান। অপর প্রার্থী একুশে টিভির মো. রায়হান মুন্সী পান ১১ ভোট।

    সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩১ জন ভোটারের মধ্যে ৩০ জন ভোট দেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

    নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এস এম হুমায়ূন কবীর। তাঁকে সহযোগিতা করেন আমিনুল হাসান শাহীন, নুতন শেখ ও শরিফুল ইসলাম।

  • জনগণ চাইলে কুমিল্লা বিভাগ হবে : প্রধানমন্ত্রী

    জনগণ চাইলে কুমিল্লা বিভাগ হবে : প্রধানমন্ত্রী

    এ.কে পলাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

     

    কুমিল্লাকে বিভাগ করা জনগণের দাবি হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে পথসভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    পর্যায়ক্রমে সব ওয়াদা পালন করার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে বিএনপি জনগণকে যে ওয়াদা দেয়, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ইমাম, মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন আমরা নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মানুষকে কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। এই এলাকার মানুষও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। আগামী জুনে যে বাজেট, সেখানে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বরাদ্দ রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম, মামলা করা হতো। দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাদেরকেই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বহু মানুষ শহীদ হয়েছে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মানুষ এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ মুক্ত হয়েছে সেই অবস্থা থেকে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলে হবে না— দেশ যদি স্বাধীন করি, দেশকে যদি স্বৈরাচারমুক্ত করি, পরবর্তী কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।

  • যুক্তরাষ্ট্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলো নরসিংদীর মাহিবাহ নূর

    যুক্তরাষ্ট্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলো নরসিংদীর মাহিবাহ নূর

    নরসিংদী প্রতিনিধি:

     

    বিদেশের মাটিতে অসাধারণ শিক্ষাগত সাফল্য অর্জন করে নরসিংদীর মাধবদীর সন্তান মাহিবাহ নূর আবারও প্রমাণ করলো—বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চেও মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্বনামধন্য পিঙ্কনিভিল মিডল স্কুলে (Pinckneyville Middle School) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ ‘এ’ গ্রেড অর্জন করে সে পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘অল-এ অনার রোল’ (All As Honor Roll) সম্মাননা।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় এ স্বীকৃতি অত্যন্ত সম্মানজনক হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধুমাত্র ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়ে থাকে। মাহিবাহর এ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝেও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

     

    মাহিবাহ নূরের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাসানিয়া গ্রামে। তার বাবা অধ্যাপক ডা. এ.বি.এম মাহাবুব রহমান দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের সুপরিচিত নাম। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন হিসেবেও তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে।

     

    বর্তমানে কর্মসূত্রে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন অধ্যাপক ডা. মাহাবুব রহমান। অন্যদিকে তার পরিবার বসবাস করছে যুক্তরাষ্ট্রে। মেয়ের এমন অনন্য সাফল্যে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহিবাহর সম্মাননার সনদ শেয়ার করেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

     

    স্বজনরা জানান, বিদেশে বেড়ে উঠলেও মাহিবাহ নূর পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তার এই সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, নরসিংদী তথা দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।

     

    এদিকে অধ্যাপক ডা. মাহাবুব রহমান তার পিতার প্রতিষ্ঠিত ‘জামিয়া মুহাম্মাদিয়া ও এতিমখানা চরভাসানিয়া’ মাদরাসার মোতাওয়াল্লি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও দ্বীনি কার্যক্রমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছেন।

  • খুলনায় জলদস্যু বাছেদ শিকদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ 

    খুলনায় জলদস্যু বাছেদ শিকদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ 

    আল মুনসুর

    ক্রাইম রিপোর্টার সমগ্র বাংলাদেশ

    দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে জলদস্যুতা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত জলদস্যু বাছেদ শিকদার (রাজু বাহিনীর সদস্য) আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রের সহযোগিতায় তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়, জমি দখল এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

     

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাছেদ শিকদার ও তার সহযোগীরা খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী, কৃষক ও জমির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ ব্যক্তিদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা মৎস্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত বাহনে অস্ত্র বা মাদক রেখে কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় সাজানো অভিযানের মাধ্যমে হয়রানি করা এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

     

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাছেদ শিকদারের বিরুদ্ধে অতীতেও জলদস্যুতা, অপহরণ ও দখলবাজির নানা অভিযোগ ছিল। ২০১৭ সালে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকায় অবস্থান নেন। কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনে থাকার পর সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না কেউই।

     

    রূপসা ধানাধীন আলাইপুর গ্রামের ফাতেমা বেগম নামে এক নারী জানান, আমার স্বামী একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। জলদস্যু বাছেদ শিকদার আমাদের কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে জলদস্যু বাছেদ শিকদার আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল দিয়ে গুলি করতে উদ্যত হন এবং তার বাহিনীর সদস্যরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলার পর জলদস্যু বাছেদ শিকদার ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে’ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চলে যান। আমাদের নিরাপত্তার জন্য আমার স্বামী মোহাম্মদ আলী জলদস্যু বাছেদ শিকদারসহ আরও দুজনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা করেন। যার মামলা নং- সিআর ৩১/২৫, তারিখ- ১৯/০৩/২০২৫ ইং। এর কিছুদিন পর সকালবেলায় আমার স্বামী মাছের রেনু পোনা নিয়ে বিক্রির উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে বের হলে জলদস্যু বাছেদ শিকদারের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার আসাদুল বারীসহ সঙ্গীয় ফোর্সের কথিত মাদক উদ্ধার অভিযানে রূপসা ব্রিজের প্রধান সড়কের উপর রুপা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক দিয়ে আটক করে আমার স্বামীকে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করেন। বর্তমানে আমার স্বামী জলদস্যু বাছেদ শিকদারের ষড়যন্ত্রে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন। কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার আসাদুল বারী ভ্যানের চালক হেজবুল্লাহ’কে (বাছেদ শিকাদারের মামা) কৌশলে পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দেন। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

     

    একই গ্রামের ফারুক শিকদার নামে আরও এক ব্যক্তি জানান, জলদস্যু বাছেদ শিকদার ইতিপূর্বে আমার কাছেও চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন এবং আমার জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি জলদস্যু বাছেদ শিকদারসহ তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় জিডি এবং বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেছি।

     

    তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জলদস্যু বাছেদ শিকদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব কর্মকাণ্ডে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ফলে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাচ্ছেন না।

     

    একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা শফিউল্লাহ জানান, বাছেদ শিকদার সুন্দরবনে ডাকাতি করতো। তার নামে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ বহু মামলা রয়েছে। আত্মসমর্পণের পরও তিনি দেদারছে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

     

    তিনি আরও জানান, আমরা নিজেরাই ভুক্তভোগী কিন্তু মুখ খোলার সাহস নেই। মুখ খুললেই কোস্টগার্ডের সদস্যদের দিয়ে আমাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। কোস্টগার্ডের সদস্যদের সাথে রয়েছে তার দহরম-মহরম। কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের গাড়িতে করে প্রায়ই সময় জলদস্যু বাছেদ শিকদারকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যান।

     

    আলাইপুর ৩নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ নূর আলম জানান, বাছেদ শিকদার পূর্বে জলদস্যু ছিল। আত্মসমর্পণ করে তিনি ভালো হয়ে গেছেন। বসিরের কাছ থেকে বাছেদ শিকদারের ছোট ভাই আমিন শিকদার একটি জমি কিনেছে। ওই জমি নিয়েই ঝামেলা। যেহুতে দীর্ঘদিন জলদস্যুতা করেছে, কোস্টগার্ডের সাথে একটু সুসম্পর্ক থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে একটি মহলের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

     

    এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাছেদ শিকদারের বাড়িতে গেলে তিনি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

     

    জলদস্যু বাছেদ শিকদারের ছোট ভাই আমিন শিকদার জানান, আমার ভাই জলদস্যু ছিল। আত্মসমর্পণের পর থেকে সে ব্যবসা বাণিজ্য করেন। আমি এর বাইরে কিছুই জানি না। তবে বসির শিকদারের কাছ থেকে আমাদের একটি ক্রয়কৃত জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে নিবো।

     

    বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিসিজি স্টেশন, রূপসা’র পেটি অফিসার আসাদুল বারী’র বক্তব্য জানতে তার দপ্তরে গেলে তিনি সাক্ষাৎ করেননি। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি কোন বক্তব্য প্রদান করেননি।

     

    কোস্টগার্ডের অভিযানে আটক আসামী লবণচরা থানায় হস্তান্তরের বিষয়ে লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার আসাদুল বারী আসামী আটক করে জব্দ তালিকা নিয়ে আসামীকে থানায় হস্তান্তর করেন। আমরা নিয়ম মোতাবেক আসামীকে আদালতে হাজির করেছি।

     

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তারা দাবি করেন।

     

    এদিকে বাছেদ শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

  • সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক কারবারি আটক

    সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক কারবারি আটক

    আমির হোসেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৯০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল ও হেলমেটসহ মোঃ সাগর মিয়া (২০) নামে এক মাদক চোরাকারবারীকে আটক করেছে ২৮ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার ভোরে উপজেলার বিরেন্দ্রনগর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত সাগর মিয়া তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট বড়ছড়া গ্রামের রহম আলীর ছেলে।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে সাগর মিয়া অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে শনিবার ভোরে বিরেন্দ্রনগর সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিজিবির টহল দল তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ৮৯০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল ও একটি হেলমেট জব্দ করা হয়।

    ঘটনাস্থলটি সীমান্ত পিলার ১১৯৩/৪-এস থেকে আনুমানিক ১ হাজার ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিরেন্দ্রনগর এলাকায় অবস্থিত বলে জানিয়েছে বিজিবি।

    জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের মূল্য ১ লাখ টাকা এবং হেলমেটের মূল্য ১ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

    আটককৃত আসামিকে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ তাহিরপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এদিকে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক ও হেরোইনসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক ও হেরোইনসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২ কেজি গান পাউডার ও ১৫০ গ্রাম হেরোইনসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর মডেল থানার মামলা নং-৩২, তারিখ ১৬/০৫/২০২৬ এবং পূর্বের একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এসআই/এসএম রাসেল কবির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, মামলার আসামিরা ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. রাব্বি (২৬), মো. সোহেল ওরফে জিনজিরা (৩০) এবং মো. সুমিত ওরফে আলিফ (২৪)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবনে তারা বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু (গান পাউডার) ও হেরোইন মজুদ রেখেছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুইটি সাদা পলিথিনে রাখা মোট ২ কেজি গান পাউডার এবং দুইটি পলিপ্যাকে রাখা ১৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা এবং গান পাউডারের মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।