Blog

  • হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডেবিল হান্ট টু এর অভিযানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক গ্রেফতার।

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডেবিল হান্ট টু এর অভিযানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক গ্রেফতার।

    বুলবুল আহমেদ,

    নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:-

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর লক্ষনীয়। অপশক্তি যেন কোন ভাবে নির্বাচনকে বানচাল করতে না পারে সে দিকে লক্ষ দিয়ে প্রশাসন নেমেছে বিশেষ অভিযানে!
    সূত্রে জানাযায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা ৯নং বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ জেলার গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশ।
    গত (২ফেব্রুয়ারী) সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের রিফাতপুর তার নিজ গ্রামের বাড়ি থাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    এদিকে, আওয়ামীলীগ নেতা আবু সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেফতার করায় নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিএনপির অনেকেই দাবী করছেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন বানচাল করার পায়তারা করেছিলো আবু সিদ্দিক। এরই সূত্র ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ থাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

  • বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, ডিবি পুলিশের অভিযানে বাধা।

    বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, ডিবি পুলিশের অভিযানে বাধা।

    তরিকুল ইসলাম
    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি ক্রাইম রিপোর্টার 
    বরিশাল প্রতিনিধি

     

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগ রয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের গাড়ি থেকে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
    রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠী বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইয়াসির আরাফাত ওরফে সোহেল কাজীকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশ।
    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সোহেল কাজীকে আটক করে ডিবি পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় হঠাৎ করে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযানে বাধা দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।
    এ বিষয়ে বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রেদোয়ান বলেন, রাহুতকাঠী এলাকায় একটি ঘটনা ঘটেছে। বিস্তারিত বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দিতে পারবেন।
    বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা আনোয়ার বলেন, অভিযানিক টিম মাঠে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
    একই ধরনের বক্তব্য দেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসির আরাফাত ওরফে সোহেল কাজী বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি যুবদল নেতা রাকিবুল হাসান খান রাকিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—এমন কথাও এলাকায় আলোচিত হচ্ছে।
    ঘটনার বিষয়ে যুবদল নেতা রাকিবুল হাসান খান রাকিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
    এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়া এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের জন্য উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • সালথায় রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ায় চাকরিচ্যুত হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক।

    সালথায় রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ায় চাকরিচ্যুত হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক।

    সাকিল হোসেন
    ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
    দুনির্তী তালাশ নিউজ টিভি

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ার অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া মাদ্রাসায় কর্মরত ওই শিক্ষক সম্প্রতি নির্বাচনী পরিবেশে প্রকাশ্যে রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে।

    পরবর্তীতে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট নোটিশও প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, তাকে তার সমস্ত দেনা পাওনা পরিশোধ করে, তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
    “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণায় জড়ালে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও পরিবেশ নষ্ট হয়। বিধি ভঙ্গ করায় বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

    অন্যদিকে চাকরিচ্যুত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
    “আমি কারও বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। স্থানীয়ভাবে অনুরোধ করায় ভোট চেয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি হারানোটা আমার জন্য খুব কষ্টের।”

    এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, শিক্ষকদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে থাকা উচিত। আবার অনেকেই বলছেন, বিষয়টি নিয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনা চলছে।

  • রাস্তা তো নয়, যেন মরণফাঁদ বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কে চরম ভোগান্তি, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    রাস্তা তো নয়, যেন মরণফাঁদ বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কে চরম ভোগান্তি, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    এইচ এম সাগর (হিরামন)

    খুলনার বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পার পটিয়াঘাটা, হেতালবুনিয়া, মাইলমালা, বটতলা, রায়পুর, টাকিমারি, ফুলবাড়ী স্থানে রাস্তার ভয়াবহ চিত্র। এসব এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সামান্য অসতর্কতায় উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও যানবাহন চালকদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীবাহী যান ও শিক্ষার্থী সহ ব্যবসায়ীদের বহনকারী যানও এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। খুলনার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই খুলনার বটিয়াঘাটা পাইকগাছা দারুনমল্লিক সড়কটি। যা মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রায়পুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহাবুউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এলাকার বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ভাই কি বলবো রাস্তা তো নয়, যেন মরণ ফাদ। প্রতিদিনই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। মাঝেমধ্যে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিছু সংস্কার করে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু দিনের মধ্যে সেই ইট হারিয়ে যায়। পুনরায় খানা গর্তে পরিণত হয় সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবি,জরুরি ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা-পাইকগাছা সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পায়। গতকাল রবিবার উক্ত সড়কের রায়পুর ক্লাব সংলগ্ন মিজান শেখের বাড়ির সামনে বালুবাহী একটি টমটম গাড়ি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়। আহত হয় চালকসহ দুজন হেলপার। এভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রায়পুর দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোঃ আহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় আসছে অনেক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা অনেক ভয়ানক অবস্থা ধারণ করেছে। রায়পুর মসজিদের পাশে সড়কটি ভেঙে পুকুরের ভিতরে চলে যাচ্ছে। তার কিছু দুরে রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ।
    সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ছোটখাটো কিছু না কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাসের বাণী শোনান। খুলনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন,অধিকাংশ রাস্তা আমরা সংস্কার করেছি। মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। অতিসত্তার সেটা সংস্কার করা হবে। ##

    রাস্তা তো নয়, যেন মরণফাঁদ
    বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কে চরম ভোগান্তি, প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা

    হিরামন মন্ডল সাগর, বটিয়াঘাটা খুলনা :
    খুলনার বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পার পটিয়াঘাটা, হেতালবুনিয়া, মাইলমালা, বটতলা, রায়পুর, টাকিমারি, ফুলবাড়ী স্থানে রাস্তার ভয়াবহ চিত্র। এসব এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সামান্য অসতর্কতায় উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও যানবাহন চালকদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীবাহী যান ও শিক্ষার্থী সহ ব্যবসায়ীদের বহনকারী যানও এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। খুলনার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই খুলনার বটিয়াঘাটা পাইকগাছা দারুনমল্লিক সড়কটি। যা মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রায়পুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহাবুউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এলাকার বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ভাই কি বলবো রাস্তা তো নয়, যেন মরণ ফাদ। প্রতিদিনই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। মাঝেমধ্যে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিছু সংস্কার করে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু দিনের মধ্যে সেই ইট হারিয়ে যায়। পুনরায় খানা গর্তে পরিণত হয় সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবি,জরুরি ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা-পাইকগাছা সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পায়। গতকাল রবিবার উক্ত সড়কের রায়পুর ক্লাব সংলগ্ন মিজান শেখের বাড়ির সামনে বালুবাহী একটি টমটম গাড়ি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়। আহত হয় চালকসহ দুজন হেলপার। এভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রায়পুর দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোঃ আহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় আসছে অনেক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা অনেক ভয়ানক অবস্থা ধারণ করেছে। রায়পুর মসজিদের পাশে সড়কটি ভেঙে পুকুরের ভিতরে চলে যাচ্ছে। তার কিছু দুরে রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ।
    সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ছোটখাটো কিছু না কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাসের বাণী শোনান। খুলনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন,অধিকাংশ রাস্তা আমরা সংস্কার করেছি। মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। অতিসত্তার সেটা সংস্কার করা হবে। ##

  • সাংবাদিক কি হকার!? ইসিকে প্রশ্ন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ সাওপ এর।

    সাংবাদিক কি হকার!? ইসিকে প্রশ্ন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ সাওপ এর।

    ​ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললেও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়ম এখনো সেকেলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। পর্যবেক্ষণ কার্ডের জন্য সাংবাদিকদের কেন পত্রিকার কপি হাতে করে জমা দিতে হবে?

    সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (DFP) কাছে প্রতিটি নিয়মিত পত্রিকার তালিকা থাকে। যেখানে সরকারের কাছে নিয়মিত কপি যায়, সেখানে আলাদা করে সাংবাদিকদের কপি জমা দেওয়াটা কেবল সময় নষ্ট নয়, বরং পেশাগত অমর্যাদা।

    একজন সাংবাদিকের কাজ সংবাদ সংগ্রহ করা, তথ্য বিশ্লেষণ করা। কিন্তু কপি জমা দেওয়ার এই বাধ্যবাধকতা সাংবাদিকদের পেশাদার পরিচয়ের চেয়ে ‘হকার’ বা ‘ডেলিভারি ম্যান’ হিসেবে বেশি তুলে ধরছে। ডিএফপি তালিকা যখন আছেই, তখন সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ কার্ড নবায়ন বা প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। সাংবাদিকদের মাঠের কাজ ফেলে দপ্তরে দপ্তরে পত্রিকা নিয়ে ঘোরানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।

    একই সাথে অনলাইন পোর্টাল, আইপি টিভি, ইলেকট্রনিক এর ক্ষেত্রে কেন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তালিকা এবং প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে? আপনাদের কাছে কি তালিকা নেই? আপনারা কেন যাচাই বাচাই করতে পারেন না? যা আপনারা যাচাই বাচাই করতে না পারেন তেমন নিয়ম তৈরি না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

    ​আমরা সম্মান নিয়ে কাজ করতে চাই, বোঝা বয়ে বেড়াতে নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন—এই সেকেলে নিয়ম পরিবর্তন করে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করুন।

  • সীমান্তে ৫৩ বিজিবি পৃথক অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও গরু জব্দ

    সীমান্তে ৫৩ বিজিবি পৃথক অভিযানে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ও গরু জব্দ

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ০১ ফেব্রুয়ারি রাত ০১টা হতে সকাল ০৮টা পর্যন্ত ৫৩ বিজিবি এর বিশেষ টহলদল পৃথক ০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ ও ০৭টি গরু জব্দ করে। অভিযানসমূহে ৫৩ বিজিবির অধীনস্থ মনোহরপুর বিওপি হতে শিবগঞ্জ থানাধীন দুর্লভপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রাম থেকে ৩৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, চরবাগডাংগা বিওপি হতে সদর থানাধীন চরবাগডাংগা ইউনিয়নের রানীনগর গ্রাম থেকে ০২টি গরু এবং বাখেরআলী বিওপি হতে সদর থানাধীন নারায়নপুর ইউনিয়নের মুন্নাপাড়া গ্রামের পদ্মা নদীর চর থেকে ০৫টি গরু জব্দ করা হয়।
    জব্দকৃত ভারতীয় নেশাজতীয় সিরাপ, গরু এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৯ লক্ষ টাকা।জব্দকৃত নেশাজাতীয় সিরাপ শিবগঞ্জ থানায় এবং গরু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা করা হয়েছে।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষাসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান এবং অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। এছাড়াও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ে ভ্রাম্যমান ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠানের উদ্বোধন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ে ভ্রাম্যমান ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠানের উদ্বোধন

    পঞ্চগড়, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে পঞ্চগড়ে ট্রাকযোগে ভ্রাম্যমান উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উক্ত অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জনাব কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান, জেলা প্রশাসক, পঞ্চগড় ও রিটার্নিং অফিসার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মঞ্জুরুল হাসান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, পঞ্চগড়। এছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশ–২০২৬ এর প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

    ভ্রাম্যমান এই সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারদের সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

    জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

  • খেজুর রসে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগে বিরল উপজেলায় যৌথ অভিযান

    খেজুর রসে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগে বিরল উপজেলায় যৌথ অভিযান

    মোঃ আইনুল ইসলাম
    বিভাগীয় সম্পাদক,
    দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

    অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রস বিক্রির দায়ে জরিমানা, নমুনা সংগ্রহ
    দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় খেজুর রসে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয় দিনাজপুর এবং উপজেলা প্রশাসন, বিরল-এর যৌথ উদ্যোগে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

    রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পরিচালিত অভিযানে বিরল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ইশতিয়াক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খেজুর রস উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে খেজুর রসে স্যাকারিন ব্যবহারের বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অধিকতর তদন্ত ও পরীক্ষার লক্ষ্যে খেজুর রস ও খেজুর গুড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর রস বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় বিধি মোতাবেক তাকে ২,০০০ (দুই হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধারাবাহিক নজরদারি ও নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজালের ঝুঁকি কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ জনগণের।

  • ২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমান: সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন

    ২২ বছর পর খুলনায় তারেক রহমান: সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন

    আজিজুল গাজী, স্টাফ রিপোর্টার

    দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় এসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে এবং আল্লাহতালার রহমতে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশকে পুনর্গঠন করা। তবে এই পুনর্গঠন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীকে নিয়ে নয়; সকল দল-মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।
    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে কাছে পেয়ে সমাবেশ মাঠে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।
    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, “গত ১৫-১৬ বছরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী খুন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গায়েবি মামলায় জড়িয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
    তারেক রহমান বলেন, এই দমন-পীড়নের পরও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। “এটাই প্রমাণ করে—এই দেশের মানুষ আর অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না,” বলেন তিনি।
    প্রায় ২৬ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার, বিশেষ করে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। শুধু জাতীয় নির্বাচনেই নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে। “যারা কথা বলার চেষ্টা করেছে, তাদের অনেককে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, খুন-গুম করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
    তিনি বলেন, “আজ সময় এসেছে। যে অধিকার থেকে বাংলাদেশের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, আগামী ১২ তারিখ সেই অধিকার জনগণ প্রয়োগ করবে।”
    অতীতের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। “আগামী দিনে আবারও যদি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করি, তাহলে আমাদের প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। কিন্তু তা করতে হবে সবাইকে নিয়ে—দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে,” বলেন তিনি।
    তিনি আরও বলেন, “যাদের কাছে মানুষের মূল্যায়ন নেই, আত্মসম্মান নেই—তাদের হাতে দেশ কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না।”
    নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী—অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক। “এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো পরিকল্পনাই সফল হতে পারে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া কিংবা পুনর্গঠন—কোনোটাই সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
    তিনি বলেন, এ কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে নারী সমাজ শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
    খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমীর এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী এস এম মনিরুর হাসান বাপ্পী।
    এছাড়াও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনের প্রার্থী সোমনাথ দে প্রমুখ।
    এর আগে সোমবার সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
    উল্লেখ্য, এটি খুলনায় তারেক রহমানের চতুর্থ সফর। সবশেষ ২০০৪ সালে তিনি খুলনায় এসেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক পর তার আগমন খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    রাজাপুরে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    মো. নাঈম হাসান ঈমন
    ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি-১

    (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম মৌখিক বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় তার নেতৃত্বে একদল জামায়াত সমর্থিত নারী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় যান।

    এ সময় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের পক্ষে প্রয়াত সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন আকনের বড় বোন মাজেদা বেগম প্রথমে তাদের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাসান, জেলা যুবদলের সদস্য রাসেল, মো. নাজমুল হক চমন, নাসিম, সাইফুলসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা সেখানে গিয়ে প্রচারে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    জামায়াতের নারী নেত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, তারা ওই স্থান থেকে সরে পাশের এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাতে চাইলে সেখানেও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বলেন, “সোহেল ভাইয়ের এলাকায় এসব প্রচার চলবে না।” খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুক্তাগড় ইউনিয়নের আমির আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে না গিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তারা জানান, পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

    জামায়াতের নারী নেত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তিন থেকে চার দিন আগে একই এলাকায় প্রচার চালাতে গিয়ে তারা বাধার মুখে পড়ে ফিরে আসেন।
    সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. কবির হোসেন, উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সেক্রেটারি মোসা. সাহিদা বেগম ও সহ-সেক্রেটারি মারিয়ম বেগম। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ড. ফয়জুল হক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পিংড়ি এলাকায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা বাধা প্রদান করে আসছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আজ তারা আমাদের বোনদের রাস্তায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শবাদী সংগঠন। আমাদের বোনদের দাওয়াতি কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে ৪৩ শতাংশ নারী সদস্য যুক্ত রয়েছে—সে দলটির নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যারা নারীদের হেনস্তা করছে, স্কার্ফ টেনে ধরছে ও আক্রমণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার জানা মতে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের প্রার্থীর বয়স অল্প এবং তিনি রাজনীতির অনেক বিষয় এখনো বুঝেন না। প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মাদ্রাসায় পড়ছেন এবং তার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তার ভেতরে জঙ্গি ভাব রয়েছে।